• বাংলা ডেস্ক
  • ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ১৪:৫৮:২৫
  • ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ১৪:৫৮:২৫
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

নীরবতার ম্যাজিক

ছবি : সংগৃহীত

আমাদের অনেকেই চুপ করে থাকতে চান না। অবশ্য ইচ্ছে করলেও অনেকে নীরব থাকতেও পারেন না। কখনো কোনো কারণে এক মিনিট নীরবতা পালন করতে গিয়ে মনে হয় কয়েক মিনিট পার হয়ে গেছে! আসলে মূল কথা হলো, আমরা নীরব থাকাই ভুলে গেছি।

কিন্তু এ দীর্ঘ ট্রাফিক জ্যাম, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নানা রকমের স্মার্টফোনের দাপাদাপিতে বেসুরো ও বিশৃঙ্খল হয়ে ওঠা পৃথিবীতে নীরবতাই পারে মানব মনের বিস্ময়কর এক জানালা খুলে দিতে।

আমরা এমন এক সময়ে বসবাস করছি যেখানে নীরবতা প্রায় বিলুপ্ত। যদিও আমরা মনে করি, ‘নীরবতা হাজার কথার চেয়ে শক্তিশালী।’ কিন্তু এসব তো কথার কথা! আসলেই কি আমরা নীরবতার সুফল দিকগুলোর কথা কখনো বিবেচনা করেছি? কিংবা একটু তলিয়ে দেখেছি?

বিবিসি’র রেডিও ৪ এর ‘সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ বই’ নামক অনুষ্ঠানে দার্শনিক ও দুঃসাহসিক অভিযাত্রী আরলিং কাগে এ বিষয়ে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। আরলিং বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি যিনি বিশ্বের ‘তিন মেরু’ উত্তর মেরু, দক্ষিণ মেরু ও এভারেষ্টের চূড়া বিজয় করেছেন। তিনি নীরবতার শক্তি আবিষ্কার করেছেন। একজন মানুষের কেনো নীরবতা জরুরি সেসম্পর্কে তিনি এ অনুষ্ঠানে ব্যক্ত করেছেন। চলুন দেখে নিই নীরবতা সুফল।

অনুভব করতে নীরবতা

বিশ্বে এন্টার্টিকার চেয়ে নীরব জায়গা কোথাও দেখেননি বলে জানিয়েছেন আরলিং। এন্টার্টিকায় অভিযানে তিনি নিজের উপস্থিতিকে অনুভব করেছেন। আরলিং বলেন, ‘এন্টার্টিকা আমার দেখা সবচেয়ে নীরব জায়গা। আমি এই অভিযানের সময় বেশি সতর্ক ছিলাম ওই জায়গা ও আমার উপস্থিতি নিয়ে। আমি উদাসও ছিলাম না আবার বিরক্তবোধও হতাম না। আমি আমার প্রবাহমান জীবনকে নিয়ে বেশি ব্যস্ত ছিলাম।’ আরলিং বিশ্বাস করেন, যেকোনো পরিস্থিতেই নীরবতার মাধ্যমে আমরা আমাদের গভীর সত্তার সাথে মিলন ঘটাতে সক্ষম।

চিন্তা করার সময় দেয় নীরবতা

আরলিং বলেন, নীরবতা আমাদের চিন্তা করার নতুন দিক উন্মোচন করে। বিজ্ঞানও তার এই দার্শনিক তত্ত্বের সত্যতা প্রমাণ করেছে। ২০১৩ সালে ফ্রনটিয়ার্স জার্নাল মানব স্নায়ুতন্ত্রের উপর একটি লেখায় প্রকাশ করে, যখন মস্তিস্ক বিশ্রামে থাকে তখন তা অন্তর্গত ও বহরিাগত তথ্য বিশ্লেষণ করতে থাকে। সুতরাং নীরবতা ও মস্তিস্কের মাধ্যমে আমরা সৃজনশীল চিন্তা করতে সক্ষম। শুধু তা-ই নয়, গবেষণায় দেখা গেছে, যদি কোনো ধরনের শব্দের উদ্দিপনা না থাকে তাহলেও আমাদের মস্তিস্ক কার্যকর ও গতিশীল থাকে।

নীরবতা ও মস্তিস্কের বিশ্রাম আমাদের সৃজনশীল চিন্তা ও গুরুত্বপূর্ণ ভাবনার চাবিকাঠি হতে পারে।

নীরবতা কথপোকথনের শক্তিশালী হাতিয়ার

বিখ্যাত রোমান বক্তা সিসেরো বলেছেন, নীরবতা কথোপকথনের এক মহান শিল্প। অন্যদিকে জগৎ বিখ্যাত চিত্রশিল্পী লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি বলেছেন, নীরবতা ব্যতীত অন্য কোনো কিছুই পাণ্ডিত্বকে আরো শক্তিশালী করতে পারে না।

নীরবতার মাধ্যমে আমরা অন্যকে তাদের মতামত প্রকাশ করার সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে পারি। এর মাধ্যমে আমাদের পরস্পর সম্পর্কেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

মস্তিস্কের বিন্যাসে নীরবতা

২০১৩ সালে জীব বিজ্ঞানী ইমক কারস্টে মস্তিস্কে শব্দের প্রভাব পরীক্ষা করেছেন। আশ্চর্যজনকভাবে শব্দের কোনো প্রভাব পাননি তিনি। অন্যদিকে দৈনিক ২ ঘণ্টা নীরব থাকলে মস্তিস্কের হিপ্পোক্যাম্পাস নামের অংশকে বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। যা আমাদের স্মৃতি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিষেধক নীরবতা

কি-বোর্ড এবং পর্দার শব্দ একধরনের আসক্তি বলে সতর্ক করেছেন আরলিং। আমরা সারাদিন স্মার্টফোন নিয়ে ঘাটাঘাটি করি একধরনের প্রশান্তির আশায়। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এটা মোটেও আমাদের প্রশান্তির কারণ হতে পারে না। অপরদিকে নীরবতা আমাদের দায়িত্ব বা কাজের গভীরে যেতে সহায়তা করে। নীরবতাই পারে এসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দুরন্তপনা থেকে আমাদের দূরে রাখতে।

বিষন্নতা থেকে মুক্তিতে নীরবতা

বিখ্যাত ফ্লরেন্স নাইট এঙ্গেল বলেছেন, অপ্রয়োজনীয় শব্দ হচ্ছে যত্নের নিষ্ঠুর অনুপস্থিতি যা অসুস্থ ও সুস্থ উভয়কে ক্ষতিগ্রস্থ করে। সুস্থতাপ্রাপ্ত মানুষের জন্য শব্দ বিষন্নতা ও ঘুমহীনতার কাজ করে।

অপরদিকে নীরবতা সম্পূর্ণ তার বিপরীত। নীরবতা দুশ্চিন্তা থেকে উপশম দিতে পারে। হার্ট জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ২ মিনিটের নীরবতা আমাদের বিশ্রামদায়ক সঙ্গীতের চেয়েও বেশি শান্ত ও বিশ্রামের অনুভূতি দিতে পারে।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

নীরবতা

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0705 seconds.