• ফিচার ডেস্ক
  • ২৪ জুলাই ২০১৮ ১১:৪৪:০৯
  • ২৪ জুলাই ২০১৮ ১১:৪৪:০৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

জেনে নিন গলফ খেলার ইতিহাস

ছবি: ইন্টারনেট

গলফ। উচ্চবিত্ত আর অভিজাত শ্রেণীর খেলা হিসাবেই পরিচিত। গলফের সঙ্গে অন্যান্য খেলার পার্থক্য হলো, গলফ খেলাতে কোনো রেফারি বা আম্পায়ার থাকে না। প্রত্যেক খেলোয়াড় নিজের শটের সংখ্যা নিজেই লিপিবদ্ধ করে রাখেন। আমাদের দেশে গলফ খেলাটি মোটামুটি অপরিচিতই বলা যায়। এর পেছনে দুটি কারন উল্লেখ করা যায়। প্রথমত, এ খেলার প্রচার খুবই কম। দ্বিতীয়ত, আর প্রচারের অভাবে দেশের প্রায় ৯৯ শতাংশ লোক এই খেলা কোথায় হয়, কিভাবে হয় সেসব জানেন না।

চলুন জেনে নিই গলফ খেলার ইতিহাস ও নিয়ম কানুন-

ইতিহাস
এক পক্ষ বলছে, বল ও স্টিকের এই খেলাটির প্রচলন হয় রোমান খেলা ‘পাগানিকা’ থেকে। অন্য একটি পক্ষ বলছে, অষ্টম ও চতুর্দশ শতাব্দীতে চীনে প্রচলিত ছিল ‘চুইওয়ান’ নামের একটি খেলা। এই ‘চুইওয়ান’ থেকেই প্রচলিত হয় গলফ খেলাটি। তবে অধিকাংশের মতে, গলফ খেলার প্রচলন শুরু হয় স্কটল্যান্ডে এবং সময়টি ছিল দ্বাদশ শতাব্দী। সেখানে মেষ পালকরা কাজের ফাঁকে সময় কাটানোর জন্য পাথর ও লাঠি দিয়ে এই ধরনের খেলা খেলতো। তারা যেই মাঠে মেষ চড়াতো সেই মাঠে খরগোশের গর্ত ছিল। তারা সময় কাটানোর জন্য বর্তমান সময়ের বলের পরিবর্তে পাথর ব্যবহার করতো। আর হাতের কাছে ছিল লাঠি। এই লাঠি দিয়ে পাথরকে আঘাত করে তারা খরগোশের গর্তে ফেলতো। এতেই তারা বিনোদন পেত। আর সেই খেলাটিই কালের বিবর্তনে বর্তমান সময়ের গলফ খেলা। 

পরিচিতি
গলফ হলো বল ও স্টিক এর সূক্ষ্ম দক্ষতার একটি খেলা। এই খেলার মূল লক্ষ্য স্টিক দিয়ে আঘাত করে বলটিকে গর্তের মধ্যে ফেলা। তবে একটি বা দুটি গর্তে নয়। পরপর ৯টি/১৮টি গর্তে বল ফেলতে হয়। তবেই নির্ধারিত হয় জয়-পরাজয়। খেলাভেদে ৯টি বা ১৮টি গর্তে বল ফেলতে হয়। যে খেলোয়ার সবচেয়ে কম শটে নির্ধারিত পরিমাণ গর্তে বল ফেলতে পারে তিনিই বিজয়ী হন।

