• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১৭ মার্চ ২০১৮ ২০:৩৫:১৮
  • ১৭ মার্চ ২০১৮ ২০:৫৬:৫৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

‘এগিয়ে যেতে হলে সেক্রিফাইস মেন্টালিটি থাকতে হবে’

রাকিবুল হোসেন রাকিব। ছবি : সংগৃহীত

প্রায় প্রতিটি মানুষের সফল হওয়ার পিছনে রয়েছে কিছু গল্প। আর সেসব গল্প থেকে মানুষ খুঁজে নেয় স্বপ্ন দেখার সম্বল, এগিয়ে যাওয়ার নতুন প্রেরণা। তাই আমরা কর্পোরেট জগতের তেমনি কিছু সফল মানুষের সফলতার গল্প তুলে ধরছি বাংলা ডট রিপোর্ট'র পাঠকদের জন্য।

আজ যার গল্প বলব তিনি রাকিবুল হোসেন রাকিব। স্টার প্যারাডাইস প্রতিষ্ঠানের ন্যাশনাল সেলস ম্যানেজার- সেলস এবং মার্কেটিং। কর্পোরেট জগতের এমন গুরুত্বপূর্ণ আসনে নিজেকে পৌঁছাতে তার কম সংগ্রাম করতে হয়নি। জীবনের বাক বদলের খেলায় কখনো কখনো হোঁচট খেলেও তিনি লড়াই করে গেছেন শক্ত হাতে। বাধা এসেছে তবে থেমে যাননি। তার এই সংগ্রামের বিজয়ী যাত্রা আগামীর নেতৃত্বকেও প্রেরণা যোগাবে। বাংলা ডট রির্পোটের সাথে এক আড্ডায় উঠে এলো সেই সব সংগ্রামের গল্প।

রাকিবুল হোসেন রাকিব জন্ম ১৯৮২ সালের টাঙ্গাইল জেলায়। বাবা পেশায় ব্যবসায়ী আর মা গৃহিণী। এক ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি বড়। টাঙ্গাইলে সুতিভিএম পাইলট হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং মধুপুর শহিদ সৃতি হাই স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করেন। এরপর চট্রগ্রাম ইউনিভার্সিটি থেকে মার্কিটিং এর উপর বিবিএ ও এমবিএ শেষ করেন। আলোচনার এক ফাঁকে তিনি বলেন ছোট বেলায় পড়াশুনার থেকে খেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন বেশি। ক্রিকেট খুব বেশি পছন্দ করতেন আর তাই মাধমিক পরীক্ষা চলাকালিন গণিত পরীক্ষার আগের রাতে পড়া ফেলে লুকিয়ে খেলা দেখতে গিয়ে বাবার কাছে ধরা পড়েন। পরীক্ষা পাশ করবি? বাবার এমন প্রশ্নে রাকিব মৃদু হেসে উত্তর দেন- হ্যা তা তো আমি করবোই। কিন্তু সব কিছুর পরও ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বাবা একটু চিন্তিতই ছিলেন। আর সে শঙ্কা কাটিয়ে কিভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সেই গল্পই বলেন তিনি।

বাংলা : সরকারি চাকরি বা ব্যাংক চাকরির জন্য চেষ্টা করেননি।তাহলে ছোট বেলা থেকে স্বপ্ন ছিল কি... প্রাইভেট জব করবেন?

রাকিবুল ইসলাম : না! আসলে ছোট বেলা থেকে ইচ্ছে ছিলো ক্রিকেটার হবো। যদিও বয়সের সাথে ইচ্ছেরও পরিবর্তন হয়েছে।আসলে আমার ছোটবোন অনেক মেধাবি ছিলো ওর ইচ্ছে ছিলো ফাইনান্স আর আমি মার্কেটিংএ পড়বো। এরপর দুজন মিলে নিজেদের একটা ব্যবসা শুরু করবো। কিন্তু পরে আর তা সম্ভব হয়নি।

বাংলা : এই অবস্থানে আসার পেছনে আপনার শুরুটা বলেন...

