• বিনোদন প্রতিবেদক
  • ১৩ জুন ২০১৮ ১৮:৪২:২৬
  • ১৩ জুন ২০১৮ ১৮:৪২:২৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

মোশারফ-তৌকিরকে নিয়ে ঈদে ছুটবে মিঠুর ‘কমলা রকেট’

ছবি : সংগৃহীত

নূর ইমরান মিঠুকে পিঁপড়া বিদ্যা সিনেমায় নির্মাতা মোস্তফা সারওয়ার ফারুকী পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন নায়ক হিসেবে। সেই সিনেমার ‘হিরো হইতে কি লাগে’ নামক একটি প্রমোশনাল ভিডিও নির্মাণ করেছিলেন ফারুকী। মজার সেই প্রমোশনাল ভিডিওতে দেখা যায় হিরো হওয়ার জন্য কত কাণ্ড কীর্তি করতে হয়েছে মিঠুকে। তবে মিঠুতো আসলে হতে চেয়েছেন পরিচালক। আর পরিচালক হবেন বলেই সিনেমার ভুবনের নানা পথে হেঁটে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করছেন। সেই পথ ধরেই হাঁটতে হাঁটতে মিঠু এখন ‘কমলা রকেট’র নাবিক।

এবারের ঈদটা তার কমলা রকেটেই হবে। নদীর জলে স্রোত কেটে কেটে এগিয়ে যাওয়া একটি কমলা রঙ্গের স্টিমারের ভেতর কত গল্প আছে। সেই গল্পের ভেতর মিঠু দেশের সিনেমা প্রেমিদেরও ঢোকাতে চাইছেন। মিঠুর বিশ্বাস দর্শক এখানে খুঁজে পাবে বাংলাদেশের গল্প। নিজেদের সিনেমা। অন্য কোনো সিনেমার কপিপেস্ট বা নকলের বাতাস এখানে পাওয়া যাবে না। কমলা রকেট একদমই মৌলিক গল্পের সিনেমা। নির্মাণটাও হয়েছে সেই আদলে।

শুক্রবার মুক্তি পাচ্ছে কমলা রকেট। শাহাদুজ্জামানের ‘মৌলিক’ ও ‘সাইপ্রাস’ গল্প অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে ‘কমলা রকেট’। এর চিত্রনাট্য লিখেছেন শাহাদুজ্জামান ও নূর ইমরান মিঠু। পরিচালনা করেছেন মিঠু। ছবিতে অভিনয় করেছেন- মোশাররফ করিম, তৌকীর আহমেদ, জয়রাজ, সামিয়া সাঈদ, সেওতি, ডমিনিক গোমেজ, বাপ্পা শান্তনু, সুজাত শিমুল, শহীদুল্লাহ সবুজ ও আবু রায়হান।

কমলা রকেটের পরিচালক নূর ইমরান মিঠু

মিঠু সিনেমায় যেমন একটি জার্নির গল্প তুলে ধরেছেন অনেক কথা, তেমনি মিঠুর নিজের জার্নিতেও আছে অনেক গল্প। ফরিদপুরের রাজবাড়ি থেকে খুলনা হয়ে ঢাকা। এই হচ্ছে মিঠুর জার্নি। অর্থ্যাৎ রাজবাড়ির ছেলে মিঠু পড়া শুনার তাগিদে গিয়েছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকে সিনেমা বানাতে এলেন ঢাকা। সিনেমা বানাতে এসে পরিচয় মোস্তফা সারওয়ার ফারুকীর সাথে। ক্যামেরার পেছনে কাজ করতে গিয়ে হয়ে গেলেন ক্যামেরার সামনের মুখ। রীতিমত হিরো। মোস্তফা সারওয়ার ফারুকীর অন্যতম আলোচিত ছবি পিঁপড়া বিদ্যার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। সিনেমা আরো একটি করেছেন নুরুল আলম আতিকের পিয়ার সুবাস।

আবার চলে এলেন ক্যামেরার পেছনে। কারণ তার ধ্যান জ্ঞান সিনেমা বানাবেন। গল্প হিসেবে বেছে নিলেন শাহাদুজ্জামানের দুটি ছোট গল্পকে। ভিন্ন রকম দুটি গল্প মিঠু নিয়ে আসলেন একটি গল্পের ভেতর। একটি কমলা রঙ্গের রকেটের ভেতর সেই গল্প বইতে লাগলো। শাহাদুজ্জামান নিজেই সেই গল্পের গতিপথ ঠিক করে দিলেন চিত্রনাট্য লিখে। আর নাবিক হিসেবে মিঠু নির্মাণ করলেন বাংলাদেশের আরেকটি মৌলিক গল্পের সিনেমা- ‘কমলা রকেট’।

নিজের সিনেমা নিয়ে বাংলা’র সাথে আলাপকালে বলেন, ‘গল্প দুটি আমার অনেক ভালো লাগার গল্প। অনেক যত্ন করে বানিয়েছি। এই গল্প আমাদের নিজেদের গল্প। একদমই নিজেদের।’ বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়ে মিঠু  এভাবেই বললেন তার সিনেমার কথা।

মিঠু বলেন, ‘এক বছর ধরে চিত্রনাট্যের কাজ করেছি। স্বল্প পরিসরে হলেও যতটুকু সম্ভব সীমিত সাধ্যের মধ্যে ‘পারফেকশন’ রাখার চেষ্টা করেছি। দর্শকদের ভালো লাগবে আসা করছি। এক বসায় টানটান উত্তেজনা নিয়ে দর্শকরা দেখবে, বোরিং হবে না।’

কিন্তু সিনেমার প্রচার-প্রচারনা তেমন একটা দেখতে পাচ্ছি না। এর উত্তরে নবীন এই পরিচালক সোজা সাপ্টা জানিয়ে দিলেন, ভাই আমারতো স্বল্প বাজেটের সিনেমা। পয়সা নাই ওইভাবে প্রচারের জন্য। নিজের সাধ্যে যতটুকু সম্ভব করেছি। দর্শকদের ভালো লাগলে তারা নিজেরাই প্রচার করবে হয়তো।’

নুর ইমরান মিঠু কিন্তু একটি বড় পরীক্ষায় পাশ করে গেছেন কমলা রকেট নিয়ে। সেটি হলো লেখকের প্রশংসা পাওয়া। সাধারনত নির্মাতাদের পক্ষ থেকে নির্মাণ করে গল্পকারকে সন্তুষ্ট করতে পারাটা অনেক বেশি কঠিন হয়। এ ক্ষেত্রে মিঠু গল্পের লেখক শাহাদুজ্জমানের প্রশংসা পেয়েছেন।

বন্দরে সাইরেন বাজছে…। সিনেমার নদীতে মৃদু কম্পন তুলে শুক্রবারেই যাত্রা শুরু করবে কমলা রকেট। এর নাবিক ইমরানের চোখ সামনের দিকে। অথৈ জল রাশি পেরিয়ে যেতে চায় ইমরান এই কমলা রকেটে চরে। কতদূর যাবে ইমরান? উত্তরটা হয়তো এমন হবে- দর্শক হৃদয়কে যতদূর প্লাবিত করবে কমলা রকেটের ঢেউ…।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.1699 seconds.