• বিদেশ ডেস্ক
  • ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ২০:০৭:০৭
  • ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ২০:০৭:০৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

উইঘুরদের বন্দী শিবির বন্ধ করার আহবান তুরস্কের

ছবি : সংগৃহীত

চীনের সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠী উইঘুরদের আটক করে রাখার জন্য নির্মিত বন্দী শিবির বন্ধ করে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক।  পাশাপাশি তুর্কি এই জাতিগোষ্ঠীর প্রতি চীনের আচরণকে মানবতার প্রতি লজ্জা বলেও এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে দেশটি।

শনিবার তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হামি অকসয় এক বিবৃতিতে জানান, চীন ১০ লাখের বেশি উইঘুর মুসলমানদের নির্বিচারে আটক করে রেখেছে।  পশ্চিম চীনের শিনজিয়াংয়ে বসবাস করা তুর্কি এই মুসলিম জনগোষ্ঠী ব্যাপক চাপের মধ্যে রয়েছে।  তাদেরকে চীনা সংস্কৃতি আত্তীকরণে বাধ্য করা হচ্ছে।

অকসয় বলেন, ‘এটা এখন আর কোন গোপন বিষয় নয় যে, ১০ লাখের বেশি উইঘুর তুর্কি নির্বিচারে গ্রেফতারের শিকার হচ্ছে। বন্দী শিবির এবং কারাগারে তাদের নির্যাতনসহ রাজনৈতিকভাবে মগজ ধোলাই করা হচ্ছে। উইঘুরদের মৌলিক মানবাধিকারের প্রতি সম্মান জানানো এবং বন্দী শিবিরগুলো বন্ধ করে দেয়ার জন্য আমরা চীনা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানাচ্ছি। ’

অবশ্য একসময় তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান উইঘুরদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর জন্য চীনকে দায়ী করেছিলেন, কিন্তু পরবর্তীকালে তিনি তা ভুলে গিয়ে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন।   

উল্লেখ্য, চীনের শিংজিয়াং অঞ্চলে ১ কোটির মত উইঘুর মুসলিম বাস করেন।  এই জনগোষ্ঠী শিনজিয়াং এর  জনসংখ্যার শতকরা ৪৫ভাগ।  দীর্ঘদিন ধরে তারা চীনা সরকারের সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।   

উইঘুরদের প্রতি চীনের অমানবিক আচরণ মাঝে মাঝেই বিশ্ব গণমাধ্যমের খবরে পরিণত হয়।  বিশেষ করে তাদের বিভিন্ন ধর্মীয় রীতিনীতি পালনে বাধা প্রদান করার ঘটনা যেমন, রমজান মাসে রোজা রাখার উপর নিষেধাজ্ঞা, হিজাব পরতে না দেয়া এবং নামাজ পড়ায় বাধা দেয়া ইত্যাদি।     

এর আগে গত বছরের আগস্টে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল ১০ লাখের বেশি উইঘুরকে বন্দী শিবিরে আটকে রাখার তথ্য প্রকাশ করে।  যদিও চীন সরকার সংখ্যালঘু এই  গোষ্ঠীর প্রতি নির্যাতনের বিষয়টি বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে।  এদিকে চীন গত মাসে নতুন একটি আইন পাস করে যাতে উইঘুর মুসলিমদের ধর্ম ইসলামকে চীনাকরণের কথা বলা হয়েছে।  পাশাপাশি আগামি পাঁচ বছরের মধ্যে সমাজতন্ত্রের সঙ্গে এটিকে সামঞ্জস্যপূর্ণ  করে তোলার কথা উল্লেখ করা হয়ে

কিন্তু বেশিরভাগ মুসলিম দেশই চীনের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে ব্যর্থ হয়েছে।

বাংলা/এফকে  

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0218 seconds.