রাকিবুল ইসলাম : আমার প্রথম চাকরির শুরুটাই আমার আজকের দিনের কিছুটা ভিত গড়ে দেয়। আমি প্রথম কাজ শুরু করি চট্রগ্রামে আবুল খায়ের গ্রুপে। টেরিটরি সেলস ম্যানেজার হিসেবে। যেটা আমার কাছে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ ছিলো। কারণ আমার আগে এই পোস্টটিতে থাকা দুইজন খুব বেশিদিন থাকতে পারেনি তাই অনেকে মনে করেছিলো আমিও পারবো না। কিন্তু আমি সেটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি এবং সেখানে আমার পছন্দের গোলাম সরোয়ার স্যারের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। আমি তাঁর কাছে অনেক কৃতজ্ঞ।তিনিই আমাকে সাহস যুগিয়েছেন যার জন্য হয়তো অল্প সময়ের মধ্যে আমি প্রোমোশন পেয়ে রিজনাল সেলস ম্যানেজার হই। এরপর ট্রান্সকম, মেঘনা গ্রুপ, এসএসজির মত প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। আর প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানেই ভালো কিছু অভিজ্ঞতা নিয়ে এখন অনেকটাই সুনামের সাথে ন্যাশনাল সেলস ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছি স্টার প্যারাডাইসে।

বাংলা : একটি প্রতিষ্ঠান ছেড়ে অন্যত্র যাওয়ার কারণ কি ছিলো?

রাকিবুল ইসলাম : দেখেন যে কয়টিতে কাজ করেছি প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানই অনেক ভালো। আমি প্রত্যেকটিতে চেষ্টা করেছি ভালো করার ও সততার সাথে কাজ করার। আর আমি সেটা হয়তো পেরেছি তাই হয়তো আমার সহকর্মীসহ প্রতিষ্ঠানের সবাই আমার উপর খুশি ছিলো। আর অভিজ্ঞতা সঞ্চার করতে পরিবর্তন করা যেতেই পারে। আমি এখন যেখানে আছি এইখানেও আমি চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করছি। আশানুরূপ ফল পাচ্ছি।

বাংলা : স্টার প্যারাডাইস সম্পর্কে জানতে চাই...

রাকিবুল ইসলাম : স্টার প্যারাডাইস ২০১৬ সালের নভেম্বরে বাজারে আসে। মাত্র এক বছর তিন মাসে আমরা বাজারে খুবই ভালো একটি যায়গায় আসতে পেরেছি। এতো অল্প সময়ে আমার মনে হয়না অন্য কোন প্রতিষ্ঠান এমন একটি অবস্থান তৈরি করতে পেরেছে। এ জন্য আমরা খুবই আনন্দ। আমাদের প্রধান পণ্যগুলোর মধ্যে সুইচ সকেট আইটেম, সার্কিট ব্রেকার, এলইডি লাইট, তুফান ফ্যানসহ আরো অনেকগুলো পণ্য ইতোমধ্যে বাজারে খুব ভালো বিক্রি হচ্ছে।

বাংলা : কোন পণ্যটি বাজারে এখন বেশি বিক্রি হচ্ছে?

রাকিবুল ইসলাম : আমাদের সুইচ সকেট ভালো চলছে এবং আমাদের নতুন একটি পণ্য তুফান ফ্যান যা ইতোমধ্যে বাজারে খুব বেশি সাড়া ফেলেছে।

বাংলা : প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা?

রাকিবুল ইসলাম : আমাদের ভবিষ্যতে পরিকল্পনা আছে একটি বাড়ির ইলেকট্রিকাল যাবতীয় যা যা প্রয়োজন সকল পণ্য ভালো মানের এবং সাধ্যের মধ্যে বাজারে নিয়ে আসা।

বাংলা : এবার একটু পিছনে যাই...জীবনের এতদূর আসার পিছনে সহযোগিতা কার বেশি ছিলো?

রাকিবুল ইসলাম : আমি এখনো পর্যন্ত কষ্ট করে যাচ্ছি, পরিশ্রম করে যাচ্ছি। আরও ভালো কাজ করতে চাই। আমার এতোটুকু আসার পিছনে অনেকেরই সহযোগিতা ছিলো। তাদের মধ্যে যাদের কথা না বললেই নয় তারা হচ্ছে আমার শ্রদ্ধেয় বাবা-মা। সব সময় বাবা-মা’র সাপোর্ট পেয়েছি বলেই আজ আমি কিছুটা হলেও সফল। আর এখন সাথে আমার সহধর্মীনি, যে আমাকে প্রতিনিয়ত সাপোর্ট দিচ্ছে। এ ছাড়া অনেকের সহযোগিতা ছিলো যাদের কাছে আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।

বাংলা : তরুণদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন..

রাকিবুল ইসলাম : আমার মতে ইচ্ছাশক্তি, ধ্যান ধারনা ঠিক রাখতে হবে। তরুণ যারা পড়াশুনা শেষ করে চাকরির কথা চিন্তা করছেন তাদের সেক্রিফাইস মেন্টালিটি থাকতে হবে। কষ্ট করতে হবে, তাহলে সাফল্য অনিবার্য।

বাংলা : ধন্যবাদ আপনাকে

রাকিবুল ইসলাম : আপনাকে এবং বাংলা ডট রিপোর্টকে অনেক ধন্যবাদ।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0229 seconds.