• বিনোদন প্রতিবেদক
  • ২৪ নভেম্বর ২০১৮ ১৬:১১:৪১
  • ২৪ নভেম্বর ২০১৮ ১৬:৩৯:২৫
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

নাট্যকর্মী সংগ্রহ করছে নাগরিক নাট্যাঙ্গন

ছবি : সংগৃহীত

নাগরিক নাট্যাঙ্গন এর জন্ম ১ জানুয়ারি ১৯৯৫। দলের বয়স তেইশ হলেও, বাংলাদেশ এর নিয়মিত নাট্যচর্চা ও নাট্যান্দোলনের প্রথম সারির সৈনিক দলের প্রাণপুরুষ ড. ইনামুল হক ও প্রাণশক্তি ষড়ৈশ্বর্য লাকী ইনাম নাটকে যথাক্রমে ৬০ বছর ও ৪৬ বছর অতিক্রম করছেন। ফলে সার্বিকভাবেই দলের মেধা ও অভিজ্ঞতা শুরুতেই অন্য অনেককে ছাড়িয়ে যায়। 

নাগরিক নাট্যাঙ্গন প্রযোজনায় বৈচিত্র, সামাজিক দায়বদ্ধতা, নাট্যশিক্ষা ও গবেষণার প্রতি গুরুত্ব - এসব মূল নীতির উপর ভিত্তি করে নিজস্ব ভঙ্গিতে নাট্যান্দোলন অব্যাহত রেখেছে। দেশি-বিদেশি যে কোন ভালো নাটক মঞ্চায়নে নাগরিক নাট্যাঙ্গন আগ্রহী; যেখানে বিষয়বস্তু ও উপস্থাপনায় নতুনত্ব ও বিশিষ্টতা থাকে। সর্বোপরি, নাটককে নাগরিক নাট্যাঙ্গন দেখাতে চায় শুভ চিন্তা ও প্রগতিশীলতার লক্ষ্যে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনে। সারা বিশ্বে যখন মানবতা ও মুক্তচিন্তা হয় লাঞ্চিত, অন্ধকারের শক্তি যখন মেতে ওঠে ধ্বংসের নগ্ন উল্লাসে - তখন নাগরিক নাট্যাঙ্গন নাটককেই বেছে নেয় প্রতিবাদের হাতিয়ার হিসেবে।

এই আলোর পথের যাত্রীদের সকল নাট্য প্রযোজনা শুধু দেশেই নয়, দেশের গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পেশাদার মঞ্চে প্রদর্শিত হয়েছে এবং কুড়িয়েছে প্রশংসা। জন্মলগ্ন হতে দু’দশকেরও অধিক চলার পথে, দেশের অভ্যন্তরে আনুমানিক অর্ধ-শতাধিক নাট্যোৎসবে অনায়াস অংশগ্রহণ ব্যতিরেকেও, দেশের বাইরে নিমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে বহু নাট্যোৎসবে নাগরিক নাট্যাঙ্গন এর সাফল্যগাঁথা উল্লেখ করবার মত।

বহুল আলোচিত ও দর্শক নন্দিত প্রযোজনা সমূহের জন্য সাংবাদিক ও সমালোচক পুরস্কারসহ বিভিন্ন সময়ে অন্যান্য নানাপ্রকার সনদ প্রাপ্তির সংখ্যাও রীতিমত ঈর্ষণীয়। এ তালিকায় আছে - জনতার রঙ্গশালা, গোলমাথা চোখামাথা, সরমা, আমি বীরঙ্গনা বলছি, সেইসব দিনগুলো, প্রাগৈতিহাসিক, পুশি বিড়াল ও একজন প্রকৃত মানুষ, গহর বদশা ও বানেছা পরী, ক্রীতদাসের হাসিসহ এমন আরো অনেক সৃজনশীল, বৈচিত্রপূর্ণ ও শক্তিশালী নাট্যকর্ম, যা বাংলা নাটকে সম্পদ বলে বিবেচিত ও সমাদরে গৃহীত।

