• ১২ জানুয়ারি ২০১৮ ১২:৩১:০৮
  • ১২ জানুয়ারি ২০১৮ ১২:৩১:০৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রবীন্দ্রভারতী


জাকির হোসেন তমাল


প্রিয়াংকা সরকার। ছোটবেলা থেকেই নাচের সঙ্গে যুক্ত হন। পরিবারের উৎসাহ থাকায় সেই নাচ আর থামেনি। সারাজীবন সেই নাচ নিয়েই থাকতে চান। তাই নাচের ওপর উচ্চতর ডিগ্রি নিচ্ছেন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে।

ভারত সরকারের আইসিসিআর স্কলারশীপ নিয়ে প্রিয়াংকা রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান গত বছর। সেখাইনে এখন পড়াশোনা ও নাচ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এই শিক্ষার্থী।

স্কলারশীপ পাওয়ার বিষয়ে প্রিয়াংকা সরকার বলেন, ‘স্কলারশীপের জন্য প্রথমে লিখিত পরীক্ষা দেই। পরীক্ষায় চান্স পাওয়ার পর আমার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। সেখানেও ভালো করায় ভারতীয় দূতাবাসে সব কাগজপত্র জমা দেই। এরপর গত বছরের ২৯ জুন আমাকে মেইল করে জানানো হয়, আইসিসিআর স্কলারশীপে চূড়ান্তভাবে চান্স পাওয়ার বিষয়টি।’ 

প্রিয়াংকা বলেন, ‘প্রথমে আমি একটু ভয়ে ছিলাম। আমি সমাজকর্মের শিক্ষার্থী, আবেদন করেছি নাচে, হবে কিনা। তবে চূড়ান্তভাবে আমি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স করার সুযোগ পাই।’

প্রিয়াংকা সরকার জানান, তিনি এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে একটি ভাড়া বাসায় থাকছেন। সেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। সেখানে এখন অনেকের সঙ্গেই তাঁর পরিচয় হয়েছে। আস্তে আস্তে ভালোলাগতে শুরু করেছে ওই দেশটি।

প্রিয়াংকা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রথমে নাচ করতে ভয় লাগত। কিন্তু আস্তে আস্তে সেই ভয় কেটে যাচ্ছে। এখন অনেকটা সহজভাবে কাজ করতে পারছি।’

প্রিয়াংকার নাচের শুরু

প্রিয়াংকা সরকারের বাড়ি রাজবাড়ী জেলা সদরে। পাঁচ বছর বয়সে নাচ শুরু। স্কুলেও নাচের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেন। সেখানকার নাচের প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয়-তৃতীয় হতেন। নাচের জন্য বাড়ি থেকে উৎসাহ ছিল। তাঁর বড় চাচা ভক্ত চরণ সরকার বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় প্রিয়াংকাকে সঙ্গে নিয়ে যেতেন। বাবা ফণীভূষণ সরকার ও মা পুতুল রানী রায় সব সময় পাশে ছিলেন। রাজবাড়ী সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজে ভর্তির পর দুই বছর নাচের প্রতিযোগিতায় প্রথম হন তিনি। ২০০৮ সালে তিনদিনব্যাপী কলেজে রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠানে তিনদিনই নেচেছেন তিনি। এরপর ২০১১ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগে ভর্তির পর ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ডাক আসে তাঁর।

প্রিয়াংকার নাচের গুরু

রাজশাহীর ‘নিক্কণ নৃত্য শিল্পী গোষ্ঠী’র একজন সদস্য ছিলেন প্রিয়াংকা। সেখানেই তিনি হাসিব পান্নার কাছে ভরত নাট্যম ও কত্থক নাচের তালিম নেন। এ ছাড়া দীপ্তি গুহ্ ও আবদুস সাত্তারের কাছে লোক ও সাধারণ নৃত্যে তালিম নিয়েছেন। জাতীয় বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও সংগঠনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নেচেছেন তিনি।

প্রিয়াংকার সম্মাননা

২০১১ সালে অংশ নেন 'ম্যাংগলী নাচো বাংলাদেশ নাচো' প্রতিযোগিতায়। বাংলাভিশনে প্রচারিত ওই অনুষ্ঠানে তৃতীয় রাউন্ড পর্যন্ত যেতে পেরেছিলেন তিনি। ২০১২ ও ২০১৫ সালে 'চ্যানেল আই সেরা নাচিয়ে'র দ্বিতীয় রাউন্ডে পৌঁছেছিলেন তিনি। ২০১৪ সালে ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তবিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার একক সাধারণ নৃত্য বিভাগে প্রথম পুরস্কার (স্বর্ণপদক) পান তিনি। ২০১৫ সালে এই প্রতিযোগিতার ভেন্যু ছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানেও একক নৃত্য ও দলীয় নৃত্যে দলনেতা হিসেবে প্রথম পুরস্কার (স্বর্ণপদক) পান প্রিয়াংকা।

নাচের শিক্ষক প্রিয়াংকা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস ছাড়া বাকি সময়ের বেশির ভাগই নাচের অনুশীলনে ছিলেন প্রিয়াংকা। তাই বন্ধুদের সঙ্গে নিয়মিত আড্ডা দিতে পারতেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্নুজান হলের আবাসিক ছাত্রী ছিলেন তিনি। সেখানে অনেক ছাত্রীকে নাচও শেখান এই ছাত্রী। 

রেঞ্জার হিসেবে প্রিয়াংকা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় রেঞ্জার হিসেবে মন্নুজান হলের বিভিন্ন সময় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার প্রদর্শনীর সব কাজের দায়িত্ব পড়ত প্রিয়াংকার ওপর। দ্বিতীয় বর্ষ থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত হলে এই দায়িত্ব পালন করেন তিনি। হলের বিভিন্ন সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনে দায়িত্বে ছিলেন তিনি। রেঞ্জারের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণও করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে মন্নুজান হলে আবাসিকতা পাওয়ার পর হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিউটি পারভীন রেঞ্জারের পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। তার হাত ধরেই হলে রেঞ্জারের কাজ শুরু। ওই শুরুটা ২০১২ সালে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক রেঞ্জারের মধ্যে বিভিন্ন কাজে সেরা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় প্রিয়াংকা যোগ দিয়েছিলেন ভারতের পুনেতে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে। প্রথমে হল থেকে সেরা ও পরে পুরো রাজশাহী অঞ্চলে সেরা রেঞ্জার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। তবে এখন তিনি নাচ নিয়েই বাকিটা সময় কাটিয়ে দিতে চান। দেশে ফিরে নাচের ভালো কোনো প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হতে চান এই গুণী শিল্পী।

প্রিয়াংকা এই সফলার বিষয়ে বলেন, ‘আমার এই সফলতার পেছনে প্রধান ছিল মায়ের ভূমিকা। তাঁর উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা না থাকলে আমি হয়তো এতদূর আসতে পারতাম না। তাই সব কিছুর আগে আমার মায়ের ভালোবাসাকে স্মরণ করতে চাই। এ ছাড়া নাচের গুরুদের আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।’

দেশে ফিরে কী করতে চান—উত্তরে প্রিয়াংকা বলেন, ‘দেশে ফিরে নাচ নিয়ে ভালো কাজ করার ইচ্ছা আছে। মূলত শাস্ত্রী নৃত্যের চর্চা করাই আমার প্রধান উদ্দেশ্য। আমাদের দেশে শাস্ত্রীয় নৃত্যের চর্চাটা আরো উন্নত করতে চাই। এখন এটাই আমার ইচ্ছ।’

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.1726 seconds.