• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১৫ জুন ২০১৮ ২০:০০:১৭
  • ১৫ জুন ২০১৮ ২০:০০:১৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

ঈদে ঢাকাবাসী ঘুরে আসতে পারেন যেসব জায়গায়

ফাইল ছবি

স্বজনদের সাথে ঈদ করতে ঢাকা ছেড়েছেন রাজধানীবাসী। অনেকে আবার ঈদের ছুটি কাটাবেন বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করে। কিন্তু সবাই কি ঢাকা ছাড়তে পেরেছেন? নাহ! যাদের গ্রামই ঢাকা, অর্থ্যাৎ পৈত্রিক বাড়ি ঢাকাতেই তারাতো আর ঈদে ঢাকা ছাড়তে পারেননি। এছাড়া পেশাগত কারণ, কম সময়ের ছুটি, ঈদে যাত্রা পথের বিড়ম্বনা এড়ানোসহ নানা করণেই অনেকে রয়ে গেছেন ঢাকাতেই। যারা ঢাকাতে ঈদ করবেন তারাও ঈদের এই ফাঁকা ঢাকা এবং এর আশে পাশে বেড়াতে যেতে পারেন। প্রিয় মানুষ ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন ঢাকার কাছেই থাকা সুন্দর সুন্দর সব স্থানে। ঐতিহাসিক এবং প্রাকৃতিক কিংবা রিসোর্ট-পার্ক সবই পাবেন। অল্প সময়ে ঘুরে আসতে একবারে মন্দ না। মুগ্ধতার আবেশও ছড়াবে।

একদিনের ভেতর ঢাকা থেকে ঘুরে আসা যাবে এমন কয়েকটি স্থানের তথ্য তুলে ধরা হলো -

বালিয়াটি জমিদার বাড়ি, মানিকগঞ্জ:

মানিকগঞ্জের বালিয়াটি জমিদার বাড়ি ঢাকার আশপাশে বিখ্যাত জমিদারবাড়িরগুলোর মধ্যে একটি। বেশ নান্দিক স্থাপনা শৈলি এর। শত বছরের ঐতিহ্য বুকে ধারন করে দাঁড়িয়ে আছে এই জমিদার বাড়ি। এই জমিদার বাড়িটি মোট সাতটি স্থাপনালয়ে ২০০টি কক্ষ রয়েছে।

ঢাকা থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরুত্বে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি গ্রামে অবস্থিত। ঢাকার গাবতলী থেকে মানিকগঞ্জের উদ্দেশ্যে ভেম কিছু বাস ছেড়ে যায়। এসব বাসে করে যেতে পারেন। 
তবে ঈদের পরের দিন এটি বন্ধ থাকে।

পানাম নগর, নারায়নগঞ্জ:

পৃথিবীর ১০০টি ধ্বংসপ্রায় ঐতিহাসিক শহরের মধ্যে রয়েছে আমাদের পানাম নগর। এই পানাম নগর যেন ভিন্ন এক জগত। মোঘল আমলের স্থাপনা, পুরানো বাড়ি ঘর এক অন্য রকম আবহাওয়া তৈরি। অল্প সময়ে ভ্রমণের জন্য উৎকৃষ্ট জায়গা। পুরনো বাড়িগুলো দেখে দেখেই দিন পার হয়ে যাবে।

পানাম নগরে যাতায়াত ব্যবস্থাও সহজ। ঢাকার থেকে ২৭ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে নারায়ণগঞ্জ এর খুব কাছে সোনারগাঁতে অবস্থিত এই নগর।

গুলিস্থান থেকে ‘মোগরাপাড়া’ এর যেকোনো বাসে (সোনারগাঁ পরিবহন) করে চলে আসা যায় ‘মোগরাপাড়া’, সেখান থেকে অটোরিকশাযোগে দশ-পনের মিনিটে চলে আসা যায় পানাম নগরীতে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক:

একটু নিরিবিলি প্রাণ প্রকৃতি দেখতে চাইলে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক রয়েছে কাছেই। পশু পাখির হাক ডাক কলতান, বিচরন আর সবুজ গাছ পালায় মুগ্ধ হবেন। ঢাকা থেকে ৪০ কিলোমিটার উত্তরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বাঘের বাজার থেকে ৩ কিলোমিটার পশ্চিমে সাফারী পার্কটির অবস্থান। ৩৬৯০ একর জায়গার উপর নির্মিত হয়েছে এই পার্কটি।

বাঘ, হরিন, বানর, ভাল্লুক, সিংহ, ঘোড়া, গাধা, হাতি, জেব্রা, জিরাফসহ নানা প্রজাতির পাখির দেখা মিলবে। রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ।

ঢাকার গুলিস্থান, মহাখালি, উত্তরা থেকে গাজীপুর গামী বাসে করে যেতে পারবেন সাফারি পার্ক। ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসরড়কের বাঘের বাজার এলাকায় নামতে হবে আপনাকে।

