• বিনোদন প্রতিবেদক
  • ১২ মার্চ ২০১৮ ১৫:৪৫:০৮
  • ১৩ মার্চ ২০১৮ ১৫:১৮:২২
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
advertisement

শাকিব-অপুর স্থায়ী বিচ্ছেদ

অবশেষে দু’জনার দুটি পথ দু’দিকে গেল বেঁকে এবং সেটি স্থায়ীভাবে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের দেয়া তথ্যানুযায়ী সোমবার (১২ মার্চ) আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের ডিভোর্স।

এমন দাবি করে সংস্থাটির অঞ্চল ৩-এর নির্বাহী কর্মকর্তা হেমায়েত হোসেন বলেন, ‘শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের তালাকের বিষয়ে তৃতীয় ও শেষ শুনানি ছিল ১২ মার্চ। আপস-মীমাংসার জন্য নিয়মানুযায়ী তাদের ডাকা হয়েছিল। এর আগে ১২ জানুয়ারি ও ১২ ফেব্রুয়ারি তাদের ডাকা হয়। ১২ জানুয়ারি অপু বিশ্বাস উপস্থিত হলেও অন্য দুটি তারিখে তিনি আসেননি। আর শাকিব খান কোনো তারিখেই উপস্থিত হননি। বিধিবদ্ধ সময়সীমা ৯০ দিন উত্তীর্ণ হওয়ায় সালিশ মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। ১২ মার্চ থেকে তালাক কার্যকর হচ্ছে।’

প্রথমবার সালিশে উপস্থিত হয়ে অপু বিশ্বাস শাকিব খানের সঙ্গে সংসার করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

কিন্তু শাকিব খানের অনুপস্থিতির কারণে সেই সমঝোতা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।

যদিও ডিভোর্স এবং সমঝোতার ব্যাপারে শাকিব খান শুরু থেকেই বলে আসছেন, ‘এ ব্যাপারে আমি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি সেটি ফাইনাল। বাকি কার্যক্রম আমার আইনজীবী সম্পন্ন করবেন। সেখানে আমার উপস্থিত হওয়া না হওয়ায় কিছু যায় আসে না।’

ডিভোর্স কার্যকরের বিষয়ে অপু বিশ্বাস বলেন, ‘এ নিয়ে আর নতুন করে কিছু বলতে চাই না। আমি চেষ্টা করেছি সংসার করতে। কিন্তু সে চায়নি। এখন আমি ছেলে ও কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকতে চাই। ছেলেটাকে মানুষের মতো মানুষ করতে চাই। এটাই আমার ব্রত। অন্যকিছু এখন আর ভাবতে চাই না।’

এদিকে শাকিব খান-অপু বিশ্বাসের ডিভোর্স কার্যকর নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী আফতাবউদ্দিন সিদ্দিকী রাগিব। তিনি বলেন, ‘১২ মার্চ নয়, শাকিব-অপুর তালাক কার্যকর হয়েছে ২১ ফেব্রুয়ারি। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন কর্মকর্তা ডিভোর্সের ব্যাপারে ভুল তথ্য দিচ্ছেন বা দিয়েছেন।’

এ আইনজীবী বিষয়টি এভাবে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘স্বামী বা স্ত্রীকে তালাকের লিখিত নোটিশ বা চিঠি দিলেই তা কার্যকর হয় না। সেটি হয় ৯০ দিন পর। বিভ্রান্তিটা ওই ৯০ দিন সময় গণনা নিয়ে। তালাক দিতে গেলে স্বামী বা স্ত্রীকে তালাকের নোটিশ দিতে হয়। কিন্ত স্বামী বা স্ত্রীকে নোটিশ প্রদানের সঙ্গে ওই ৯০ দিন সময় গণনার আইনানুগ কোনো সম্পর্ক নেই। সেই সম্পর্ক ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভার চেয়ারম্যান কিংবা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালাকের নোটিশ প্রদানের সঙ্গে। যে তারিখে মেয়র বা চেয়ারম্যানকে নোটিশটি পাঠানো হচ্ছে, সেদিন থেকে ৯০ দিনের সময় গণনা শুরু হয়। কোনো তারিখে স্ত্রী বা স্বামীকে নোটিশটি দেয়া হল, কোনো তারিখে তারা সেটি পেলেন তা সময় গণনায় আইনের চোখে তা বিবেচ্য বিষয় নয়। মাঝখানে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে রাত্রি যাপনের মাধ্যমে বা আপস-মীমাংসা বা অন্যভাবে তালাক প্রত্যাহার করা না হলে, চেয়ারম্যান বা মেয়র নোটিশ প্রদানের ৯০ দিন পর ওই তালাক স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়ে যাবে। তবে তালাক দেয়ার সময় স্ত্রী যদি গর্ভবতী হয়, সেক্ষেত্রে ৯০ দিন শেষ হলেও সন্তান ভূমিষ্ঠ না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হয় না। আইনের বিধান মোতাবেক, ওই একটি কারণ ছাড়া, সিটি কর্পোরেশনের আপস-মীমাংসা বা তালাক বিষয়ে শুনানির জন্য বা অন্য কোনো কারণে, তালাক কার্যকর কারণে ওই নির্দিষ্ট ৯০ দিন সময়-সীমা কোনো ভাবে, কোনো পরিস্থিতিতে বাড়ানোর সুযোগ নেই।’

