• ২৮ অক্টোবর ২০১৮ ১৯:১৬:৫৮
  • ২৮ অক্টোবর ২০১৮ ১৯:১৬:৫৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

‘জ্বরে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে কিডনির ক্ষতি’

ছবি : সংগৃহীত

দুই ধরনের কিডনি রোগ হয়। একটি হঠাৎ হয় এবং অন্যটি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, যা বোঝা যায় না। এ দুটিই প্রতিরোধ করা যায়। জনস্বাস্থ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকলে একজন মানুষের কিডনিতে সমস্যা হবে না।

জনস্বাস্থ্য বলতে সুপেয় পানির ব্যবস্থা, মশা-মাছিমুক্ত পরিবেশে বসবাস করা, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করা ইত্যাদি। এসব অনিয়মের জন্য দীর্ঘস্থায়ী কিডনি সমস্যা হচ্ছে।

জ্বর হলেই অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া ঠিক না। এতে কিডনির ক্ষতি হতে পারে। সুপ্ত কিডনি রোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ পরীক্ষা করা উচিত।

এজন্য রোগী ছাড়াও চিকিৎসকদের উপযুক্ত চিকিৎসা প্রদানের প্রতি মনোযোগী হতে হবে। জ্বরের জন্য অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন আছে কি না, তা বুঝতে হবে। বাংলাদেশে কিডনি রোগের এটি তৃতীয় বা চতুর্থ কারণ।

কিডনি রোগের আরও একটি কারণ হলো ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করা। একমাত্র প্যারাসিটামল ছাড়া যেকোনো ব্যথার ওষুধ ৮০ ভাগই কিডনির ক্ষতি করবে।

লিভার বা আলসারের সমস্যা না থাকলে প্যারাসিটামল শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবার জন্য খুবই নিরাপদ একটি ওষুধ।

কিডনি রোগের প্রথম দুই স্তর পর্যন্ত নিরাময়যোগ্য। তৃতীয় ও চতুর্থ স্তরের রোগী পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য নয়। তবে চিকিৎসার মাধ্যমে ৫ থেকে ১০ বছর রোগীকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব। পঞ্চম স্তরে রয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ২ ভাগ রোগী। এই শূন্য দশমিক ২ ভাগ রোগীর জন্য গোটা দেশে হইচই ফেলে দিচ্ছি।

কিডনি পরীক্ষায় কমিউনিটি ক্লিনিককে কাজে লাগাতে হবে। রোগীর মধ্যে যেকোনো ধরনের উপসর্গ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে দিতে হবে।

সচেতন হলে প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের এক কোটি রোগী কিডনি রোগের ভয়াবহতা থেকে বেঁচে যাবে।

পঞ্চম স্তরের রোগীদের জন্য হাসপাতালগুলোতে সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে। বিশেষজ্ঞরা কিডনি সংযোজন ও ডায়ালাইসিসে সাহায্য করবে।

নেফ্রোলজিস্টের সংখ্যা বাড়াতে হবে। রোগীর তুলনায় নেফ্রোলজিস্টের সংখ্যা অনেক কম। সে জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। এ জন্য অনেকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাচ্ছে।

এসডিজিকে কাজে লাগিয়ে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ, দীর্ঘস্থায়ী হৃদ্‌রোগ, ক্যানসার- সবগুলোই প্রতিরোধ করা সম্ভব।

সচেতনতা সৃষ্টির জন্য বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশন, কিডনি ফাউন্ডেশন ও বিআরবি কাজ করছে। সরকারেরও এগিয়ে আসা উচিত। তবেই কিডনি রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

পরামর্শদাতা : হারুন অর রশিদ

 প্রতিষ্ঠাতা, কিডনি ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট, ঢাকা।

(কিডনি দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে এক গোলটেবিল বৈঠকে এই বক্তব্য দেন ডা. হারুন অর রশিদ)

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.1634 seconds.