• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১৩:৫৭:১৯
  • ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১৩:৫৭:১৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

জীবনানন্দের জন্মদিন

প্রকৃতির শুদ্ধতম কবিকে অভিবাদন

কবি জীবনানন্দ দাশ। ছবি: সংগৃহীত

কবি কুসুম কুমারী দাশ লিখেছিলেন সেই বিখ্যাত কবিতা- ‘আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে’। ১৮৯৯ সালের এই দিনে ( ১৮ ফেব্রুয়ারি) তার কোল জুড়ে জন্ম নিলো এক সন্তান। মায়ের কবিতার মতোই সেই শিশুটি। চুপচাপ কথা কম বলা এক মানুষে পরিনত হলো। অথচ তার ভেতরকার অজস্র সব না বলা কথাই হয়ে উঠলো বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। তিরস্কার ব্যর্থতা ইত্যাদি নানা প্রবঞ্চনা সইতে সইতে নিভৃতে এই মানুষটি লিখে গিয়েছিলেন অজস্র কালজয়ী কবিতা। 

বরিশাল শহরের অক্সফোর্ড মিশন চার্চ সংলগ্ন গাছ-গাছালীর ছায়া বেষ্টিত সর্বানন্দ ভবন নামে সুপরিচিত একটি বাড়ি ছিলো। ওই বাড়িতেই কুসুম কুমারী দাশের কোল জুড়ে খেলা করতে থাকা বিস্ময় জাগানিয়া শিশুটিই পরবর্তীতে হয়ে ওঠেন বাংলা সাহিত্যের শুদ্ধতম কবি। ওই আঙ্গিনা ধরেই হাঁটতে হাঁটতে প্রকৃতির অদ্ভুত রুপ আবিষ্কার করেন। সেই রুপ বর্ণনা করে মুগ্ধতার আবেশ ছড়িয়ে ঘোর গ্রস্ত করে রেখেছেন প্রজন্মের পর প্রজন্মকে। সেই আঙ্গিনার সেই মানুষটিই বিশ্বসভায় পরিচিতি পান কবি জীবনানন্দ দাশ নামে। আজ কবির ১১৯তম জন্মবার্ষিকী।

জীবনানন্দ দাশের বাবা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন বরিশাল ব্রজমোহন স্কুলের প্রধান শিক্ষক। একই সাথে লেখালেখির সাথেও যুক্ত ছিলেন। তিনি ছিলেন প্রাবন্ধিক, বরিশাল ব্রাহ্ম সমাজের সম্পাদক এবং ব্রাহ্মসমাজের মুখপত্র ব্রাহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক।

জীবনানন্দের মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন গৃহস্থ, কিন্তু তিনি কবিতা লিখতেন।  পিতামাতার জ্যেষ্ঠ সন্তান জীবনানন্দ দাশের ডাকনাম ছিল মিলু। তার ভাই অশোকানন্দ দাশ ১৯০৮ সালে এবং বোন সুচরিতা দাশ ১৯১৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন।

বগুরা রোডের সর্বানন্দ ভবনে শৈশব কৈশর কাটিয়ে জীবনানন্দ দাশ ছিলেন খুবই লাজুক স্বভাবের মানুষ। বাবা অল্প বয়সে স্কুলে ভর্তি করানোর বিরোধী ছিলেন বলে শিক্ষা জীবনে শুরু হয় ঘরেই। তারপর তিনি ভর্তি হন ব্রজমোহন স্কুলে। সেখান থেকে ১৯১৫ সালে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিকিউলেশন (বর্তমানে মাধ্যমিক বা এসএসসি) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর ভর্তি হন বিএম ( ব্রজমোহন) কলেজে। দু'বছর পর বিএম কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট (উচ্চ মাধ্যমিক) পরীক্ষায় পাশ করে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ ভর্তি হন। সেখান থেকে ইংরেজীতে অনার্সসহ বিএ ডিগ্রী লাভ করেন। অত:পর ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে দ্বিতীয় শ্রেণিতে এম. এ. ডিগ্রি লাভ করেন।

মায়ের অনুপ্রেরণাতেই ছাত্র থাকা অবস্থাতেই লেখালেখি শুরু করেন জীবনানন্দ দাশ। তবে সে সময় খুব একটা লিখতেন না। তবে মায়ের অনুরোধেই লিখলেন বর্ষআবাহন নামে একটি কবিতা। ১৯১৯ সালে এই কবিতাটি ছাপা হয় ব্রম্মবাদী পত্রিকার নববর্ষ সংখ্যায়। এরপর আবার নিরব। ৫ বছর আর কোথাও তার কবিতা ছাপা হয়নি। এরপর ১৯২৫ সালে তিনি ‘দেশবন্ধু প্রয়ানে’ নামে বিট্রিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতা চিত্তরঞ্জন দাশের স্মরনে একটি কবিতা লেখেন। এরপর ধীরে ধীরে কলকাতা, ঢাকা এবং অন্যান্য জায়গার বিভিন্ন সাহিত্যপত্রিকায় তাঁর লেখা ছাপা হতে থাকে; যেগুলির মধ্যে ছিল সে সময়কার সুবিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল, কালি ও কলম, প্রগতি প্রভৃতি। ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ ঝরা পালক প্রকাশিত হয়। 

ব্যক্তি জীবনে কবিকে নানা যন্ত্রনা প্রবঞ্চনার ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে। আর্থিক অনটনেও কবিকে অস্থির করে তুলেছিলো। ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ৯ই মে তারিখে তিনি লাবণ্য দেবীর সাথে বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে কবির প্রথম সন্তান মঞ্জুশ্রীর জন্ম হয়। কবির রচনাবলি :কাব্যগ্রন্থ-ঝরা পালক, ধূসর পাণ্ডুলিপি, বনলতা সেন, মহাপৃথিবী, সাতটি তারার তিমির, রূপসী বাংলা, বেলা অবেলা কালবেলা। গদ্যগ্রন্থ_ কবিতার কথা। মৃত্যুর পর তার প্রকাশিত উপন্যাস_ মাল্যবান, সতীর্থ।

১৯৫৪ সালে ১৪ অক্টোবর কলকাতার বালিগঞ্জে এক ট্রাম দুর্ঘটনায় আহত হন জীবনানন্দ দাশ। ট্রামের ক্যাচারে আটকে তার শরীর দলিত হয়ে গিয়েছিল। ভেঙ্গে গিয়েছিল কণ্ঠা, ঊরু এবং পাঁজরের হাড়। ২২ অক্টোবর  হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

কবি জীবনানন্দ দাশ

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0179 seconds.