• বিদেশ ডেস্ক
  • ০৭ জানুয়ারি ২০১৯ ২২:৪৩:০৯
  • ০৭ জানুয়ারি ২০১৯ ২২:৪৩:০৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

থানায় ঢুকেই যুবককে চড়-লাথি মারলেন জেলাশাসক ও স্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

থানায় ঢুকেই পুলিশের সামনেই যুবককে এলোপাতাড়ি চড়-লাথি মারলেন জেলাশাসক ও তার স্ত্রী। তার পরই ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, তোমায় যদি আধ ঘণ্টার মধ্যে থানায় ঢুকিয়ে দিতে না পারি তাহলে তোমাকে বাড়িতে গিয়ে মেরে ফেলব! এসময় যুবককে বারবার ক্ষমা চাইতেও দেখা যায়। কিন্তু তার পরেও চলতে থাকে মারধর।

রোববার ৫ মিনিট ৫২ সেকেন্ডের এমনই একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।

জানা গেছে, ঘটনাটি ভারতের আলিপুরদুয়ারের। ভিডিওতে যে ব্যক্তি ও মহিলাকে মারধর করতে দেখা যাচ্ছে তারা, আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসক নিখিল নির্মল ও তার স্ত্রী নন্দিনী কৃষ্ণণ। আর যে যুবককে মারধর করা হচ্ছিল তিনি ওই জেলারই বাসিন্দা। নাম বিনোদ। 

ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়, আনন্দবাজার ঘটনার শুরু ফেসবুকে করা একটি মন্তব্যকে ঘিরে। অভিযোগ, জেলাশাসকের স্ত্রীর বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য করেছিলেন বিনোদ। তার বিরুদ্ধে ফালাকাটা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন জেলাশাসক। তার পরই বিনোদকে আটক করে ফালাকাটা থানায় নিয়ে আসা হয়। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই থানায় সস্ত্রীক হাজির হন নিখিল নির্মল।

থানায় তখন আইসি সৌম্যজিত রায় ছিলেন। থানায় ঢুকেই বিনোদকে টেনে নিয়ে এসে মারধর শুরু করেন জেলাশাসক ও তার স্ত্রী। পরপর চড় মারা হয় বিনোদকে। সেই সঙ্গে তাকে শাসাতেও থাকেন নিখিল ও নন্দিনী।

ভিডিওতে দেখা যায়, জেলাশাসক বিনোদকে বলছেন, তোমায় যদি আধঘণ্টার মধ্যে থানায় ঢুকিয়ে দিতে না পারি, তা হলে তোমায় বাড়িতে গিয়ে মেরে ফেলতে পারি। এখানেই থামেননি তিনি। তাকে এটাও বলতে শোনা যায়, আমার জেলায় আমার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলবে না।

পুলিশের কাছে বিনোদ জানিয়েছেন, জেলাশাসকের স্ত্রী তার ফেসবুক বন্ধু। কিন্তু তিনি যে জেলাশাসকের স্ত্রী সেটা জানতেন না। রোববার রাতে ফেসবুকে জেলাশাসকের স্ত্রীর সঙ্গে চ্যাট করছিলেন বিনোদ। সেখানে একটি বিষয় নিয়ে বিতর্ক হয়।

তারপর নন্দিনী তাকে একটি গ্রুপে অ্যাড করেন। সেই গ্রুপে বিনোদকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন অনেকে। বিনোদের দাবি, তখনই তিনি জানতে পারেন, নন্দিনী জেলাশাসকের স্ত্রী।

বিনোদের দাবি, নন্দিনী জেলাশাসকের স্ত্রী জানার পর আমি লিখি আপনি তো জেলাশাসকের আলোয় আলোকিত। এর পরই অশালীন ভাষায় গালাগালি দেয়া হয় আমায়। পাল্টা আমিও গালাগালি দিই।

জেলাশাসক ও তার স্ত্রীর এ ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরই তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে। নানা রকম প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, থানায় ঢুকে ওই যুবককে মারধর করার এখতিয়ার কে দিল জেলাশাসককে? ভিডিওটির প্রসঙ্গে জেলাশাসককে ফোন করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। জেলাশাসক কোনও মন্তব্য না করলেও তার স্ত্রী নন্দিনী কৃষ্ণণ ফেসবুকে এ ঘটনা প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন।

তিনি সেখানে লিখেছেন, অনেক হয়েছে। সরানোর হলে সরিয়ে দিন। কিন্তু একজন ফ্যামিলি ম্যানকে এভাবে বিরক্ত করা বন্ধ করুন। কী জানেন আপনারা? আসল যে ঘটনাটা ঘটেছে সেটাই ভিডিওতে দেখানো হচ্ছে না!

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

ভারত জেলাশাসক পুলিশ

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0418 seconds.