• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১৩ জানুয়ারি ২০১৭ ১৫:৪০:৪৫
  • ১৩ জানুয়ারি ২০১৭ ১৫:৪০:৪৫
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

উপাদেয় বোরহানিতে শতভাগ ভেজাল!

পুরনো ছবি

উপাদেয় পানীয় বোরহানি। বিরিয়ানি কিংবা তেহারির সঙ্গে বেশ জমে। মসলাদার এ পানীয় কম-বেশি সবার কাছেই প্রিয়। তবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে বিক্রি হওয়া বোরহানির শতভাগই ভেজাল বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

সম্প্রতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে বোরহানির নমুনা সংগ্রহ করে। পরে মাইক্রোবায়োলজিক্যাল পরীক্ষায় এর শতভাগেই ভেজাল পাওয়া যায়। ভেজাল এসব বোরহানি খেলে নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জনস্বাস্থ্য খাদ্য পরীক্ষাগার কর্তৃপক্ষ রাজধানীর আওতাধীন এলাকা থেকে তিনটি বোরহানির নমুনা সংগ্রহ করে। পরে জনস্বাস্থ্য পরীক্ষাগারে এর চারটি মাইক্রোবায়োলজিক্যাল পরীক্ষা করা হয়। এ পরীক্ষার দুটিতেই মাত্রাতিরিক্ত ভেজাল শনাক্ত হয়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক বেলাল হায়দার এ বিষয়ে বলেন, বোরহানিতে মাত্রাতিরিক্ত ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক বা ফাঙ্গাস থাকলে তা খাওয়ার পর মানুষ খাদ্য বিষক্রিয়াজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে। অন্ত্রে সংক্রমণ ও বদহজম হতে পারে।

রাজধানীর পুরান ঢাকায় রয়েছে অসংখ্য বিরিয়ানি, পোলাও ও তেহারির দোকান। এসব দোকানেই বোরহানি বিক্রি হয়ে থাকে। শুধু পুরান ঢাকাই নয়, রাজধানীসহ সারা দেশেই এমন বোরহানির প্রচলন রয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জনস্বাস্থ্য পরীক্ষাগার সূত্রে জানা গেছে, বোরহানির চার ধরনের পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা চারটি হচ্ছে— এপিসি অর্থাত্ অ্যারোবিক প্লেট কাউন্ট, সিপিইউ বা কলোনি ফর্মিং
ইউনিটস, ইস্ট ও মৌল্ড। চারটি নমুনা পরীক্ষা করে দুটিতেই মাত্রাতিরিক্ত ভেজাল শনাক্ত করা হয়।

জনস্বাস্থ্য ল্যাবের সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতি মিলিলিটারে এপিসি বা ব্যাকটেরিয়ার সহনীয় মাত্রা হচ্ছে ১০ হাজার। কিন্তু পরীক্ষায় এর চেয়ে অনেক বেশি ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তেমনিভাবে প্রতি মিলিলিটারে মৌল্ডের মাত্রা ১০ হলেও নমুনা পরীক্ষায় অসংখ্য ছত্রাক বা ফাঙ্গাস পাওয়া গেছে। তবে ইস্ট ও কলোনি ফর্মিং ইউনিটস পরীক্ষা করে নির্ধারিত মাত্রা পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে অধিক পরিমাণে ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক বা ফাঙ্গাস থাকলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে এতে ধুলাবালির উপস্থিত থাকায় জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এতে মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (সিএইচও) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. শেখ সালাউদ্দিন বলেন, নগরবাসীর সুস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সারা বছরই বিভিন্ন খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ করে এবং ওইসব খাবারে কী পরিমাণ ভেজাল রয়েছে, তা শনাক্ত করে থাকে। জনস্বাস্থ্যের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

 

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বোরহানি ভেজাল

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0190 seconds.