• ০৫ মার্চ ২০১৯ ২২:২৭:৩৮
  • ০৫ মার্চ ২০১৯ ২২:২৭:৩৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

‘ট্রলের’ এই আবহাওয়ায় হতে পারে বড় অর্থনৈতিক ক্ষতি!

ছবি: বাংলা

আবহাওয়াগত কারণে জনজীবনে খানিকটা পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। এতে সকালে সোয়েটার, দুপুরে টিশার্ট, বিকালে রেইনকোট আর রাতে কম্বল গায়ে দিতে হয় বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে এনিয়ে চলছে ট্রল। অনেকে আবার বলছেন, ‘আজকাল আবহাওয়াও ফ্যাশন -শো খুলে বসেছে’।

বোঝাই যাচ্ছে দিন দিন অচেনা রূপ ধারণ করছে প্রকৃতি। এই গরম, এই বৃষ্টি, কখনো আবার শীতের ছোঁয়া। এভাবেই চলছে প্রকৃতির লুকোচুরি। প্রকৃতির এ আচরণ নিয়ে আবহাওয়া ও জলবায়ুবিদেরা দিচ্ছেন ভয়াবহ তথ্য। এর কারণ জলবায়ু পরিবরর্তন বা বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব। সেই সঙ্গে আগাম সংকেত দিচ্ছে বড় কোন প্রাকৃতিব বিপর্যয়ের।

জলবায়ুবিদেরা জানান, আবহাওয়া-জলবায়ুর তথ্য-উপাত্ত, ঊর্ধ্বাকাশের আবহাওয়ার বিন্যাস, বায়ুমন্ডলের বিভিন্ন স্তরের বিশ্লেষিত আবহাওয়া মানচিত্র, জলবায়ু মডেল, এল-নিনো এবং লা-নিনা অবস্থা ইত্যাদি উপাদান আলোচনা-পর্যালোচনা করে পূর্বাভাসে দেখা যাচ্ছে প্রতিনিয়ত অতি বৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা, খরা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়ে বড় ক্ষতির মুখে বাংলাদেশের কৃষি খাত। অতি বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি যেমন হচ্ছে আবার খরার কারণে প্রতিবছর নষ্ট হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ লাখ হেক্টর জমির ফসল। বেশিরভাগ রবি ফসলেরই স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়ে ফলনের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ছে। শীত মৌসুমে উষ্ণ প্রবাহ দেখা দিলে বেশি সংবেদনশীল ফসল যেমন গমের ফলন খুব কমে যায় এবং গম উৎপাদন অলাভজনক হয়।

বুয়েটের জলবায়ু বিষয়ক গবেষক ড. সাইফুল ইসলাম বলেন, 'স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা ব্যতিক্রম আবহাওয়া এখন চলছে। কারণ বৃষ্টিপাত আগেই শুরু হয়েছে। যা আরো পরে হওয়ার কথা। আর শীতকালের সময়ও তেমন ছিল না। যা কৃষিখাতে প্রভাব ফেলবে। কারণ যখন ধানের মতো ফসল ফলানোর সময় হবে তখন বৃষ্টির প্রয়োজন হবে কিন্তু এখন বৃষ্টি হয়ে যাওয়াতে পরে তা হবে না। এতে ফসল উৎপাদনের সময় এবং ঋতুকাল দীর্ঘ হবে। তাপমাত্রা ও বৃষ্টির প্যাটার্ন পরিবর্তনের কারণে প্রভাব ফেলছে। প্রকৃতিতে এ অস্থিরতার কারণ জলবায়ু পরিবর্তন। এতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন ধরণের প্রভাব শুরু হয়ে গেছে। এজন্য এ অঞ্চলে প্রাকৃতিক বিপর্যয় যেমন- এবার বেশি বন্যা ও বছর শেষের দিকে শিলাবৃষ্টি, ঝড় ও খরা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।'

জলবায়ুবিদ ড. সাইফুল ইসলাম জানান, 'সামনে ফলের মৌসুম আসছে, তখন আমের মুকুল আসবে ও আমন ধান আবাদের সময় আসব। আর তখন যদি বজ্রপাত ও অসময়ের বৃষ্টি কৃষি অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।'

কৃষি ও পরিবেশবিদেরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে। যেমন বৃষ্টির ধরণ, সমুদ্রের পানি বৃদ্ধি, প্রচন্ড তাপদাহ ও খরা। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে জলবায়ুগত পরিবর্তনে কৃষি মৌসুমে তীব্র খরা হচ্ছে। আবার কোনো মৌসুমে অতিবৃষ্টি বা ঘন ঘন বন্যা হচ্ছে। যা কৃষিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।  আর আবহাওয়ার এই অসংলগ্ন আচরণে কৃষি খাতকে ইতিমধ্যে ধকল পোহাতে হচ্ছে। হয়তো এখন সেভাবে তা প্রকাশ পাচ্ছে না। তবে অদূর ভবিষতে দেশে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কৃষি আবহাওয়াবিদ শামীম হাসান ভূইয়া জানান, গত কয়েক দিন তাপমাত্র কমার প্রভাব আগামী দু’একদিনের মধ্যে কমে বাড়তে শুরু করতে পারে। এখনকার ঠান্ডাটা পড়ছে তা ফলের ওপর প্রভাব ফেলছে। এবার আমে প্রচুর মুকুল এসেছিল। কারণ আমে পানি থাকলে ছত্রাক আক্রান্ত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। আর বৃষ্টিতে উত্তর বঙ্গের কিছু জেলায় বৃষ্টিতে আলু উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে। কারণ জমিতে পানি জমে থাকলে আলু পঁচে যায়। যার কিছু ঘটনা আমরা জেনেছি ইতিমধ্যে। সবজি ও ধানে কিছু ক্ষতি হয়ে থাকে এই আবহাওয়াতে। শিলাবৃষ্টিতে ফসলের কিছু ক্ষতি হয়েছে। তবে তেমন ক্ষতি না হলেও আগামীতে যদি আবহাওয়ার এই ধারা অব্যাহত থাকে তবে তা ফসল উৎপাদনে ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।

প্রকৃতির এই বিরুপ প্রভাব মোকাবিলা করে খাদ্যনিরাপত্তার স্বার্থে ফসল উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনতে হবে। তিনি বলেন, আবহাওয়াতে যে পরিবর্তন আসছে তা মোকাবিলা করার উপযোগী কৃষিব্যবস্থাপনা গড়ে তুলার বিকল্প নেই। কারণ আগামীতে জলবায়ু পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।

 

 

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0199 seconds.