• ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ২২:৩১:০৮
  • ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ২২:৩১:০৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

‘স্বাভাবিক সাংবাদিকতা’ সংহতি চায়

মাহফুজ আনাম। ছবি : সংগৃহীত

‘স্বাভাবিক সাংবাদিকতা’ এবং ‘তৈলাক্ত সাংবাদিকতা’র দৃষ্টান্ত আছে বিশ্বজুড়ে। বাংলাদেশে হয়তো শেষোক্তটার দৃষ্টান্ত প্রবল। সম্প্রতি এরকম দৃষ্টান্তগুলো নিয়ে লোকসমাজে বিস্তর হাসি-ঠাট্টা-নিন্দা-হতাশা দেখছি। এসব সামাজিক ক্রোধেরই প্রকাশ। কিন্তু এই ক্রোধের আগুনে দেখছি, অনেকে সাংবাদিকতাকেও পোড়াতে চাইছেন। খোদ পেশাটিকেই হেয় প্রতিপন্ন করতেই মনযোগী তাঁরা।

প্রশ্ন করতে চাই, স্বাভাবিক সাংবাদিকতা যখন আক্রান্ত হয়, হেনস্থা ও হয়রানির শিকার হয়-- তখন কি লোকসমাজ সংগঠিতভাবে সংহতি দেখায়? ‘সমাজ’-এর সংহতি ছাড়া কি স্বাভাবিক সাংবাদিকতা মেরুদন্ড সোজা রাখতে সক্ষম?

ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে মামলা-মোকদ্দমার কথা অনেকেই জানেন। প্রকৃত পরিস্থিতি ও তথ্য জানতে আজ, কিছুক্ষণ আগে, তাঁর অফিসে কথা বলছিলাম। 

তিনি জানালেন, লেখা ও টকশোতের বক্তব্যের জন্য এ পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ৮৪টি মামলা দায়ের হয়েছে। আমি আবার লিখছি, ৮৪টি মামলা!

এর মধ্যে অন্তত ৪০টি মামলায় হাজিরা দিতে তিনি বিভিন্ন জেলায় গিয়েছেন ইতোমধ্যে। বিভিন্ন জেলায় এসব আসা-যাওয়া যে কত ঝক্তি সেটা সকলেই জানেন। পরে তিনি উচ্চআদালত থেকে আপাতত জামিন ও স্টে-অর্ডার নিতে সক্ষম হন।

মাহফুজ আনাম জানালেন, তাঁর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ৮৪টি মামলার মধ্যে ১৬টি ছিল দেশদ্রোহিতার মামলা। যা বিস্ময়কর বটে।

রাজনীতিবিদের কাজের সমালোচনা বা পর্যালোচনাকে ঐসব মোকদ্দমায় ‘দেশদ্রোহিতা’ হিসেবে দাবি করা হয়েছে। বাকি মামলাগুলো ছিল মানহানির।

বিস্ময়কর হলো, আইন অনুযায়ী মানহানির মামলা কেবল সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি দায়ের করতে পারেন। কিন্তু মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে এসব মামলা দায়ের করেছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যক্তিরা। যাদের সম্পর্কে মাহফুজ আনামের লেখা বা বক্তব্যে কোন কথা ছিল না। 

আরও বিস্ময়কর হলো, মামলাগুলোতে এই মৌলিক দুর্বলতা থাকার পরও আইনগতভাবে তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি। কেবল একজন বিচারক একটি ক্ষেত্রে মামলার এই মৌলিক ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। 

প্রশ্ন হলো, প্রবীণ এই সাংবাদিকের এইযে নাজেহাল অবস্থা সেটাও সাংবাদিকতার জন্যই। এরকম দৃষ্টান্ত আরও অনেক আছে। কেবল ঢাকা নয়, বিভিন্ন জেলাতেও অনেক সাংবাদিক বিস্তর হয়রানির মুখে পড়েন কাজ করতে যেয়ে।

আমি এখানে মাহফুজ আনামের অভিজ্ঞতাটি শুধুই দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছি। এরকম আরও বহু দৃষ্টান্ত আছে দেশে।

আমরা কি এই সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়াই? দাঁড়িয়েছি? দাঁড়াবো? শোনা ও দেখার অধিকারও কিন্তু গণতন্ত্রের সামগ্রিক সংগ্রামেরই অংশ। আলাদা কিছু নয়। সিদ্ধান্ত আমাদের।

লেখক: গবেষক

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.1646 seconds.