নাগরিক নাট্যাঙ্গন কর্মে বিশ্বাসী; তাই নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে নাটকের উপর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও গবেষণাকে বিশেষ উৎসাহ ও গুরুত্ব দিয়ে নতুন নাট্যকর্মী তৈরীর লক্ষ্যে ১ এপ্রিল ২০০৫ সালে ‘নাগরিক নাট্যাঙ্গন ইন্সটিটিউট অফ ড্রামা (এন এন আই ডি)’ প্রতিষ্ঠা করে; যেখানে বাংলাদেশের নাটকের পন্ডিত ও প্রতিষ্ঠিত শিল্পীবৃন্দ এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষকবৃন্দের সহযোগিতায়, পদ্ধতিগত শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে ছ’মাসের নাট্য বিষয়ক সার্টিফিকেট কোর্স পরিচালিত হয়। এ প্রতিষ্ঠান থেকে এ যাবৎ ২৩ (তেইশ) টি ব্যাচে বহু শিক্ষার্থী যেমন প্রশিক্ষণ লাভ করে দেশের নাটক ও সংশ্লিষ্ট শিল্পচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, তেমনই প্রতিটি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহণে এখন পর্যন্ত ২৪ (চব্বিশ) টি নতুন নাট্য প্রযোজনা নির্মাণ হয়েছে। ঢাকার মঞ্চে ‘নাগরিক নাট্যাঙ্গন ইন্সটিটিউট অফ ড্রামা (এন এন আই ডি)’ এর উপহার এসব বৈচিত্রপূর্ণ প্রযোজনা আর একটি ইতিহাস তৈরী করেছে। 

‘শুধু নাটক’ নাগরিক নাট্যাঙ্গন এর নাট্য বিষয়ক পত্রিকা। এটি দেশি-বিদেশি বহু নাটক ও নাট্য বিষয়ক প্রবন্ধ প্রকাশ করে যাচ্ছে। নাট্যপত্র প্রকাশের পাশাপশি নতুন প্রযোজনা কিম্বা উৎসব উপলক্ষে নিয়মিত স্মরণিকা প্রকাশ করা হয়। এখানে প্রচুর গবেষণামূলক প্রবন্ধ ছাপা হয়ে থাকে। দলের সকল প্রকাশনা সংগ্রহ করলে একটি বিশাল গ্রন্থাগারে পরিণত হবে তা নিঃসংকোচে দাবি করা যায়। অর্থনৈতিক ও বিবিধ সংকটের মাঝেও এরকম নিয়মিত প্রকাশনা বাংলা নাটকের ইতিহাসে দূর্লভ।

ঢাকা-ঢাকার অদূরে-বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে-এমনকি প্রান্তিক অঞ্চলেও; ওয়ার্কশপ, ক্যাম্পেইন এবং আরো বিচিত্র সৃজনী প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে নতুন প্রজন্মকে থিয়েটারে সম্পৃক্ত করণে নাগরিক নাট্যাঙ্গন সর্বক্ষণ ক্রিয়াশীল। 

এরই ধারাবাহিকতায়, নাগরিক নাট্যাঙ্গন - প্রযোজনা ভিত্তিক নাট্যকর্মী সংগ্রহে - থিয়েটার কর্মযজ্ঞে আগ্রহীদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করেছে । 

এ আয়োজন চলবে আগামী ৩০ নভেম্বর - ১ ডিসেম্বর’২০১৮ এবং ৪ ডিসেম্বর - ৮ ডিসেম্বর’ ২০১৮ পর্যন্ত; বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী প্রাঙ্গণে।

অনলাইন এ নিবন্ধন করবার শেষ তারিখ ২৮ নভেম্বর ২০১৮।

নিবন্ধন পত্র এর লিঙ্ক :

https://goo.gl/forms/sAWNwyCZDNI403gP2

বিস্তারিত তথ্যের জন্য - ০১৭০৭০০৯৫০৫, ০১৭৭৮৯৮৯১০৬।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0203 seconds.