• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১৪ মার্চ ২০১৯ ১৯:৩৫:৪০
  • ১৪ মার্চ ২০১৯ ১৯:৩৫:৪০
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

‘ভারত আনে ৬ ডলারে, আমরা কেন ১০ ডলারে?’

ছবি : সংগৃহীত

গ্যাসের দাম প্রায় দ্বিগুণ বাড়ানোর প্রস্তাব করে গণশুনানি স্থগিত চেয়ে করা রিটের শুনানি বুধবার শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ৩১ মার্চ দিন ঠিক করেছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় গণশুনানিকে তামাশা (মকট্রায়াল) বলে মন্তব্য করেন রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

তিনি বলেন, ‘তিতাস কিংবা আরও যেসব সংস্থা আছে তারা কোথাও দাম বাড়ানোর কারণ উলে­খ করেনি। কেন তারা দাম বাড়াতে চাইছে তা বলেনি। এমনকি দাম বাড়ানোর কোনো যৌক্তিকতাও উল্লেখ করেনি। তারা সেখানে ১০ ডলার করে গ্যাস আমদানির কথা বলেছেন। এ সময় আদালত প্রশ্ন করেন যেখানে ভারত বাইরে থেকে ৬ ডলারে গ্যাস আমদানি করে সেখানে আমরা কেন ১০ ডলারে গ্যাস আমদানি করছি।’

আদালতের এ প্রশ্নের কোনো উত্তর পেট্রোবাংলা কিংবা এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের পক্ষে কেউ দিতে পারেনি।

এর আগে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আয়োজিত গণশুনানি স্থগিত চেয়ে কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) পক্ষে হাইকোর্টে আবেদন করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, পেট্রোবাংলার পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) পক্ষে এফএম মেসবাহ উদ্দিন শুনানি করেন।

পরে ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত বছর ১৬ অক্টোবর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন গ্যাসের সঞ্চালন ও বিতরণ ফি বৃদ্ধি করে আদেশ দিয়েছিল। এ আদেশের বিরুদ্ধে আমরা রিট দায়ের করেছিলাম।’

ওই রিটে আদালত রুল জারি করেছিলেন। ওই রুল পেন্ডিং থাকা অবস্থায় তারা আবারও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব করে গণশুনানির জন্য নোটিশ প্রদান করেন। ওই নোটিশের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে আমরা আবার একটি আবেদন করেছি। ওই আবেদনের শুনানি শেষ হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আবেদনের পক্ষে আমরা বক্তব্য তুলে ধরে বলেছি, ২০১০ সালের আইন অনুযায়ী বিতরণ ও সঞ্চালন সংক্রান্ত কতগুলো প্রোবিধান আছে, সেই প্রোবিধানমালায় সুনির্দিষ্ট কতগুলো প্রসিডিউরের কথা বলা আছে।’

গ্যাস বিতরণ বা সঞ্চালনের জন্য যেসব সংস্থা কাজ করছে তারা যদি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি বা পরিবর্তনের দাবি করে কোনো প্রস্তাব দেয়, তাহলে ওই প্রস্তাব তারা কিসের ভিত্তিতে দিয়েছে তার একটা যৌক্তিকতা সেখানে থাকতে হবে।

এমনকি আইনে এটাও পরিষ্কার করে বলা আছে যে, ওই যৌক্তিকতা মূল্যায়ন করে দেখবে বিইআরসির কমিটি। মূল্যায়ন কমিটি দেখার পরে ওই প্রস্তাবের যৌক্তিকতার বিষয়ে তাদের নিজস্ব একটা সিদ্ধান্ত থাকবে। কমিটি যদি যৌক্তিক মনে করে তাহলে তারা নোটিশ দেবে গণশুনানির জন্য।

ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘অথচ ১১ মার্চ তারা যখন গণশুনানি শুরু করল তখন এই দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা প্রোবিধান ৬(৩) অনুযায়ী তাদের আগেই উপস্থাপনের কথা ছিল। সেটা তারা উপস্থাপন করেনি। ফলে এই শুনানির পুরো প্রক্রিয়াটাই বেআইনি।’

তিনি বলেন, ‘এছাড়া আইন অনুযায়ী এক অর্থবছরে গ্যাসের দাম দু’বার বৃদ্ধি করা যাবে না। গত ১৬ অক্টোবর দাম বৃদ্ধির পর আবার কিভাবে ১১ মার্চ ২০১৯-এ গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির জন্য গণশুনানি করতে পারে। আমরা বলছি, কোনো একটি বিশেষ মহলকে সুবিধা দেয়ার জন্য এ ধরনের মকট্রায়াল চালানো হচ্ছে।’

সম্প্রতি গ্যাসের বিতরণ কোম্পানিগুলো গ্রাহক পর্যায়ে একচুলা ৭৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৩৫০ টাকা, দুই চুলার ৮শ’ থেকে বাড়িয়ে ১৪৪০ টাকা করার প্রস্তাব করেছে। এছাড়া মিটারযুক্ত গ্যাসের ক্ষেত্রে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম প্রিপেইড মিটারে ৯ টাকা ১০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৬ টাকা ৪১ পয়সা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

গ্যাস ভারত বাংলাদেশ

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0193 seconds.