গলফ মাঠ
ক্রিকেট-ফুটবল মাঠের নির্দিষ্ট সীমানা থাকলেও গলফ মাঠের কোনো সীমানা থাকে না। ক্রিকেট-ফুটবলের মতো গলফ খেলার মাঠকে মাঠ বলা হয় না। গলফ খেলার মাঠকে বলা হয় ‘কোর্স’। পরপর অনেকগুলো গর্ত ও টি নিয়ে একটি গলফ কোর্স তৈরি হয়। ‘টি’ হলো যেখান থেকে খেলোয়াড়রা প্রথমবার বলে হিট করেন সেই জায়গাটিকে বুঝায়। এই ‘টি’ মূলত একটি বস্তু। মাটি থেকে বলটি কিছুটা উপরে রাখার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। এই ‘টি’ ও ‘গর্ত’ এর মাঝে যে জায়গাটুকু রয়েছে সেটিকে বলা হয় ‘ফেরাওয়ে’ বা ‘ভালো পথ’। প্রতিটি গর্তের আশে পাশে বিভিন্ন ধরনের পতাকা দেখতে পাওয়া যায়। এগুলোকে বলা হয় ‘রাফ’, ‘হ্যাজার্ডস’ ও ‘পাটিং গ্রিন’। আর গলফ কোর্সে যে উঁচু-নিচু ঢেউ খেলানো জায়গা দেখা যায় সেটিকে বলা হয় ‘ডগলেগ’। সাধারণত এই ‘ডগলেগ’ টি এলাকা থেকে ডান বা বাঁম দিকে বেঁকে থাকে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই বাঁক একবার হয়ে থাকে। আবার অনেকক্ষেত্রে এই বাঁক দুবার হয়ে থাকে। দুবার বাঁক হলে তাকে বলে ‘ডাবললেগ’। সাধারণত গলফ কোর্সে ১৮টি গর্ত থাকে। আর যদি ৯ গর্তের কোর্স হয় তাহলে দুবার পাক দিতে হয়। 

জয়-পরাজয়
জয়-পরাজয়ের হিসাব নির্ধারণ করা হয়, কোন খেলোয়াড় সবচেয়ে কম শটে বল নির্দিষ্ট পরিমাণ গর্তে ফেলতে পেরেছে সেই হিসাবে। এর বাইরেও গলফ খেলার কিছু পয়েন্ট এর বিষয় রয়েছে। প্রতিটি গলফ কোর্সে শট সংখ্যার একটি আদর্শ মান দাঁড় করানো আছে। এটিকে বলে পার। আন্তর্জাতিক মানের গলফ কোর্সে এই পার হয় ৭১। এই পার হলো একজন গলফার কতবার বলে হিট করে টি থেকে গর্তে বল ফেলতে পারে তার হিসাব। আবার বিভিন্ন গর্তে বল ফেলার জন্য বিভিন্ন পারের সংখ্যা রয়েছে। টি থেকে গর্তের দূরত্বই পার এর সংখ্যা নির্ধারণ করে।

পার-তিনের (তিন শটে বল গর্তে ফেলা) ক্ষেত্রে এই দূরত্ব ২৫০ গজ।
পার-চারের (চার শটে বল গর্তে ফেলা) ক্ষেত্রে এই দূরত্ব ২৫১ গজ থেকে ৪৭৫ গজ।
পার-পাঁচের (পাঁচ শটে বল গর্তে ফেলা) ক্ষেত্রে এই দূরত্ব ৪৭৫ গজের বেশি।
পার-পাঁচের বেশি (পাঁচ শটের বেশি শটে বল গর্তে ফেলা) ক্ষেত্রে এই দূরত্ব ৬৫০ গজের বেশি হয়।
এছাড়া গলফ কোর্সে যে ঢাল রয়েছে তার উপর ভিত্তি করেও পারের সংখ্যা নির্ধারিত হয়। তবে আন্তর্জাতিক মানের ১৮ গর্তের গলফ কোর্সে ৪ পারের ৩টি, ১০ পারের ৪টি এবং ৪ পারের ৫টি গর্ত থাকে। তবে এই বিভাজন সব সময় এক রকম হয় না। তবে সবক্ষেত্রেই সবমিলিয়ে ৭০, ৭১ কিংবা ৭২ পারের খেলা হয়ে থাকে। স্কোরিংটা নির্ধারিত হয় কোনো খেলোয়াড় ৭১ পারের বেশি শট খেলেছেন নাকি কম শট খেলেছেন সে হিসেবে। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে অবশ্যই নির্ধারিত পারের চেয়ে কম শট খেলতে হবে। স্কোরকে আবার বিভিন্ন নামে ডাকা হয়। যেমন – কেউ যদি চার পারের খেলায় এক শর্টেই বল গর্তে ফেলে দেন তাহলে তাকে বলা হয় ‘অস্ট্রিস’। একইভাবে চার পারের খেলায় কেউ যদি ১ পার কম খেলেই বল গর্তে ফেলে দেন তাহলে তাকে বলা হয় ‘ব্রিডল’।

