• বাংলা ডেস্ক
  • ১৩ মার্চ ২০১৮ ২১:৪১:৩৪
  • ১৩ মার্চ ২০১৮ ২১:৪১:৩৪
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
advertisement

বিধ্বস্ত বিমানটি ছিল ফোর্থহ্যান্ড

ছবি : সংগৃহীত

নেপালের ত্রিভুবন বিমান বন্দরে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ড্যাশ-৮ কিউ-৪০০ মডেলের বিমানটি এর আগে আরো তিনটি বিমান পরিবহন সংস্থায় ছিল। ফোর্থহ্যান্ড হিসেবে বিমানটি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসে যুক্ত হয়। ২০০১ সালে নির্মিত উড়োজাহাজটি এর আগে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এয়ারলাইনস (এসএএস), রয়্যাল জর্ডানিয়ান এয়ারলাইন ও অগসবার্গ এয়ারওয়েজের ফ্লাইট পরিচালনায় ব্যবহার হয়েছে।

বিমানটি নির্মাণ করেছিল ​কানাডীয় কোম্পানি বোম্বার্ডিয়ার।

বেসামরিক বিমান চলাচলবিষয়ক সংবাদ পোর্টাল এভিয়েশন হেরাল্ড জানিয়েছে, ৭৮ আসনের উড়োজাহাজটি নির্মাণের পর প্রথম ব্যবহার করে সুইডেনের এসএএস। এরপর রয়্যাল জর্ডানিয়ান এয়ারলাইন উড়োজাহাজটি ইজারা নেয়।

জর্ডানের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে এটি যায়, অগসবার্গ এয়ারওয়েজের পরিচালনায়। জার্মান আঞ্চলিক ফ্লাইট অপারেটর অগসবার্গ এয়ারওয়েজের পর ২০১৪ সালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের নিয়ন্ত্রণে আসে উড়োজাহাজটি।

এয়ারলাইভডটনেটে তিনি লিখেছেন, একাধিকবার এ উড়োজাহাজের ল্যান্ডিং গিয়ার ফেইলিউরের ঘটনা ঘটে।

২০০৭ সালে এসএএসের ফ্লাইট পরিচালনাকালে প্রথম এ ত্রুটি ধরা পড়ে। এ রকম তিনটি ঘটনার পর এসএএস কর্তৃপক্ষ তাদের সবক’টি ড্যাশ ৮-৪০০ উড়োজাহাজ গ্রাউন্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১৫ সালে বাংলাদেশেও উড়োজাহাজটির ল্যান্ডিং গিয়ার ফেল হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে এই মডেলের বিমানের বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই বিমান দুর্ঘটনা কবলিত হয়েছে। নেপালে বিধ্বস্ত ইউএস বাংলার বিমানটি ১৬ বছরের পুরাতন।

১৯৮২ সালে ৯ মে ইয়েমেনের এডেনের কাছেই এই মডেলের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাগরে পড়ে যায় বিমানটি। এতে ২১ যাত্রী ও ২ ক্রু প্রাণ হারান। এর ছয় বছর পর নরওয়েতে আবারও ড্যাশ সেভেন মডেলের বিমান দুর্ঘটনা কবলিত হয়। এতে ৩৬ জন আরোহীর সবাই নিহত হন।

বোমবার্ডিয়ার ড্যাশ-৮ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা ঘটে ১৯৮৭ সালে। সে বছরের ১৯ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে যাওয়ার পথে ইঞ্জিন বিস্ফোরিত হয় বিমানটির। আগুন লেগে বিধ্বস্ত হয় বিমানটি। তবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল যাত্রী ও ক্রুদের। গুরুতর আহত হয়েছিলেন চারজন।

একবছর বছরপরই আবারও দুর্ঘটনায় পড়ে এই মডেলের বিমান। যাত্রাপথ এবারও একই। হাইড্রলিক সিস্টেমে আগুন ধরে যায়। সৌভাগ্যবশত সেবারও যাত্রীরা বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত হয়েছিলেন চারজন।

এরপর ১৯৯০ সালে ব্যাংকক এয়ারওয়েজের একটি বিমান দুর্ঘটনায় পড়ে। ব্যাংকক থেকে কো সামুই দ্বীপে যাচ্ছিল বোমবার্ডিয়ার ড্যাশ এইট মডেলের বিমানটি। তবে ভারী বর্ষণের এলাকায় গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন পাইলট। এরপর একটি নারিকেল গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে বিধ্বস্ত হয় বিমানটি। নিহত হন ৩৩ জন যাত্রী ও পাঁচজন ক্রু।

১৯৯৩ সালের ৬ জানুয়ারি ফ্রান্সের প্যারিসে ড্যাশ-৮ বিমান বিধ্বস্ত হয়। জার্মানির ব্রিমেন বিমান বন্দর থেকে বিমানটি ১৯ যাত্রী নিয়ে আসছিল। বিমানে চারজন ক্রু ছিলেন। প্যারিস বিমানবন্দরে অবতরণের সময় রানওয়ে পরিবর্তন করতে বলা হলে পাইলট তার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এতে চার ক্রু গুরুতর আহত হন। ১৯ যাত্রীর মধ্যে চারজন নিহত হন।

১৯৯৫ সালের ৯ জুন নিউজিল্যান্ডে ড্যাশ-৮ এর আরও একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়। খারাপ আবহাওয়ার কারণে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিমানটিতে তিনজন ক্রু এবং ১৮ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনায় একজন ক্রু ও চারজন যাত্রী মারা যান।

২০০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নিউইয়ার্কের বাফেলোর কাছাকাছি ড্যাশ-৮ বিমান বিধ্বস্ত হয়। বাফেলো বিমানবন্দর থেকে প্রায় সাত মাইল দূরে একটি বাড়ির ওপরে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এতে বাড়িটি ধ্বংস হয়ে যায় এবং বিমানটিও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বিমানে থাকা ৪৫ যাত্রী ও চার ক্রু নিহত হন।  

সর্বশেষ সোমবার (১২ মার্চ) নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ইউএস-বাংলার বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিমানের ৫০ আরোহীর প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করেছে নেপালের সেনাসূত্র। ৯ জনের নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়েছে তারা। নেপাল টাইমস এর খবরে বলা হয়েছে, ৭৮ জনকে ধারণে সক্ষম ওই বিমানে চার ক্রু ও ৬৭ যাত্রী মিলে ৭১ জন আরোহী ছিল। বিমানের ৩২ আরোহী বাংলাদেশি, ৩৩ জন নেপালি, ১জন চীনা ও ১ জন মালদ্বীপের।

সূত্র : এভিয়েশন হেরাল্ড ও এয়ারলাইভডটনেট

advertisement

আপনার মন্তব্য

advertisement
Page rendered in: 0.1724 seconds.