• ৩১ জানুয়ারি ২০১৯ ১৭:০২:৫৯
  • ৩১ জানুয়ারি ২০১৯ ১৭:২৪:১১
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

প্রত্যাশিত ডাকসু নির্বাচন- যেন নব ঊষার আলো

পুরনো ছবি

এটা বহুদিনের প্রত্যাশা ছিলো যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে গণতান্ত্রিক ধ্যান ধারনার চর্চা বিকশিত করা, পরমতসহিষ্ণুতা গড়ে তোলাসহ অনাগত দিনে দেশকে নেতৃত্ব দেয়ার উপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ছাত্র সংসদ নির্বাচন একটা মাইলফলক হিসেবে কাজ করে থাকে।

পাকিস্তান আমল থেকেই ডাকসুসহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতো নিয়মিতভাবেই। দেশ স্বাধীনের পরেও তা অব্যাহত ছিলো গত শতকের ৯০ দশক অবধি।

স্বৈরাচার বা ক্ষমতা জবরদখলকারী হিসেবে যাদেরকে আমরা নিন্দা করি (এবং সেটা যুক্তিসংগতই বটে) সেসব সরকারের সময়েও ডাকসুসহ অপরাপর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়মিতই অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য যে, ৯০ পরবর্তী সরকার ব্যবস্থায় গণতন্ত্র ফিরে আসলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তা আর ফিরে আসেনি। অথচ স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি ছাত্র সমাজেরও ব্যাপক অবদান ছিলো। ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়াটা এতদিনে অনভিপ্রেতই ছিলো।

অবশেষে ডাকসু দিয়ে নির্বাচনহীনতার সে জট কাটতে যাচ্ছে। এটা শুভ লক্ষণ। সকল প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠণগুলো এখানে অংশগ্রহণ করুক- অন্যান্য সবার মতো সেটা আমারও একান্ত কামনা। সেই সাথে ছাত্র-ছাত্রীরা যেন নির্ভয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে পারে সে ব্যাপারে যেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তৎপর থাকে সে কামনাও করি। দীর্ঘ ২৮ বছর পরে যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে তা যেন কোনভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ না হয়- সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

একটা সুন্দর ডাকসু নির্বাচন হয়ে গেলে বিদ্যমান ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতৃত্বেও ইতিবাচক পরিবর্তন সুচিত হবে বলে আমার একান্ত ধারনা। যেসব অছাত্র বা বড় ভাইয়ের পকেটের লোকরা এতদিন ছাত্র সংগঠনগুলোতে ঠাঁই পেতো, নেতা হতো সেটা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে ছাত্ররাই স্বাভাবিকভাবে আসবে তখন। কোনো পকেট কমিটি করে কাজ হবে না। কারণ সাধারন ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে সম্পর্কহীন আদু নয়; অনিয়মিত ছাত্ররা আসলেও তারা তখন ক্যাম্পাসে অনেকটাই পরিত্যক্ত হয়ে পড়বে। আর আদু ভাইরা আসলে তো কথাই নেই। সে ছাত্র সংগঠন একদম হারিয়েই যাবে হয়তো।

একটা সুন্দর ডাকসু নির্বাচন হয়ে গেলে তাই বড় ভাই, লবিং-গ্রুপিং এসব করে মনে হয় না ছাত্র নেতা হওয়া যাবে। ফলে পড়াশুনার পাশাপাশি যে সকল ছেলে-মেয়েরা নেতা হওয়ার অভিপ্রায় নিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হতে চায় তারা সাধারন ছেলেমেয়েদের সাথে বেশি বেশি সময় কাটাবে। তাদের জন্য কাজ করবে। তখন এক্সট্রা কারিকুলার কর্মকাণ্ডও সক্রিয় হবে। ফলত: মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ বিরোধী কর্মকাণ্ডও আপনাআপনিই জোরদার হয়ে উঠবে। ছেলে-মেয়েরা নেতিবাচক কাজ থেকে বের হয়ে একটা গঠনমূলক ধারায় নিজেদেরকে পরিচালিত করতে আগ্রহী হয়ে উঠবে।

এ কারণে শুধু ডাকসু নির্বাচনই নয়; সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। ডাকসু দিয়ে যেটা শুরু হচ্ছে সেটা যেন এখানেই শেষ না হয়; সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই যেন তা শুরু করা যায় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকবৃন্দ সক্রিয় হবেন এটাই কামনা করি। পরিশেষে ডাকসু নির্বাচন সুন্দর হোক, স্বচ্ছ হোক সে কামনা করি। কারণ প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের মাধ্যমে ডাকসু গঠিত হলে তা ভালোর চেয়ে খারাপই বেশি করবে।

লেখা : সহয়োগী অধ্যাপক, ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ, এনাম মেডিকেল কলেজ।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

ডাকসু নির্বাচন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0203 seconds.