• বিদেশ ডেস্ক
  • ০৯ মার্চ ২০১৯ ২০:১২:১৪
  • ০৯ মার্চ ২০১৯ ২০:১৭:১৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

৬২ বছর স্বামীর মূকাভিনয় : জাল খবরে মাত অন্তর্জাল

এই ছবি দুটিই ব্যবহার করা হচ্ছে কথিত সংবাদটিতে।

গত চারদিন একটি ‘খবর’ নিয়ে বেশ মাতামাতিই করছেন সংবাদমাধ্যম ও পাঠকরা। বলা হচ্ছে, ৬২ বছরের দাম্পত্য জীবনের পুরোটা সময় ধরে স্ত্রীর সঙ্গে মূক-বধিরের অভিনয় করে গেছেন এক স্বামী। শেষমেশ ধরা পড়তে হয়েছে তাকে এবং তার বিরুদ্ধে বিচ্ছেদের মামলাও করেছেন স্ত্রী।

ঘটনাটির স্থানের কথা বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের কানেটিকাটের ওয়াটারবারি। স্বামীর নাম ব্যারি ডাওসন, আর স্ত্রীর নাম ডরোথি।

কিন্তু এটি আসলে একটি ভুয়া খবর। সংবাদের নামে এই গুজবটি প্রথম তৈরি করে কানাডার একটি বিনোদনবিষয়ক ওয়েবসাইট। ওয়ার্ল্ড নিউজ ডেইলি রিপোর্ট নামের এই ওয়েবসাইটটি মূলত বিচিত্র অপরাধ, যৌনতা বিষয়ে কল্পিত কাহিনী প্রকাশ করে থাকে।

ওয়েবসাইটটির একেবারে নিচে সে সংক্রান্ত ঘোষণাও দেওয়া আছে। তার পরেও বিশ্বজুড়ে এটি ভাইরাল হয়েছে। বাংলাদেশেও, বাংলা ভাষাতেও এটি ব্যাপক প্রচারিত হয়েছে।

প্রকৃত তথ্য হলো, ওই নারী ও পুরুষ বহু বছর সংসার করার পর বিচ্ছেদ ঘটাতে যাচ্ছেন। সেটিও ৬২ বছরের চেয়ে বেশি। তারা প্রায় ৬৭ বছর ধরে দারুণ এক জুটি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাদের নামও ব্যারি ডাওসন বা ডরোথি নয়।

স্বামীর নাম বার্ট হ্যান্ডেলসম্যান, বয়স ৮৯ বয়স। তিনি একজন ধনকুবের। আবাসন ব্যবসায়তার প্রায় ছয় হাজার ৩০০ কোটি চাকার সম্পদ রয়েছে। আর স্ত্রীর নাম লুসিলে হ্যান্ডেলসম্যান। বয়স ৮৮ বছর।

৬৭ বছর পর লুসিলে অভিযোগ তুলেছেন, তার স্বামী অন্য নারীতে মজেছেন। তার সঙ্গে ভাল আচরণও করছেন না।

কিন্তু বার্ট তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তার কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতে তিন সন্তানকে নিয়ে তার স্ত্রী এই বিচ্ছেদের মামলা সাজিয়েছেন।

এই অভিযোগের পর তার তিন সন্তানও প্রায় ৮০ লাখ ডলার দাবি করে মামলা করেছেন।

অথচ ওয়ার্ল্ড নিউজ ডেইলি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২২ বছর বয়সে ডরোথিকে বিয়ে করেন ব্যারি ডাওসন। বিয়ের পর থেকেই ব্যারি ডাওসনকে বোবা ও বধিরই ভেবে এসেছেন ডরোথি। এ অবস্থায় স্বামীর সাথে কথাবার্তা চালিয়ে যেতে ইশারা ভাষা শিখতে শুরু করেন ডরোথি। যদিও সেই ভাষা শিখতে ডরোথির দুই বছরেরও বেশি সময় লেগেছিল।

তবে ডরোথি বলেন, ‘আমি যখন ইশারায় কথা বলার ভাষা ভালভাবে রপ্ত করে ফেলেছিলাম তখনই আমার স্বামী (ব্যারি ডাওসন) ইশারায় জবাব দেয়া বন্ধ করে দেন। এরপর হঠাৎ একদিন ইউটিউবে ব্যারি ডাওসনের একটা ভিডিও দেখতে পাই। যেখানে সে একটা বারে চ্যারিটির জন্য গান গাইছিল। ওটা দেখার পর আমার সব ভুল ভেঙে যায়।’ 

শুধু স্ত্রী নন, ব্যারি ও ডরোথির সন্তানরাও জানতেন না তাদের বাবা কথা বলতে ও শুনতে পারেন। তাদের কাছে ব্যারিকে বোবাই মনে হয়েছে এতদিন।

স্বামী ব্যারির এমন অমানবিক আচরণ কিছুতেই মানতে পারছেন না ডরোথি। এ কারণে বিবাহবিচ্ছেদের পাশাপাশি মানসিক অত্যাচার ও চাপ তৈরি করার জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণও দাবি করেছেন ডরোথি।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0183 seconds.