• বিদেশ ডেস্ক
  • ১৮ মার্চ ২০১৮ ১৪:০৬:১৬
  • ১৮ মার্চ ২০১৮ ১৪:০৬:১৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

ছেলের নাম ট্রাম্প, বিপাকে বাবা-মা

ছবি : সংগৃহীত

আফগানিস্তানের নাগরিক সাঈদ আসাদুল্লাহ পোয়া পেশায় একজন শিক্ষক। কিছুদিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে লেখা বই পড়ে অনুপ্রাণিত হয়ে ছেলের নাম রাখেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু ছেলের এই নামই বিপাকে ফেলেছে সাঈদ ও তার স্ত্রীকে। ছেলের নামের কারণে পরিবারের সঙ্গে বিচ্ছেদসহ সাঈদকে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়া হচ্ছে।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কয়েক মাস আগে আফগানিস্তানের দাইকুন্দি প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন শিশুটি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে লেখা ‘‘হাউ টু গেট রিচ” বই পড়ে অনুপ্রাণিত হয়ে সাঈদ তাঁর ছেলের নাম রাখেন ট্রাম্প। তিনি তখন ভেবেছিলেন তার ছেলেও বড় হয়ে সফল হবে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ছবি দেখে সে খুশি হবে।

কিন্তু পরিস্থিতি পাল্টে যেতে বেশি সময় লাগেনি। সাঈদের বাবা-মা নাতির অমসুলিম নাম রাখায় তাদের ছেড়ে চলে যায় এবং আত্মীয়-স্বজনরাও সম্পর্ক ছিন্ন করে।

শুধু আত্মীয়-স্বজন নয়, নিজেদের তৃতীয় সন্তানের নাম ট্রাম্প রেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ভীতি এবং সমালোচনার শিকার হচ্ছেন এই দম্পতি। তারা ছেলেকে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়ার আশঙ্কাও করেছে।

শিশুটির বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, কেউ তাঁর ছেলের ছবি সোশাল মিডিয়ায় পোষ্ট করে দেয়৷ এরপরই বিতর্ক শুরু হয়। এই কারণেই তাঁকে তাঁর ফেসবুক একাউন্টও বন্ধ করে দিতে হয়৷ এমনকি তাঁর প্রতিবেশীও তাঁকে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বলছে ও ভয় দেখাচ্ছে৷

আবার কেউ কেউ বলছে, সাঈদ চালাকি করে ছেলের নাম ট্রাম্প রেখে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করছে।

তবে এ অভিযোগ তীব্রভাবে অস্বীকার করে সাঈদ এএফপিকে বলেন, ‘আমি শুরুতে ভাবতেই পারিনি এই নাম নিয়ে দেশের মানুষ এতো বেশি স্পর্শকাতর হবে।’

এমনকি শিয়া অধ্যুষিত যে এলাকায় তারা বসবাস করছে, সেখানকার লোকজনও তাদের এলাকা ছাড়তে বলছে বলে জানান সাঈদ। তিনি বলেন, ‘আমি যখন বাইরে যাই তখন আমি ভয় অনুভব করি।’ পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে এখন শঙ্কিত সাঈদ। তবে এরপরও তিনি ছেলের নাম পরিবর্তনের পক্ষে না।

ছেলের অমুসলিম নাম রেখে তারা কোন আইন ভঙ্গ করেছে কিনা জানতে চাইলে কাবুলের জনসংখ্যা নিবন্ধন অফিসের উপদেষ্টা বলেন, ‘ছেলের নাম যা খুশি তাই রাখার আইনগত অধিকার তাদের রয়েছে, এমনকি সেটা আমেরিকার প্রেসিডেন্টও হতে পারে।’

বাংলা/এমআর

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.1715 seconds.