• বাংলা ডেস্ক
  • ১০ মার্চ ২০১৯ ১৫:১০:৩৮
  • ১০ মার্চ ২০১৯ ১৫:১০:৩৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

বিয়ে করতে এসে জেলে গেলো বর!

পুলিশের গাড়িতে পাত্র দেবদীপ পাল। ছবি : সংগৃহীত

আত্মীয়স্বজনে মুখরিত বিয়েবাড়ি। এর মধ্যেই সেখানে এসে পৌঁছালো বর। এ সময় তাকে ঘিরেই ভিড় করেন ‘আত্মীয়রা’। রব উঠে, ‘মেয়েবাড়ির আচার মেনে বরের পোশাক বদলাতে হবে।’ সেই রীতি মেনে পোশাক বদলে বর ও তার বাবাকে তোলা হয় একটি গাড়িতে। পরে সেই গাড়ি পরে গিয়ে পৌঁছায় থানায়। তারপর সোজা জেলে পাঠানো হয় বরকে।

ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের পুরুলিয়ায়। ভারতের শীর্ষস্থানীয় এক গণমাধ্যম জানিয়েছে, পাত্রীর পরিবারের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পাত্র এবং তার বাবাকে গ্রেপ্তার করে পুরুলিয়ার বরাবাজার থানার পুলিশ। বোঝা গেল, আত্মীয়ের বেশে বিয়েবাড়িতে হাজির ছিলেন পুলিশকর্মীরাই। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণার অভিযোগ ছিল।

বর দেবদীপ পালের বাড়ি পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসার বামুনাড়ায়। গতকাল শনিবার তাকে সাতদিন পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন পুরুলিয়া আদালতের বিচারক। তবে বরের বাবা তপন পালের জামিন মঞ্জুর করেছেন বিচারক।

পাত্রীর বাবা বরাবাজারের একজন ব্যবসায়ী। তিনি জানিয়েছেন, একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের ঘটকালির ওয়েবসাইটে মেয়ের জন্য পাত্রের সন্ধান করছিলেন। ২০১৮ সালের জুলাইয়ে দেবদীপের পরিবার তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। খোঁজ নিতে দুর্গাপুরে পাত্রের বাড়িতেও গিয়েছিলেন তারা।

পাত্রীর বাবা আরও বলেন, ‘ওদের ব্যবহারে মুগ্ধ হয়েছিলাম। ছেলে দুবাইয়ে মোটা মাইনের চাকরি করে। ইন্ডিয়ান স্কুল অব মাইনস-এ পড়েছে। বিয়ের কথা পাকা হয়ে যায়।’ বিয়ের দিন স্থির হয় চলতি বছরের ৮ মার্চ।

বিয়ের ঠিক আগের দিন গত বৃহস্পতিবার পাত্রীর বাড়িতে দাদাকে নিয়ে হাজির হন উত্তর চব্বিশ পরগনার ইছাপুরের এক যুবতী। তিনি দাবি করেন, তার সঙ্গে দেবদীপের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। দিন কয়েক আগে তিনি খবর পান, দেবদীপ বিয়ে করছেন। যুবতী দাবি করেন, চেপে ধরায় দেবদীপ তাকে বলেন, বাড়ির চাপে বিয়ে করছেন। অল্পদিনের মধ্যেই বিবাহ বিচ্ছেদ চাইবেন।

ইছাপুরের মেয়েটির কাছে পাত্রীর পরিবারের ফোন নম্বর ছিল না। শুধু মেয়ের বাবার নাম আর ‘বরাবাজার’ কথাটা জানতেন।

ওই মেয়েটির দাদা বলেন, ‘দেবদীপকে বিশ্বাস করে আমার বোন ভুল করেছিল। কিন্তু আর একটা মেয়ে যাতে না ঠকে, সে কথা ভেবে বরাবাজারে চলে আসি।’

পরে ইছাপুরের ওই যুবতীকে নিয়ে থানায় যান পাত্রীর বাবা। সম্পর্কের ‘প্রমাণ’ হিসেবে পুলিশের কাছে দেবদীপের কথাবার্তার রেকর্ড ও কিছু ছবি জমা দেন সেই মেয়েটি। দেবদীপ ও তার বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন পাত্রীর বাবা।

এর পরেই পাত্রীর বাবা ফোনে আমন্ত্রিতদের জানিয়ে দেন, ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের মৃত্যুর জন্য বিয়ে হচ্ছে না। পাত্রপক্ষকে কিছু জানানো হয়নি।

এদিকে শুক্রবার দুপুরে বরযাত্রী নিয়ে পাত্র এসে পৌঁছান বরাবাজারে। দেবদীপ ও তার বাবাকে পুলিশ কী অভিযোগে তুলে নিয়ে গেছে তা জানিয়ে বরযাত্রীদের রওনা করিয়ে দেওয়া হয় ফিরতি পথে। বামুনাড়ার ভৈরবতলা এলাকায় দেবদীপদের বাড়ি। পড়শিদের একাংশ জানিয়েছেন, তারা বিয়ের বিষয়টি জানতেন না। কেউ নিমন্ত্রণও পাননি।

থানায় গিয়ে এদিন দেখা যায়, গরাদের পাশে বরের টোপর গড়াগড়ি খাচ্ছে। আদালতে তোলার সময়ে দেবদীপ কথা বলতে চাননি। শুধু তার বাবা তপনবাবু বলেন, ‘ছেলের সঙ্গে কারো সম্পর্ক আছে বলে জানতাম না।’

এদিন ইছাপুরের যুবতীর বয়ান লিপিবদ্ধ করেছে পুলিশ। যার সঙ্গে দেবদীপের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল, সেই মেয়েটি বলেন, ‘ভাগ্যিস, কথাটা আগে জানতে পারলাম!’

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বর জেল

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0196 seconds.