নুহাশপল্লী:

নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ গাজিপুরে নির্মাণ করেন নুহাশ পল্লী। এর আয়তন প্রায় ৪০ বিঘা। প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য নুহাশপল্লী প্রিয় একটি জায়গা। ভিতরে দেখার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিশাল সবুজ মাঠ, প্রায় ২৫০ প্রজাতির গাছ, দাবা খেলার কক্ষ, বৃষ্টিবিলাস ও ভুতবিলাস কটেজ, ঔষধি গাছের বাগান, কনক্রিট দিয়ে তৈরি ডাইনোসারের মূর্তি, লেকের মাঝে বসার জন্য একটি ছোট দ্বীপ এছাড়াও রয়েছে শালবন, অর্কিড বাগান সহ এখানকার তিনটি বাংলো।

ঢাকা থেকে বাসে করে গাজীপুরের হোতাপাড়া বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছাতে হবে। মহাখালী বাসস্টান্ড থেকে ময়মনসিং গামী যেকোন বাসে যাওয়া যায়। ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর বা আজিমপুর থেকে গাজীপুর গামী বাসে করে গেলে চৌরাস্তা পর্যন্ত যাবেন। এরপর চৌরাস্তা থেকে মাওনা গামী লেগুনায় উঠে হোতাপাড়া বাসস্ট্যান্ডে নামুন। এবার হোতাপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে নুহাশপল্লী যেতে পারেন স্থানীয় বিভিন্ন বাহনে।

টাঙ্গাইল জমিদার বাড়ি:

টাঙ্গাইলে ঘুরে বেড়ানো মতো অনেক জায়গার ভেতর মহেরা জমিদার বাড়ি সবচেয়ে সুন্দর। এটি তিনটি স্থাপনা নিয়ে তৈরি। প্রতিটি স্থাপনার প্রতিটাতে অসাধারণ কারুকার্য করা। এসব কারুকার্য দেখলেই মন ভরে যাবে।
বাড়ির ভেতরের দিকে বিশাল খাঁচায় বিভিন্ন রকম পাখি পালা হয়।

টাঙ্গাইল যেতে হলে সকাল সকাল বের হতে হবে। কারণ যেতেই ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা লেগে যাবে। মহাখালি থেকে টাঙ্গাইল যাওয়ার বাস পাবেন সহজে। মহেরা জমিদার বাড়ি যেতে হলে ‘নাটিয়া পাড়া” বাস স্ট্যান্ড এ নামতে হবে। সেখান থেকে রিক্সায় করে সরাসরি জমিদার বাড়ি।

কলাকোপা বান্দুরা, নবাবগঞ্জ:

কলাকোপা বান্দুরা ঘুরে দেখার মতো আরেকটি ঐতিহাসিক জায়গা। বাংলার ইতিহাস ঐতিহ্যের বিশাল এ ভাণ্ডার হতে পারে ভ্রমণ পিপাসু মনের তৃষ্ণা মেটানোর আরেকটি স্থান।

ঢাকা থেকে মাত্র ৩৫ কিলোমিটার দূরের ইছামতী নদী তীরে গড়ে ওঠা প্রায় ২০০ বছরের সমৃদ্ধ এ জনপদ এটি। ঢাকার যান্ত্রিক জীবন থেকে একদমই ভিন্ন রকম পরিবেশ।

গুলিস্তান মাজারের কাছ থেকে কলাকোপা বান্দুরাগামী বাস এন. মল্লিক ছাড়ে প্রতি ঘণ্টায়। এখান থেকে বাসে চেপে ঘণ্টা দুয়েক পরে পৌঁছে যাবেন কলাকোপা বান্দুরা।

রাণীগঞ্জ:

কাপাসিয়ে ব্রিজ এর ডান পাশ দিয়ে একটি রাস্তা ধরে মাইল দশেক গেলেই রানীগঞ্জ। জায়গাটি শীতলক্ষা নদীর তীরে অবস্থিত। এ নদীতে রয়েছে সুন্দর একটি দ্বীপ। তাছাড়া নদীতে নৌকা ভাড়া করে ঘোরা যায়। নদীর ওপারের বাজারে পাওয়া যায় তাজা মাছ যা কোন রেষ্টুরেন্টে দিয়ে রান্না করে খাওয়া যায়।

যেভাবে যাবেন: মহাখালি আইসিডিডিআর  থেকে ঘণ্টায় ঘণ্টায় রানীগঞ্জ এর বাস ছাড়ে। বাসে করে যেতে সময় লাগবে ঘণ্টা দুয়েক। কাপাসিয়ার পর রাস্তা গাছ পালায় ছাওয়া অসাধারন এক রাস্তা।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0182 seconds.