এ আইনজীবী আরও বলেন, ‘তালাক কার্যকর বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের (ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা-যেটি প্রযোজ্য) কর্মকাণ্ড খুবই ক্ষীণ। আইনের বিধান হল, তালাকের একটি নোটিশ স্বামী বা স্ত্রীর কাছে যাবে। আরেকটি নোটিশ সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের (ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা চেয়ারম্যান-যেটি প্রযোজ্য) কাছে যাবে। নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে কর্পোরেশন উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে সালিশি পরিষদ গঠন করবে এবং  বিষয়টি আপস-মীমাংসার চেষ্টা করবে। তাদের ক্ষমতা বা দায়-দায়িত্ব আপস-মীমাংসার উদ্যোগেই সীমাবদ্ধ। তাদের উদ্যোগে পক্ষরা সাড়া দিতেও পারে, আবার নাও নিতে পারে। তাতে কিছু যায় আসে না। ওই উদ্যোগে সাড়া দেয়া-না দেয়া, সালিশি পরিষদের সিদ্ধান্ত বা মতামত গ্রহণ বা বর্জন পক্ষদ্বয়ের একান্ত ঐচ্ছিক বা ব্যক্তিগত বিষয়। এখানে তাদের কাউকে বাধ্য করার আইনানুগ কোনো সুযোগ নেই। তালাক কার্যকর হওয়ার সঙ্গে এই উদ্যোগের সরাসরি কোনো সম্পর্কও নেই। সিটি কর্পোরেশন যদি এখানে কোনো সমঝোতার উদ্যোগ না নেয় বা পক্ষরা যদি তাতে সাড়া না দেন, ৯০ দিন পর (পূর্ব উলি­খিত সময় গণনা শেষে) তালাক স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়ে যাবে। তাই শাকিব-অপুর তালাক বিষয়ে তৃতীয় ও শেষ শুনানি ১২ মার্চ হবে বা হয়েছে এবং এ দিন ডিভোর্স কার্যকর হয়েছে এসব বক্তব্যের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।’

এ আইনজীবী বিষয়টি আরও ব্যাখা করে বলেন, ‘অপুকে পাঠানো তালাকের নোটিশে দেখা যায়, সেখানে তালাকের তারিখটি ‘২২ নভেম্বর ২০১৭’ উলে­খ করা হয়েছে।’

তাছাড়া গণমাধ্যমেও শাকিবের আইনজীবী বলেছেন, ‘শাকিবের পক্ষে ২২ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে তিনি অপুকে ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে তালাকের লিখিত নোটিশ প্রেরণ করেন। আইনের বিধান মোতাবেক, ৯০ দিন সময় গণনা ওই ২২ নভেম্বরই শুরু হয়েছে। যেহেতু তালাকটি সমঝোতা বা অন্যভাবে প্রত্যাহার হয়নি, সে হিসেবে ২০ ফেব্রয়ারি ২০১৮ তারিখে ৯০ দিন  (নভেম্বর ‘১৭-এর ৮ দিন + ডিসেম্বর’ ১৭-এর ৩১ দিন + জানুয়ারি ১৮-এর ৩১ দিন + ফেব্রুয়ারি ১৮-এর ২০দিন = ৯০দিন) পূর্ণ হয়েছে এবং ২১ ফেব্র“য়ারি ২০১৮ তারিখ শাকিব-অপুর তালাক কার্যকর হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল গোপনে বিয়ে করেন দেশীয় চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় জুটি শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস। ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাদের ঘর আলোকিত করে আসে সন্তান আব্রাম খান জয়। ক্যারিয়ারের কথা ভেবে শাকিব-অপু দু’জনেই সন্তানের জন্মের বিষয়টি গোপন রাখেন। কিন্তু গত বছর ১০ এপ্রিল একটি টিভি চ্যানেলের লাইভে এসে বিয়ে ও সন্তানের খবর ফাঁস করেন অপু বিশ্বাস। বিয়ের খবর প্রকাশের পর থেকেই দু’জনের সম্পর্কে ফাটল ধরে। এবং সেটি শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদের মাধ্যমেই শেষ হয়।

 

 

advertisement

আপনার মন্তব্য

advertisement
Page rendered in: 0.1733 seconds.