• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮ ১২:০২:৪৬
  • ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮ ১৩:০২:৪৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

দ্বিতীয় দিনের বিক্ষোভে ভিকারুননিসার শিক্ষার্থীরা

ছবি : সংগৃহীত

ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনার বিচারের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মত বিক্ষোভে নেমেছে শিক্ষার্থীরা।

বুধবার সকাল থেকে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা স্কুলের মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। বিক্ষোভকারীরা বলছেন- শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের আশ্বাস অনুযায়ী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দিয়ে দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

এ সময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অধ্যক্ষ ও গভর্নিংবডির পদত্যাগ দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এটি একটি হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। অধ্যক্ষের ভর্তি-বাণিজ্যের কারণে তার শাস্তিও দাবি করেন।

উল্লেখ্য, পরীক্ষায় নকল করার অভিযোগে স্কুলে ডেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রীর সামনেই বাবাকে অপমান করে শিক্ষক। এই ঘটনায় অভিমান করে আত্নহত্যা করে অরিত্রী।

অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারী জানান, অরিত্রীর বার্ষিক পরীক্ষা চলছিল। রোববার স্কুলে পরীক্ষার সময় তার মেয়ে মোবাইল নিয়ে গিয়েছিল। মোবাইলে নকল আছে এমন অভিযোগে ওই স্কুলের শিক্ষক সোমবার তাদের স্কুলে আসতে বলেন। সোমবার পরীক্ষার সময় অরিত্রীর সঙ্গে তারা স্কুলে যান। পরে তাদের ভাইস প্রিন্সিপালের কাছে নিয়ে গেলে তারা মেয়ের নকল করার ব্যাপারে ভাইস প্রিন্সিপালের কাছে ক্ষমা চান। কিন্তু ভাইস প্রিন্সিপাল কিছু করার নেই বলে জানায়। এসময় তার মেয়ে প্রিন্সিপালের রুমে গিয়ে তার পায়ে ধরে ক্ষমা চাইলেও তাদের বেরিয়ে যেতে বলেন এবং পরের দিন টিসি নিয়ে আসতে বলেন। এ সময় আমি মেয়ের সামনেই কেঁদে ফেলি। অরিত্রী হয়তো আমার ওই কান্না-অপমান মেনে নিতে পারেনি।

অরিত্রীর বাবা বলেন, ‘ওই ঘটনার পর অরিত্রী দ্রুত বাসায় চলে আসে। বাসায় ফিরে সে তার ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয় এবং ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করে। বাইরে থেকে অনেক ডাকাডাকি করেও দরজা না খোলায়, দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

এদিকে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের তিন শিক্ষিকার বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচণার মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে নিহত শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর বাবা দিলীপ অধিকারী বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলাটি (মামলা নং-১০) করেন।

ওই তিন শিক্ষিকা হলেন- ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতী শাখার প্রধান জিন্নাত আরা ও শ্রেণি শিক্ষিকা হাসনা হেনা।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0242 seconds.