• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ১৭:৫৭:৪২
  • ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ১৭:৫৭:৪২
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

যে কারণে পালাতে চাচ্ছেন রোহিঙ্গা নারীরা

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা নারীরা অবৈধভাবে সাগর পথে মালেশিয়ার পাড়ি জমাচ্ছে। সম্প্রতিক কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপকূলে আশ্রয়শিবির ছেড়ে পালানো ৪৬ জন রোহিঙ্গা নারীকে উদ্ধার করেছে বিজিবি ও পুলিশ। বৃহস্পতিবার হতে রোববার পর্যন্ত মোট ৯২ জন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয় উপকূলীয় এলাকা থেকে।

আটককৃত নারীরদের বরাত দিয়ে প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ে করে সংসার পাতার আশায় তাঁরা সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার চিন্তা করেছিলেন। সেখানে অবস্থানরত রোহিঙ্গা যুবকদের সঙ্গে অনেকের বিয়ে ঠিক হয়ে আছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যাওয়ার খরচ বহন করছেন ওই যুবকেরাই।

আটকদের মধ্যে নারীরা ছাড়াও  ২৬ জন পুরুষ ও ২০ জন শিশু রয়েছে। উদ্ধার হওয়া নারীদের বয়স ১৩ থেকে ২২ এর মধ্যে। এছাড়া পাচারে সহায়তা করার অভিযোগে চারজন দালালকে আটক করেছে পুলিশ। এসব দালালরাই মূলত সমুদ্র পাড়ি দেয়ার জন্য রোহিঙ্গা নারীদের প্ররোচিত করছে।

উদ্ধার হওয়া নারীদের একজন উখিয়ার কুতুপালং শিবিরের তাহমিনা বেগম জানান, তাঁদের মিয়ানমারের রাখাইনের বাড়িতে ছিল মাছের খামার। সংসারে আয়-রোজগারও ছিল ভালো। সেই ঘরবাড়ি রেখে এখন ঠাঁই হয়েছে উখিয়ায় পাহাড়ের এই ঝুপড়ি ঘরে। বিভিন্ন এনজিও সংস্থার দেওয়া ত্রাণে চলছে পরিবার।

তিনি আরো বলেন ‘এর মধ্যে বয়সটাও বাড়ছে। বিয়ে তো করতে হবে। অনেক চিন্তা করে পরিবারের সিদ্ধান্তে মালয়েশিয়া যাওয়ার চিন্তা করি।’

মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত এক রোহিঙ্গা যুবকের সঙ্গে তাঁর বিয়ে ঠিক হয়ে আছে। ওই ছেলের পরিবারও কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরে বাস করে বলে জানান তিনি। তবে বিজিবির হাতে ধরা পড়ায় আপাতত বিয়ের স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না তাঁর।

তাদের মধ্যে আরো কয়েকজন নারী জানান, এখানে আশ্রয় শিবিরে বিয়ে করতে চাইলে বরপক্ষকে বড় অঙ্কের নগদ টাকা দিতে হচ্ছে। বেশির ভাগ পরিবারের সে সামর্থ্য নেই। সে তুলনায় মালয়েশিয়ায় বিয়ের বাজারে রোহিঙ্গা নারীদের চাহিদা রয়েছে। কারণ সে দেশের শ্রমবাজারের একটি অংশ মিয়ানমারের রোহিঙ্গা যুবকদের দখলে। রোহিঙ্গা পুরুষের তুলনায় সেখানে রয়েছে রোহিঙ্গা নারীর অভাব।

টেকনাফ ও উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের একাধিক দলনেতা (মাঝি) জানায়, কিছু সহজ-সরল রোহিঙ্গা নারী-পুরুষকে মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা বলে দালাল চক্রের সদস্যরা শিবির থেকে বের করছেন। আর অধিকাংশ নারী বিয়ের আশায় মালয়েশিয়া যাচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে।

এবিষয়ে টেকনাফ-২ অঞ্চলের বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আছাদুদ জামান চৌধুরী বলেন, হঠাৎ করে শিবির থেকে পালিয়ে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। তবে বিজিবি সতর্ক আছে এবং পরিস্থিতিতে কঠোরভাবে নজর রাখছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) টেকনাফের সাধারণ সম্পাদক এ বি এম আবুল হোসেন বলেন, রোহিঙ্গারা সব সময় সংকট তৈরি করে চলেছে। মানবিক চিন্তা করে বাংলাদেশে তাদের আশ্রয় দেওয়া হলেও তারা সব সময় এ দেশের আইনশৃঙ্খলা নষ্ট করার চিন্তাভাবনায় রয়েছে। এখনই শরণার্থী শিবির ছেড়ে পালানোর চেষ্টা রোধ করতে হবে। অন্যথায় তাদের দেখাদেখি স্থানীয়রা এ বিপদে পা বাড়াতে পারে।

বাংলা/এনএস

 

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0212 seconds.