• ক্রীড়া ডেস্ক
  • ১২ জানুয়ারি ২০১৯ ১১:১৭:২৯
  • ১২ জানুয়ারি ২০১৯ ১১:১৮:৫৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

সব কিছু ঘুরিয়ে দিলেন ২২ বছর বয়সী আলিস!

ছবি : সংগৃহীত

বিপিএলে এবার ঢাকা ডায়নামাইটস ও রংপুর রাইডার্সের শুক্রবারের ম্যাচেই সর্বোচ্চ রান হয়েছে। দুই ইনিংস মিলে ৩৬৪ রান! ১৮৪ রানের বড় লক্ষ্য তাড়ায় অধিকাংশ সময়ই এগিয়ে ছিল রংপুর রাইডার্স। তবে রোমাঞ্চকর ম্যাচ দুই রানে জিতে শেষ হাসি হেসেছে ঢাকা।

ঢাকার হয়ে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয়া নায়ক কিন্তু দলের অভিষিক্ত স্পিনার আলিস আল ইসলাম। তার দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে জয় পেয়েছে ঢাকা।

কে এই আলিস? ম্যাচ শেষে প্রশ্ন সবারই। সংবাদ সম্মেলনে জানা গেল ঢাকা ডায়নামাইটসের নেট বোলার ছিলেন তিনি। সেটাও এই মৌসুমে। ভাগ্য বদলের অবিশ্বাস্য গল্প বিপিএলে খেলার সুযোগ পেয়ে গড়লেন রেকর্ড। স্বীকৃত টি ২০ তে অভিষেকে হ্যাটট্রিক করা প্রথম বোলার আলিস।

হঠাৎ পাওয়া সুযোগে আকাশছোঁয়া সাফল্য। এরপর আলোচনায় শুধুই আলিস। কোথা থেকে উঠে এলেন তিনি? সংবাদ সম্মেলনে নিজের সম্পর্কে জানাতে গিয়ে ২২ বছর বয়সী এই ডানহাতি অফ-স্পিনার বলেন, ‘আমি ঢাকা ডায়নামাইটসের নেট বোলার ছিলাম। আগে ঢাকা প্রথম বিভাগে খেলেছি। নেট বোলিং করার সময় সুজন (ঢাকার কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন) স্যার আমাকে দেখেন। দেখে তার বিশ্বাস হয় যে আমি ভালো করতে পারব, তারপর আমাকে দলে নেন। টিম ম্যানেজমেন্ট, অন্য খেলোয়াড়রা আমাকে অনেক সমর্থক দিয়েছেন। এভাবে একাদশেও সুযোগ পাওয়া।’

তিনি বলেন, ‘সাভারের বলিয়ারপুর আমার বাড়ি। ক্রিকেট খেলা শুরু করি কাঁঠালবাগান গ্রিন ক্রিসেন্ট ক্লাব থেকে। তারপর কয়েক বছর দ্বিতীয় বিভাগে খেলার পর প্রথম বিভাগে খেলি।’ রংপুরের ইনিংসের অষ্টম ওভারে শুভাগত হোমের বলে তিন বলের ব্যবধানে মিঠুনের দুটি সহজ ক্যাচ ছেড়েছিলেন আলিস। তখন মিঠুনের রান ছিল ২১। পরে ৪৯ রানে তাকে আউট করেই প্রায়শ্চিত্ত করেন আলিস। নিজের তৃতীয় ওভারের শেষ তিন বলে ফেরান মিঠুন, মাশরাফি মুর্তজা ও ফরহাদ রেজাকে। পেয়ে যান এবার বিপিএলের প্রথম হ্যাটট্রিক।

তবে দারুণ বোলিংয়ের পেছনেও রয়েছে আরেকটি গল্প। প্রথম বিভাগে তার বোলিং অ্যাকশন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল। পরে নাকি তিনি পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছেন। তবে এদিনও আলিসের বোলিং নিয়ে প্রতিপক্ষের অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। যদিও আম্পায়ারের চোখে কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি। নিজের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে আলিস বলেন, ‘না আসলে আমার অ্যাকশন কখনো প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি। তবে সবাই আসলে ভাবছিলেন (এমনটা)...।’

দারুণ বোলিং নিয়ে বলেন, ‘আসলে মিরপুর স্টেডিয়ামেই আমার প্রথম ম্যাচ এটা। আমি নার্ভাস ছিলাম। দুটি ক্যাচ ছাড়ার পরও সবাই আমাকে সমর্থন দিয়ে গেছেন। আমি শুধু ভালো জায়গায় বল করার চেষ্টা করেছি। হ্যাটট্রিক আসলে কেউ করতে পারে না। হ্যাটট্রিক হয়ে যায়। আমার কাজ ভালো জায়গায় বোলিং করা। সেটা পেরেছি।’ আগেরদিন সন্ধ্যায় আলিস জানতে পারেন তিনি খেলবেন। এরপর হাই ভোল্টেজ ম্যাচের কথা চিন্তা করে নার্ভাস হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘সবকিছুর পরও আমি ভালো করতে পেরেছি এটাই স্বস্তির।’

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ঢাকা ডায়নামাইটস ১৮৩/৯, ২০ ওভারে (রনি তালুকদার ১৮, সাকিব আল হাসান ৩৬, মিজানুর রহমান ১৫, কিয়েরন পোলার্ড ৬২, আন্দ্রে রাসেল ২৩। সোহাগ গাজী ২/২৮, শফিউল ইসলাম ৩/৩৫, বেনি হাওয়েল ২/২৫)।

রংপুর রাইডার্স ১৮১/৯, ২০ ওভারে (ক্রিস গেইল ৮, মেহেদী মারুফ ১০, রাইলি রুশো ৮৩, মোহাম্মদ মিঠুন ৪৯, বেনি হাওয়েল ১৩, শফিউল ইসলাম ১০*। সুনীল নারাইন ২/৪০, আলিস ইসলাম ৪/২৬)।

ফল : ঢাকা ডায়নামাইটস ২ রানে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ : আলিস ইসলাম (ঢাকা)।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0242 seconds.