• ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ০০:২১:২২
  • ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ০০:২১:২২
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

তবুও ঘুমিয়েই রইলো মিরপুর

মিরপুর স্টেডিয়াম। ছবি : সংগৃহীত

হেড লাইন দেখে আপনার চোখ এতক্ষণে কপালে উঠতে পারে। চোখ কপালে উঠলেও কিছুই করার নেই। কারণ এই কথাটির ভুক্তভোগী স্বয়ং আপনি নিজেও। আর ঘুম শব্দটিকে এখানে মূলত রানখরার সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

সময়ের পরিক্রমায় অন্য সবকিছুর সাথে ক্রিকেটও নিজের খোলস পাল্টেছে। ওভার কমিয়ে ক্রিকেটকে এখন ২০ ওভার পর্যন্ত নামিয়ে আনা হয়েছে দর্শক বিনোদনের জন্য। তাতে সাড়া পড়েছে বেশ। সাড়া পাবারই কথা। কারণ ব্যস্ততার এ যুগে অল্প সময়ের ম্যাচে চার-ছক্কার ফুলঝুরিতে কে না ডুবে থাকতে চায়। 

আইপিএল আয়োজনের মাধ্যমে সর্বপ্রথম ক্রিকেটের তীর্থস্থান খ্যাত ভারত টি-টুয়েন্টিকে ফ্র্যাঞ্চাইজির মাধ্যমে দর্শকদের সামনে আনতে সমর্থ হয়। আইপিএল ছাড়াও ক্রিকেট বিশ্বে বিগ ব্যাশ, সিপিএল, পিএসএল নামক কিছু ২০ ওভারের ক্রিকেট লীগ চালু আছে।

এদিক দিয়ে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও দর্শক চাহিদা টানতে চালু করেছে বিপিএল নামক টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট লীগের। দেখতে দেখতেই বিপিএল তার ছয় নাম্বার আসরটিও শেষ করতে যাচ্ছে।

কিন্তু প্রশ্ন হল এই ছয় বছরে কতটা সফল হতে পেরেছে দেশের ক্রিকেটের সব থেকে বড় এই আসরটি। এ প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে আপনাকে আরেকদফা নেড়েচেড়ে বসতে হবে।

কোনো সন্দেহই নেই গত ছয় আসরে বিপিএল কর্তাদের নানান অদক্ষতা আর অপেশাদারিত্ব নিয়ে। মানহীন সম্প্রচার, আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্ত, টিকিটের চড়া মুল্য, ফ্র্যাঞ্চাইজি সমস্যাসহ আরও অনেক কলঙ্ক আছে বিপিএলের। তবে এত সব কিছুকে পায়ে ঠেলে বার বার সামনে উঠে আসছে মিরপুর মাঠের রানখরা নামক ক্রিকেটের সবথেকে তিক্তকর বিষয়টি।

দর্শকেরা পকেটের টাকা খসিয়ে, সময় নষ্ট করে উল্টো বিরক্ত হচ্ছেন মিরপুরে খেলা দেখতে এসে। সেদিক থেকে মিরপুরের পিচের এ দৈন্যদশার স্বীকার মূলত দর্শকরাই। বিপিএল শুরু থেকে এখন পর্যন্ত যত হাই স্কোরিং ম্যাচ হয়েছে তার ছিটেফোঁটার সাক্ষী ছিল মিরপুর। কালে-ভদ্রে মিরপুরে টি-টুয়েন্টি সুলভ দু-একটা ম্যাচ দেখা গেছে। বাকি ম্যাচগুলোতে ব্যাটসম্যানদের রীতিমত সংগ্রাম চালাতে হয়েছে। শরীরের ঘাম ঝরিয়ে টেনেটুনে তবেই ১৪০-১৫০ রান করা গেছে। আর ১০০র নিচে রান হওয়া ম্যাচগুলোর কথা নাই বা বললাম।

আর মাত্র কয়েকদিন। তাহলেই পর্দা নামবে বিপিএলের এবারের আসরের। সিলেট আর চট্রগ্রাম পর্বের পাট চুকিয়ে বিপিএল আবারো ফিরেছে ব্যস্ততম নগরী ঢাকায়। বিপিএল শহর পাল্টালো, শেষ চার নিশ্চিত হলো। কিন্তু মিরপুর কাটাতে পারলো না তার বেরসিক রানখরা।

মিরপুরে আজো ঢাকা-চট্রগ্রাম কোয়ালিফায়ারের প্রথম ম্যাচে চট্টগ্রাম আগে ব্যাট করে ঢাকাকে মাত্র ১৩৬ রানের টার্গেট দিতে পেরেছিল। যা বর্তমান মারমার-কাটকাট ক্রিকেটের যুগে বড্ড বেমানান। তাছাড়া এমন ম্যাচে দর্শকদের প্রত্যাশার পারদ স্বভাবতই অনেক উচুতে থাকে।

অথচ এই মিরপুরকে ঘিরে কতই না পরিকল্পনা বিসিবির। তবুও তারা বার বার ব্যর্থ হচ্ছে। এইতো গেলো বছরেই পুরো মাঠের মাটি সরিয়ে নতুন করে গ্রাউন্ড করা হলো, অস্ট্রেলিয়া থেকে মাঠের জন্য ঘাস আনা হলো, নতুন করে মাটি বসানো হলো পিচে। কিন্তু তাতেও যেন ছাড়ানো গেলো না মিরপুরের রানখরা নামক রোগটি। এটা এখন রীতিমতো মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে দর্শকদের প্রত্যাশা- দ্রুতই সবার প্রিয় এ ক্রিকেট ভ্যেনুটি সিলেট-চট্টগ্রামের মতোই ভেসে যাবে রান বন্যায়, আর দূর হবে সবার দীর্ঘশ্বাস। দর্শকদের এ চাওয়া কবে পুর্ণ হবে তা আপাতত না হয় সময়ের হাতেই তোলা থাক।

 

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0760 seconds.