• ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ২০:৪৮:২১
  • ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ২০:৪৮:২১
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

পারফর্ম করেই দলে আসতে চান নিহাদ

নিহাদুজ্জামান নিহাদ। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ দলের স্পিন ডিপার্টমেন্টের কথা বললেই প্রথমে উঠে আসবে সাকিব, মিরাজদের কথা। এছাড়া অপু, তাইজুল, নাঈমরা জায়গা পায় প্রতিপক্ষ আর কন্ডিশন বিবেচনায়। হাতে গোনা এই কয়জন ছাড়া এই মুহূর্তে বলার মতো তেমন কোন বিশেষজ্ঞ স্পিনার নেই বললেই চলে। আর এদের কেউ ক্রিকেটের চির শত্রু ইঞ্জুরীর থাবায় পড়লে দল স্বভাবতই স্পিনার সংকটে পড়বে।

তাই ক্রিকেট বোর্ডও মরিয়া হয়ে আছে দলের জন্য একজন বিশেষজ্ঞ রিজার্ভ স্পিনারের খোঁজে। আর বোর্ডের রিজার্ভ স্পিনারের জায়গাটি অবলীলায় পেতে পারে লেফট-আর্ম অর্থোডক্স স্পিনার নিহাদুজ্জামান নিহাদ। মুখের কথায় নয়, নিহাদ তার পার্ফরম্যান্স দিয়েই এমনটা দাবি করতে পারেন।

নিহাদের ক্রিকেটে আসার গল্পটা মোটেও সুখকর ছিল না। ২০০৯-তে সর্বপ্রথম অনুর্ধ্ব-১৪ খেলার সময়ই পরিবার থেকে জানানো হয়েছিল ‘ক্রিকেট খেলা যাবে না’। কারণ পরিবারের সবাই উচ্চ শিক্ষিত হওয়ায় তারাও চাইতেন নিহাদও পড়ালেখায় মনোনিবেশ করুক। তাছাড়া নিহাদও ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র।

কিন্তু ক্রিকেট যার রক্তে মিশে আছে সে কি ক্রিকেট ছেড়ে বেশি দূরে দূরে থাকতে পারে, পারেনি নিহাদও। তাই ২০১১-তে আবারো স্বরুপে ফিরেছে অনুর্ধ্ব-১৬ দলের মাধ্যমে। তার ঠিক পরের বছরই অনুর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে সুযোগ পেয়েছিলেন শিলিগুড়ি ট্যুরে।

এবার আপনাদের সামনে নিহাদের ক্যারিয়ারের বিস্তারিত তুলে ধরার চেষ্টা করবো। অনুর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে নিহাদের অভিষেক হয় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০১৩-তে। এর পরের বছর অর্থ্যাৎ ২০১৪-তে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যান অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলতে। গল্পের শুরুটা তখন থেকেই। কারণ যুবাদের ওই বিশ্বমঞ্চেই নিহাদের শিকার ছিল ৬ ম্যাচে ৯ উইকেট। উইকেট সংখ্যার থেকে আরো বেশি হাইলাইট ছিল নিহাদের ইকোনমি রান রেট। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে বল করে নিহাদের খরচা ছিল ওভারপ্রতি ৩.৩৭ রান। যা ছিল ওই আসরের সেরা তিনটির একটি।

অনুর্ধ্ব-১৯'এ নিহাদের বেস্ট বোলিং ফিগার হলো ৫/১২, প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট-ইন্ডিজ। ২০১৩ সালে টাইগার যুবাদের ওয়েস্ট-ইন্ডিজ সফরের এক ম্যাচে এমন আগুনঝরানো বোলিং করেছিলেন নিহাদ। যার ফলে অল্প রান করেও সেদিন ক্যারিবীয়দের কাছে হারের মুখ দেখতে হয়নি তৎকালীন মোসাদ্দেক বাহিনীর।

ঢাকা লীগে নিহাদের অভিষেক হয়েছিল ২০১৪-তে ওল্ডডিওএইচএসের হয়ে। ওয়ানডে ক্রিকেটে দেশের সবথেকে বড় এ আসরে খেলতে এসেই ১১ ম্যাচে নিয়েছিলেন ১৩ উইকেট। সাথে ছিল তার চির পরিচিত, নজরকাড়া ইকোনমি রান রেট। শুধু কি তাই! সে বছরই বলের পাশাপাশি ২৬৩ রান করে বুঝিয়েছিলেন ব্যাট হাতেও তিনি কম যান না।

এখন পর্যন্ত ঢাকা লীগে মোট ৩৫ ম্যাচ ৪৪ উইকেট নিয়েছেন রাজশাহীর তারগাছ থানায় জন্ম নেয়া এই বাঁহাতি।

ফার্স্টক্লাসেও নিহাদের অভিষেক হয়েছিল ওই ২০১৪-তে রাজশাহীর হয়ে রংপুরের বিপক্ষে। লঙ্গার ভার্সনে মোট ১১ ম্যাচে নিয়েছেন ৩১ উইকেট। বেস্ট বোলিং ফিগার ৫/৪৫, প্রতিপক্ষ চট্টগ্রাম। লঙ্গার ভার্সনে নিহাদ আলোচনায় আসেন ২০১৭ সালের এনসিএলে। সে আসরে মোট ২১ উইকেট নিয়ে ছিলেন সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীদের তালিকায় সবার উপরে।

বিপিএলে নিহাদের অভিষেক হয়েছিল গত আসরে রাজশাহীর হয়ে। ওই আসরে ক্যারিবীয়ান অল-রাউন্ডার স্যামির অধীনে মোট তিন ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এই ছাত্র। তিন ম্যাচে উইকেট শূন্য থাকলেও আলো কেড়েছিলেন ইকোনমিক বোলিং করে। সে বছর বিপিএলে নিহাদের ইকোনমি রান রেট ছিল ৬.৫৮, যা ওই আসরে খেলতে আসা নামি দামী অনেক তারকা বোলারদের থেকে কম ছিল।

বোলিংয়ে নিহাদের মূল শক্তির জায়গা হলো- লাগাতার ভালো জায়গায় বল করে যাওয়া। বলের উপর অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ রেখে, রান আটকিয়ে ব্যাটসম্যানদের উপর চাপ সৃষ্টি করার এক অনন্য গুণ আছে এই অর্থোডক্স স্পিনারের।

ক্রিকেট ক্যারিয়ার ও জাতীয় দল নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানতে চাইলে নিহাদ বলেন, ‘আমার মূল লক্ষ্য হচ্ছে পারফর্ম করা। তাই ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্ম করে যেতে চাই। আমি বিশ্বাস করি ভালো খেললে সুযোগ অবশ্যই আসবে।’

নিহাদের এমন লক্ষ্য আর বিশ্বাসে আস্থা রাখতে পারেন বোর্ডের নীতি-নির্ধারকরা। আর আশায় বুক বাঁধতে পারে ক্রিকেট পাগল দর্শকরাও। তাই সবার চাওয়া থাকবে ভালো পারফর্ম করেই দলে আসবে নিহাদ, আর সমৃদ্ধ করবে বাংলাদেশ দলের স্পিন ডিপার্টমেন্টের শক্তি। শুভ কামনা রইলো নিহাদের জন্য।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0203 seconds.