• ০৯ জুন ২০১৮ ১৬:০৯:৪৬
  • ০৯ জুন ২০১৮ ১৬:০৯:৪৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

কাঁঠালবাড়ী গণহত্যা দিবস

গণহত্যায় জড়িত তাজুল চৌধুরীর বিচার কতদূরে?

ছবি : সংগৃহীত


জহির রায়হান জুয়েল :


আজ ৯ জুন কাঁঠালবাড়ি গণহত্যা দিবস। শৈশবে পাঠ্যবইয়ের বাইরে এসে যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আমার হৃদয়ে প্রথম প্রবলভাবে প্রোথিত, আন্দোলিত ও উদ্বেলিত করছিল; শহীদদের জন্য নীরবে দুফোটা অশ্রু পড়েছিল সেই কাঁঠালবাড়ি গণহত্যার দিনটি আজ। শ্রদ্ধা কাঁঠালবাড়ি গণহত্যায় নিহত সকল শহীদকে। 

কাঁঠালবাড়ি গণহত্যার কথা উঠলে যে মানুষটির নাম আসে তিনি হলেন তাজুল ইসলাম চৌধুরী। কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য। জাতীয় পার্টির চিফ হুইপ। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত মতে, সেদিন তাজুল চৌধুরীর নেতৃত্বে পাক হানাদার বাহিনী কাঁঠালবাড়িতে গণহত্যা চালায়। কাঁঠালবাড়ী বাজার ও আশেপাশের ৬টি গ্রামে নৃশংস হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয় ৩৫ নিরপরাধ বাঙালিকে। একই সাথে ব্যাপক লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে ধ্বংস্বস্তুপে পরিণত করা হয় বেশকিছু গ্রাম।

৭১’-এর সম্মুখযোদ্ধা আখতারুজ্জামান মন্ডল রচিত ‘উত্তরের রনাঙ্গণ’ বইয়ে ১৯৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা, নির্যাতন ও বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ১৯৭১ সালের ৯ জুন তার নেতৃত্বে কাঁঠালবাড়ী এলাকায় ৩৫ জন মানুষকে হত্যা করার অভিযোগ রয়েছে। একই সাথে ১৯৭১ সালে সদর উপজেলার মোগলবাসা থেকে মুক্তিযোদ্ধা ডোমাস চন্দ্র ও আবদুল করিমকে ধরে এনে হত্যার অভিযোগ রয়েছে সাংসদ তাজুলের বিরুদ্ধে [সূত্র: প্রথম আলো, ১২ জানুয়ারি ২০১৪]।

২০১০ সালে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে প্রেরিত প্রতিবেদনে কুড়িগ্রামের দালাল ও শান্তি কমিটির সদস্যদের ১৫ জনের যে নামের তালিকা দেওয়া হয় সেখানেও একমাত্র জীবিত রাজাকার হিসেবে তার নাম পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, তাজুল চৌধুরীর উপস্থিতিতে ৯ জুন সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ও এর আশেপাশের গ্রামগুলোতে পাকিস্থানি বাহিনী গনহত্যা, লুটপাট, এবং কাঁঠালবাড়ী বাজারসহ অসংখ্য বাড়িঘর পুড়িয়ে দেন।

২০১০ সালে জেলা প্রশাসকের দেয়া চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সহযোগী কুড়িগ্রামের ১ হাজার ৭৪৫ জন রাজাকার এবং ১৫জন দালাল ও শান্তি কমিটির সদস্যের তালিকা এবং তাদের অপকর্মের বিবরণ তৈরি করে জমা দেন। তালিকার সাথে দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখিত ১৫ জন দালাল ও শান্তি কমিটির সদস্যদের মধ্যে ১৪ জন ইতোমধ্যে মারা গেছেন। জীবিতদের মধ্যে রয়েছেন শুধু ১জন। তিনি হলেন সাবেক মন্ত্রী ও বিরোধী দলের চীফ হুইপ নেতা তাজুল ইসলাম চৌধুরী।

বলতে লজ্জা হয়, রাজনীতিতে আবার পুনর্বাসিত হয়েছে ডিগবাজির পুরোধা তাজুল চৌধুরী। ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বীরপ্রতীক আব্দুল হাই যুদ্ধাপরাধী বিষয়ে কাঁঠালবাড়ী গণহত্যা নিয়ে সদর থানাতে ডায়েরি ও মুক্তিযোদ্ধা ডোমাস চন্দ্র ও আবদুল করিমকে মোগলবাসা থেকে ধরে এনে হত্যার অভিযোগে জেলা জজ আদালতে মামলা করলে যে তাজুল চৌধুরী চুপসে গিয়েছিল সেই ব্যক্তি আমাদের দেশের অপরাজনীতির সুবাদে এখন ‘জাতীয়!’ নেতা। অন্য দল হলে ভিন্ন কথা। কিন্তু খোদ মুক্তিযুদ্ধের নেত্বত্ব দেওয়া দলটি যখন সরকারে আছে, যুদ্ধাপরাধীর বিচার করছে, ইতিমধ্যে সাজা প্রাপ্তও হয়েছে দুজন রাজাকার; তখন রাজনীতির আশ্রয়-প্রশ্রয়ে রাজাকার তাজুল চৌধুরী বুক ফুলিয়ে হাঁটবেন, এটা মেনে নেয়া যায় না। 

আশার কথা এই যে, মানুষ জাগছে। বিশেষ করে যে লাখ লাখ তরুণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বক্ষে ধারণ ও লালন করে চিহিৃত রাজাকারদের বিচারের দাবিতে গণজাগরণ মঞ্চের সৃষ্টি করেছে সেই তারুণ্য সারা দেশের প্রকম্পিত রাজপথে আলোর মশাল জ্বালিয়ে রাখছে। কাজী নজরুলের ভাষায়, এই যৌবন জলতরঙ্গ রুখিবে কি করে বালির বাঁধ! আশা রাখি, একদিন নিশ্চয় যুদ্ধাপরাধীর দায়ে তাজুল ইসলাম চৌধুরীর বিচার হবে। আমরা তার বিচার ও শাস্তি দাবি করি।

লেখক : সাংবাদিক

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.2229 seconds.