• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১২ জানুয়ারি ২০১৮ ২১:৩২:২৪
  • ১৩ জানুয়ারি ২০১৮ ০৯:১২:১০
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

‘বছর শেষে ভোট, তার আগে নির্বাচনকালীন সরকার’

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০১৮ সালের শেষ দিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে এবং সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের আগে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে।

আওয়ামী লীগ সরকারের এই মেয়াদের ৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী আশা করেন, নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দল পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে সমুন্নত রাখতে সহায়তা করবে। নির্বাচনকালীন সরকার নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করবে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন। এ কমিশন এরই মধ্যে ২টি সিটি করপোরেশন নির্বাচনসহ স্থানীয় পর্যায়ের বেশকিছু নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করায় জনগণের আস্থা অর্জন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো কোনো মহল আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা করতে পারে। এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে তিনি সবার প্রতি আহবান জানান। তিনি বলেন, জনগণ অশান্তি চান না। নির্বাচন বর্জন করে আন্দোলনের নামে জনগণের জানমালের ক্ষতি করবেন- এটা জনগণ মেনে নেবে না।

তিনি সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেন, আপনারাই সব ক্ষমতার মালিক। কাজেই আপনাদেরই ঠিক করতে হবে- আপনারা কী চান? আপনারা কি দেশকে সামনে এগিয়ে যাওয়া দেখতে চান, না বাংলাদেশ আবার পেছনের দিকে চলুক তাই দেখতে চান। একবার ভাবুন তো মাত্র ১০ বছর আগে দেশের অবস্থানটা কোথায় ছিল? আপনারা কি চান না আপনার সন্তান সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে স্বাবলম্বী হোক? আপনারা কি চান না প্রতিটি ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে যাক? আপনারা কি চান না প্রতিটি গ্রামের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হোক? মানুষ দুবেলা পেট পুরে খেতে পাক? শান্তিতে জীবনযাপন করুক?

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, স্বাধীনতার ৪৭ বছর পার হতে চলেছে। আমরা আর দরিদ্র হিসেবে পরিচিত হতে চাই না। আমরা বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে মর্যাদাশীল জাতি হিসেবে বাঁচতে চাই। এসব যদি আপনাদের চাওয়া হয়, তাহলে আমরা সব সময়ই আপনাদের পাশে আছি। আমরাই লক্ষ্য স্থির করেছি যে, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত করব। শুধু লক্ষ্য স্থির করেই কিন্তু আমরা বসে নেই। সেই লক্ষ্য পূরণের জন্য আমরা প্রয়োজনীয় কর্মসূচি প্রণয়ন করে সেগুলো বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমরা অতীতকে আঁকড়ে ধরে থাকতে চাই না; তবে অতীতকে ভুলেও যাব না। অতীতের সফলতা-ব্যর্থতার মূল্যায়ন করে, ভুল-ত্রুটি শুধরে নিয়ে আমরা সামনে এগিয়ে যাব। আমরা উন্নয়নের যে মহাসড়কে যাত্রা শুরু করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছি, সেখান থেকে আর পেছনে ফিরে তাকানোর সুযোগ নেই। বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সমৃদ্ধি ও প্রগতির পথে সব বাধা দূর করার দায়িত্ব গ্রহণ করবে। আসুন, দলমত-নির্বিশেষে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত, সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আগামী প্রজন্ম পাবে সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা যেন ব্যাহত না হয়, এ বিষয়ে সচেতন হয়ে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহবান জানাচ্ছি। আমরা বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে চলব। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলব।

উল্লেখ্য, এই নির্বাচন কীভাবে হবে এবং নির্বাচনকালীন সরকারের চেহারা কেমন হবে তা নিয়ে বিরোধী দল বিএনপির তরফ থেকে নানা রকমের দাবি তোলা হচ্ছে।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ভাষণে 'সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠানের' কথা বলে সেসব দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। এ নিয়ে কোনো ধরনের আন্দোলনের বিরুদ্ধেও বিরোধী দলকে হুঁশিয়ার করে দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের ব্যাপারে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিরোধী দল বিএনপির কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো জানা যায়নি।

বিএনপি এর আগে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচন বর্জন করেছিল তাদের দাবি অনুযায়ী একটি নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত না হওয়ায়। দলটির নেতারা এবার নির্বাচনে যেতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন। কিন্তু এবারও তারা নির্বাচনকালীন এমন একটি সরকার চান যারা নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা দেবেন।

বাংলাদেশের আরেকটি বড় রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাওয়ায় তারা এ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। তবে জামায়াতের নেতারা ভিন্ন নামের কোনো দল বা জোট বা স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী হতে পারবেন বলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.1738 seconds.