• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ১৯:৪৫:১৩
  • ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ১৯:৪৫:১৩
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

‘অমুসলিমরা খারাপ’ শেখাচ্ছে পাঠ্যবই

ছবি : সংগৃহীত

অমুসলিমদেরকে মিথ্যাবাদী, সম্পদ আত্মসাৎকারী এমনকি ‘পশুর চেয়ে অধম’ হিসেবে শিক্ষার্থীদের কাছে পরিচয় করিয়ে দেয়া হচ্ছে। যেটা নিতান্তই আপত্তিকর এবং বিব্রতকর। পঞ্চম শ্রেণির ‘ইসলাম ধর্ম ও নৈতিকতা শিক্ষা’ বইয়ের ১৬ ও ১৭ নম্বর পৃষ্ঠায় এভাবেই পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় অমুসলিমদেরকে।

এদিকে বিষয়টি নজরে এলে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, এটি মোটেও ভালো হয়নি। এগুলো পাল্টাতে হবে।’

চলতি বছর যে পাঠ্যবই বিতরণ করা হয়েছে তাতে এই বর্ণনা উল্লেখ আছে। জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড এনসিটিবি এই বই চূড়ান্ত করেছে। বইটি লেখা ও সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন মুহাম্মদ তমীজুদ্দিন, মুহাম্মদ কুরবার আলী, মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন ও মেহেরুন্নেসা।

‘আখেরাতে বিশ্বাসে নৈতিক উপকার’ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে এতসব কথা বলা হয়েছে অমুসলিমদের বিষয়ে।

এতে বলা হয় ঃ

ইসলাম বলে: ‘ইসলাম বলে আল্লাহর পথে গরিবদের যাকাত দাও।’

জবাবে সে (অমুসলিম) বলে: যাকাত দিতে গেলে আমার সম্পত্তি কমে যাবে। আমার অর্থের ওপর আমি সুদ নেব।

ইসলাম বলে: সবসময় সত্য কথা বলো। আর মিথ্যা থেকে বিরত থাকো।

উত্তরে সে (অমুসলিম) বলে: এমন সত্য গ্রহণ করে আমি কী করব? যাতে আমার কেবল ক্ষতিই হবে, লাভ হবে না। আর এমন মিথ্যা থেকে আমি বিরত থাকব কেন? যা আমার জন্য লাভজনক হবে। যাতে কোনো দুর্নামের ভয় পর্যন্ত নেই।

এক জনশূন্য রাস্তা অতিক্রম করতে করতে সে (একজন ব্যক্তি) দেখলো একটি মূল্যবান বস্তু। এ ক্ষেত্রে ইসলাম এবং অমুসলিমের অবস্থান কী হবে সেখানেও আছে আপত্তিকর উপস্থাপনা।

এতে বলা হয়, ‘ইসলাম বলে এ তোমার সম্পদ নয়। কিছুতেই তুমি এই জিনিস গ্রহণ করতে পার না।’

সে (অমুসলিম) উত্তর দেয়, ‘আপনা আপনি যে জিনিস আসে তা কেন ছেড়ে দেব? এখানে তো এমন কেউ নেই যে দেখে পুলিশকে খবর দেবে বা আদালতে সাক্ষ্য দেবে। এরপর কেন আমি কুড়িয়ে পাওয়া অর্থ থেকে লাভবান হবো না।’

শেষে বলা হয়েছে, ‘সোজা কথায় জীবনের পথে প্রত্যেক পদক্ষেপে ইসলাম তাকে এক বিশেষ পথে চলার নির্দেশ দেবে। আর সে তার সম্পূর্ণ বিপরীত পথ অনুসরণ করে চলবে। কেননা ইসলামের প্রতিটি জিনিসের মূল্য নির্ধারিত হয় আখিরাতের ফলাফলের উপর। কিন্তু সে (অমুসলিম) ব্যক্তি প্রত্যেক ব্যাপারে চিন্তা করে ইহকালের ফলাফলের ওপর।’

অধ্যায়ের শেষে বলা হয়েছে, ‘কেন আখিরাতের ওপর ঈমান ব্যতীত মানুষ মুসলমান হতে পারে না তা সুষ্পষ্টভাবে বোঝা গেল। মুসলমান হওয়া তো দূরের কথা প্রকৃতপক্ষে আখিরাতকে অস্বীকার করে মানুষ পশুর চেয়েও নিম্নস্তরে চলে যায়।’

পুরো বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক। তিনি বলেন, ‘আসল মানুষ তৈরি করতে হলে কোন সম্প্রদায় বা ধর্মান্ধ হলে সেটা মনুষ্যবিরোধী কাজ।’

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘এই কথাগুলো ইসলাম পরিপন্থী। ইসলাম ধর্মের কোথাও অমুসলিমদের সম্পর্কে এ রকম কথা বলা নাই। ইসলাম সকল ধর্মের মানুষকে মর্যাদা দিয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘যারা এই কাজ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0198 seconds.