• ১১ জুলাই ২০১৮ ২০:৩৭:৪৪
  • ১১ জুলাই ২০১৮ ২০:৩৭:৪৪
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

এখনো স্বপ্ন দেখেন বাউফলের মৃৎ শিল্পীরা

ছবি: বাংলা

আবু সাঈদ, বাউফল (পটুয়াখালী) :

উপযুক্ত পরিবেশ থাকা সত্বেও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে বিলুপ্তির পথে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মৃৎ শিল্প। এক সময় এ উপজেলার পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড, বগা ও কনকদিয়া ইউনিয়নের পালপাড়া এলাকা মৃৎ শিল্পের জন্য খুবই বিখ্যাত ছিলো।

এ সব এলাকায় প্রায় দুই শতাধিক কুটিরে নয়নাভিরাম পরিবেশে এ মৃৎ শিল্পের বাসস্থান। যা সহজেই যে কারো মনকে পুলকিত করে। কিন্তু বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা, প্রযুক্তির উন্নয়ন ও নতুন নতুন শিল্প সামগ্রীর প্রসারের কারণে এ শিল্প আজ হারিয়ে যাচ্ছে।

উপজেলার আজব-পাড়াগা পর্যন্ত এখন আর মাটির হাড়ি পাতিল তেমনটা চোখে পড়ে না। সে কারণে অনেক পুরোনো এ ঐতিহ্য এখন বিলুপ্তি পথে। ফলে এ পেশায় যারা জড়িত এবং যাদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন মৃৎ শিল্প তাদের জীবন যাপন একেবারেরই কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়েছে।

সোমবার সকালে সরেজমিনে বাউফল পৌরসদরের পালপাড়া এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মৃৎশিল্প তৈরীর কাজে ব্যস্ত কারিগরেরা। কেউ মাটিতে পানি মিশিয়ে ফিনিশিং করে মাটির দলা তৈরী করছেন। কেউ আবার কাদা মাটির তৈরী জিনসপত্র আগুনে পুড়িয়ে পাকা করছেন। মৃতশিল্পীরা তৈরী করছেন ফুলদানি, কলমদানি, কয়েলদানি, ব্যাংক, পাতিল, কাপ-প্রিচ, ডিনারসেট, লাইটসেট, কারিভোল, সোপভোল, সিলিন্ডার, দই পাতিল, মিনার, গম্বুজ, ঘণ্টা, মগ, মোমদানি ও ছাইদানিসহ বিভিন্ন ধরণের মাটির পণ্য।

এ সময়ে কথা হয় মৃৎশিল্প তৈরীর কারখানার মালিক বরুন পালের সঙ্গে তিনি বলেন, ‘ক্রমাগত লোকসানের কারণে আমি ছাড়া আমার পূর্বপুরুষ কেউ এখন আর এ কাজ করছেন না। বাপ-দাদার পেশা তাই আমি এ পেশা ছাড়তে পারছি না।’

লোকসানের কারণ কি জানতে চাইলে তিনি উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার কথা জানান।

তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নদী খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় এখন মাটি সংগ্রহে অনেক খরচ করতে হয় তাদের। আগে প্রতি ট্রলার মাটির দাম ছিল ৩’শ থেকে সাড়ে ৩’শ টাকা। এখন সেই মাটির দাম বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা। এর পর মাটি ফিনিশিং খরচ, কারিগর ও হেল্পারের বেতন, জ্বলানী খরচ ও পরিবহন খরচ সবকিছুই বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই উৎপাদন খরচ ও বিক্রির সঙ্গে মিল না থাকায় প্রতিনিয়ত লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।

তিনি আরো জানান, দস্তা, অ্যালুমিনিয়াম ও প্লাষ্টিকের তৈজসপত্র বর্তমান বাজারে স্থান করে নেয়ায় মাটির তৈরী এ সব জিনিসপত্রের এখন আর তেমন চাহিদা নেই। ফলে বিক্রেতারা মাটির জিনিসপত্র আগের মত আগ্রহের সাথে নিচ্ছেন না। তাদের চাহিদা নির্ভর করে ক্রেতাদের ওপর। দুঃখ কষ্টের মাঝে দিন কাটলেও বাউফলের মৃৎ শিল্পীরা এখনো স্বপ্ন দেখেন। কোন একদিন আবারও কদর বাড়বে মাটির পণ্যের। সেদিন হয়তো আবারো তাদের পরিবারে ফিরে পাবে সুখ শান্তি। আর সেই সুদিনের অপেক্ষায় আজও দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তারা।

বাউফল পৌর সদরের পাল পাড়া এলাকার আরেক মালিক সমীর পাল বলেন, বাউফলের মৃৎশিল্প দেশের অভ্যন্তরের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও। ঢাকার টঙ্গী এলাকার হ্যান্ডি ক্রাফট ও মীরপুর এলাকার কুর্দি ঝুটবক্স নামক দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আমেরিকা, থাইল্যান্ড, জার্মানি, ওমান ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে মাটির তৈরী এ সব জিনিসপত্র রপ্তানি করেন। এতে রাজস্ব হিসেবে বিপুল পরিমান অর্থও পাচ্ছেন সরকার। ফলে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও অবদান রাখছে এ শিল্প। কিন্তু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে সম্ভাবনাময় এ মৃৎশিল্প।

মৃৎশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যবসায়ীরা জানান, স্বল্প সুদে দীর্ঘ মেয়াদী লোন প্রদান, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পরিবহনের সময় সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করে যদি সরকারি-বেসরকারি উদ্যোক্তরা এগিয়ে আসে তাহলে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে হারিয়ে যাওয়া এ মৃৎশিল্প।

বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার পিযুস চন্দ্র দে বলেন, ‘দেশে বিদেশে বাউফলের মৃৎশিল্পের যথেষ্ট সু-খ্যাতি রয়েছে। তাই এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

 

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বাউফল মৃৎ শিল্প

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.1616 seconds.