একইভাবে ২, ৩ ও ৪ শট কম খেলে বল গর্তে ফেলাকে বলা হয় যথাক্রমে ‘ইগল’, ‘অ্যালব্যাট্রস’ ও ‘কনডর’। আর যদি কেউ নির্দিষ্ট পারের চেয়ে এক শট বেশি খেলে তাহলে বলা হয় ‘বোগি’, দুই শট বেশি খেললে বলা হয় ‘ডাবল বোগি’। যদি প্রতিপক্ষ দুই খেলোয়াড় এর স্কোর সমান হয় তাহলে তাকে বলা হয় ‘হেলভড’ বা ‘ট্রাই’। এক্ষেত্রে জয়-পরাজয় নির্ধারণে বেশি ‘হোল’ জয়ী খেলোয়াড়কে বিজয়ী করা হয়। ‘হোল’ বলতে বুঝায় ‘টি’ থেকে বল মেরে ১ পারেই বল গর্তে ফেলে দেওয়াকে। ‘পেনাল্টি’ নামক একটি বিষয়ও রয়েছে গলফে। গলফে পেনাল্টি ধরা হয় যখন একজন খেলোয়াড় বলে হিট করার পর বলটি হারিয়ে গেলে, কিংবা বল মাঠের বাইরে চলে গেলে, খেলার সরঞ্জাম বা ঘাস সরাতে গিয়ে বল নড়লে, ভুলক্রমে অন্য গলফারের বল মারলে। পেনাল্টি হিসেবে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের পারের সংখ্যা বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

সরঞ্জামাদি
গলফ খেলতে প্রয়োজন হয় একটি দন্ডের ও একটি বলের। যে দন্ডটি দিয়ে বলকে আঘাত করা হয় সেটিকে বলা হয় ‘স্টিক’ বা ‘ক্লাব’। তবে এই স্টিক আবার বিভিন্ন ধরনের রয়েছে। যেমন – ড্রাইভার, উড, পাটার। ‘টি’ এলাকা থেকে লম্বা দূরত্বে বল মারার জন্য ব্যবহার করা হয় ড্রাইভার স্টিকটিকে। এটি সবচেয়ে বড় স্টিক। আর ফেরাওয়েতে দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করার জন্য ব্যবহার করা হয় উড স্টিক। আর সবুজ এলাকাতে বলে হিট করে গর্তে ফেলার জন্য ব্যবহার করা হয় পাটার স্টিকটিকে। একজন খেলোয়াড় তার পছন্দ অনুযায়ী স্টিক তৈরি করতে পারলেও সেগুলো গলফ খেলার নিয়ম মেনে তৈরি করতে হবে। না হলে পরবর্তীতে যদি কোনো ভুলত্রুটি ধরা পড়ে তাহলে খেলা থেকে বহিষ্কার করা হয়ে থাকে।

নিয়ম-কানুন
খেলাটি সম্পূর্ণ অপেশাদার। পেশাদার কোনো খেলোয়াড় এই খেলাটির ধারেকাছেও ভিড়তে পারে না। কোনো খেলোয়াড় যদি এই খেলাটি শেখানো বাবদ বা খেলা বাবদ কারও কাছ থেকে কোনো টাকা নেন তাহলে সে আর অপেশাদার খেলায় অংশগ্রহণ করতে পারেন না। তবে গলফারদের পুরষ্কারের মূল্যের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। একজন গলফার প্রথমবার ‘টি’ এলাকা থেকে বল মারার পর বলটি থামার পর নির্দিষ্ট ১৮ গর্তে বল ফেলার জন্য যতবার খুশি বলে হিট করতে পারবেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে সবচেয়ে কম হিটকারীই বিজয়ী হবেন। ‘টি’ এলাকা থেকে হিট করা থেকে শুরু করে পরবর্তী সকল হিটকে বলা হয় ‘লেআপ’ অ্যাপ্রোচ (লম্বা থেকে মাঝারি দূরত্ব), পিচ বা চিপ। বল যখন সবুজ এলাকায় পৌঁছে তখন তাকে বলা হয় ‘পাট’।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

গলফ

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0187 seconds.