• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১২ জানুয়ারি ২০১৮ ২১:২৯:০৯
  • ১২ জানুয়ারি ২০১৮ ২১:২৯:০৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

পর্যটকদের ভিড়ে মুখরিত ষাটগম্বুজ

ছবি: বাংলা

শীত মৌসুমে বিশ্ব ঐতিহ্য বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভিড়। প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখোরিত হচ্ছে মসজিদ এলাকা। পর্যটকদের সমাগম বাড়ায় তাদেরকে বেশি আনন্দ দিতে কর্তৃপক্ষ মসজিদ প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলগাছ রোপণ করে শোভা বৃদ্ধি করেছে। রাতে মসজিদের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির জন্য মসজিদ, জাদুঘরসহ আশপাশে স্থাপনাগুলোতে আলোক সজ্জার ব্যবস্থা করা হয়। মসজিদের বাইরের গেটের সামনে দর্শনার্থীদের জন্য গাড়ি পার্কিং ও বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভিতরেও তৈরি করা হয়েছে বসার স্থান। 

ষাটগম্বুজ মসজিদের সামনে ঘোড়াদিঘির পানিতে ফোটা পদ্ম ফুল আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে জায়গাটিকে। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে দিঘির পাশে তৈরি করা হয়েছে পর্যটক শেড। পাশেই বিভিন্ন সামগ্রীর পরসা সাজিয়ে বসেছে দোকানীরা। শীত মৌসুমে বেচাকেনার ভালোই হয় তাদের।

এছাড়াও মসজিদের মূল গেট থেকে ঢুকেই ডান পাশে রয়েছে বাগেরহাট জাদুঘর। আর জাদুঘরে এ অঞ্চলের আধ্মাতিক পীর খানজাহান (রহঃ) এর ঠাকুর দিঘিতে পোষা মৃত কালো ও ধলা পাহাড়ের (কুমির) দেহাবশেষ মমি করে রাখা আছে। আরও রয়েছে খানজাহানের ব্যবহৃত নানা নিদর্শন। আছে পোড়া মাটির বিভিন্ন ধরণের তৈজসপত্র। যা আগত পর্যটকদের খান জাহান সম্পর্কে জানতে সাহায্য করে।

ষাটগম্বুজ টিকিট কাউন্টারে থাকা বুকিং ক্লার্ক খান আবু তালেব বলেন, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের নির্ধারিত মূল্যে আমরা টিকিট বিক্রি করি। দেশি পর্যটক প্রতি ২০ টাকা, সার্কভুক্ত দেশের বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে ১০০ টাকা, সার্কভুক্ত দেশের বাইরে বিদেশি পর্যটকরদের কাছ থেকে ২০০ টাকা নেয়া হয়। এছাড়া স্কুল শিক্ষার্থী এবং ৫ বছরের শিশুদের কাছ থেকে ৫ টাকা নেয়া হয়। শীত মৌসুমের শুরু থেকে দর্শনার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মার্চ পর্যন্ত পর্যটকদের ভিড় থাকবে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৬০ থেকে ৭৫ হাজার টাকার টিকিট বিক্রি হচ্ছে। টাকার পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

ষাটগম্বুজ মসজিদের পশ্চিমপাশে ঐতিহ্যবাহি ঘোড়া দীঘির পাড় জুড়ে পর্যটকদের বিশ্রামের জন্য তৈরী করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন বসারস্থান। মসজিদে আগত দর্শনার্থীরা এখানে বসে ষাটগম্বুজ মসজিদ ও আশপাশের এলাকা দেখতে পারেন। 

দর্শনার্থী রওশন ওয়াজ বিউটি রুনু বলেন, স্কুলে পড়া অবস্থায়ই ষাটগম্বুজ মসজিদ দেখার প্রতি আমার আগ্রহ জন্মে। কর্ম ব্যবস্তার কারনে আসতে পারিনি। তাই বন্ধু বান্ধব মিলে চলে আসলাম। আসলে এখানে এসে আমি খুবই আনন্দিত। মুসলিম স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন ষাটগম্বুজ মসজিদ। আসলে ষাটগম্বুজ মসজিদ না দেখলে বোঝাই যায় না যে মুসলিম স্থাপত্যবিদরা কত দক্ষ ছিলেন। আমার গর্ব হয় মুসলিম স্থাপত্য নিয়ে।
স্ব-পরিবারে বেড়াতে আসা কুষ্টিয়ার টিটু কাজী বলেন, বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী এ মসজিদটিকে এক নজর দেখার খুব ইচ্ছা ছিল। তাই এবার পরিবারের সকলকে নিয়ে চলে আসলাম। আমার স্ত্রী-সন্তানেরা খুবই খুশি হয়েছে এখানে এসে। 

মসজিদ প্রঙ্গণে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য এমএ বারেক বলেন, আমরা সার্বক্ষনিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছি। শীত মৌসুমে দেশি-বিদেশী পর্যটক বৃদ্ধি পায়। আমাদের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যরাও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। 

বাগেরহাট জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান মো. গোলাম ফেরদৌস বলেন, শীত মৌসুমে ষাটগম্বুজ মসজিদে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে। দিনদিন পর্যটকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত পর্যটকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এ কারণে আগত দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেছি। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের কাছে মসজিদকে আরো আকর্ষণীয় করতে ঘোড়া দীঘির দু’পাড়ে পর্যটক শেড ও বসার জন্য কনক্রিটের বেঞ্চ তৈরি করেছি। এছাড়াও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মসজিদের পাশে দর্শনার্থীদের জন্য গণ সৌচাগারের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে জনবল সংকট থাকায় পর্যটকদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। তারপরও আশা করছি, এ মৌসুমে গত বছরের থেকে বেশি রাজস্ব আয় হবে বলে জানান তিনি।

বাংলা/আরএইচ

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

পর্যটক ষাটগম্বুজ মসজিদ

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.1762 seconds.