• বিদেশ ডেস্ক
  • ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭ ১৭:১০:০০
  • ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭ ১৭:৫০:১৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

‘টাকা দিলে বাঘের চোখও পাওয়া যায়’

ছবি: সংগৃহীত


মেহের আফরোজ শাওন:


‘টাকা দিলে বাঘের চোখও পাওয়া যায়’...। এই কথার সত্যতা কতটুকু জানি না...। কিন্তু মিশরীয় পাউন্ড দিলে ‘ছবি তোলা নিষেধ’ লেখা জায়গায় দেদারসে ছবি তোলা যায়...। এমনকি ছবি তুলতে যে নিরাপত্তা কর্মীর বাধা দেয়ার কথা তিনিই আপনার ফটোগ্রাফারের ভূমিকা পালন করে দেবেন বখশিশ একটু বেশি পেলে...।

গির্জার গ্রেট পিরামিডের তিনটির মধ্যে দুইটার ভেতরে প্রবেশ করা যায়। ছোট পিরামিডটি (উচ্চতা ২১৩ ফুট) ফারাও সম্রাট ‘খাফরে’র পুত্র সম্রাট ‘মেনকাউরে’ তাঁর শাসনামলে তৈরি করেন। বেশির ভাগ পর্যটকই সেটার ভেতরে প্রবেশ করেন ৫০ মিশরীয় পাউন্ড মূল্যের টিকিটের বিনিময়ে।

মাঝারি পিরামিড যা ফারাও সম্রাট ‘খাফরে’র আমলে তৈরি, তার অভ্যন্তরে প্রবেশ করা যায় না। আর সবচেয়ে বড় (উচ্চতা ৪৮১ ফুট) এবং সর্বপ্রথম পিরামিড যা তৈরি হয়েছে সম্রাট ‘খাফরে’র পিতা সম্রাট ‘খুফু’র আমলে তার টিকিটের মূল্য ৩০০ মিশরীয় পাউন্ড। এটির অভ্যন্তরে সবাই যেতে পারেন না। তার মূল কারণ অতিরিক্ত উচ্চতা এবং অত্যন্ত সংকীর্ণ প্রবেশপথ যা আপনাকে দম আটকে আসা অনুভূতির জন্ম দিবে।

আপনি যদি ‘claustrophobic’ কিংবা ‘আবদ্ধ জায়গায় ভীতি’ অনুভূতির কেউ হন, তবে সাবধান! মনের ভুলেও ‘খুফু’র পিরামিডে প্রবেশের কথা ভাববেন না। আমি নিজেও ‘claustrophobic’। তার উপর উচ্চতায় ভীতি আছে...। বদ্ধ জায়গার গন্ধে আমার শ্বাসকষ্ট কিংবা এ্যাজমা’র অসুবিধা হয়...। এবং ডান পায়ের হাঁটুর হাড় ক্ষয়ে যাওয়ার কারনে সিড়িতে ওঠা-নামা করা নিষেধ। তারপরও ‘বেকুব’ এর মতো আমি ‘খুফু’র পিরামিডের ভিতরে যাব সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেললাম।

প্রাচীনতম বিশ্বের সপ্তাশ্চর্য (seven wonders of the ancient world) এর মধ্যে একমাত্র অক্ষত বিস্ময়! এর ভিতর বাহির পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে না দেখলে চলবে! সঙ্গে যাবার জন্য সকল কাজের সঙ্গী বান্ধবী Ditan তৈরি। তার এক কথা- “শাওনকে আমি একা ছাড়ব না। ও যদি পিরামিডের ভেতরে ঢুকে অজ্ঞান হয়ে যায়..!”

বীরদর্পে আমরা দু’জন ‘খুফু’র পিরামিডের অভ্যন্তরে যাবার টিকেট কেটে ফেললাম। বাকিরা গেল ‘মেনকাউরে’র পিরামিডে। টিকেট কাউন্টারে আমাদের সঙ্গে থাকা ক্যামেরা জমা নিয়ে নিল। “ভিতরে ছবি তোলা নিষেধ” এই কথা বলে কাউন্টারে থাকা লোকটা চোখ টিপল। দেখলাম উনারা ফোন নিলেন না। পিরামিডে ঢোকার কিছুদূর পর সেখানে থাকা নিরাপত্তা কর্মী আমাদের টিকেট দেখতে চাইলেন। বললেন- “সঙ্গে ক্যামেরা নাই তো..?” আমরা জানালাম যে ক্যামেরা নেই। তিনি আমার সঙ্গে থাকা আইফোন দেখিয়ে বললেন- “তোমার ফোনে ছবি তুলবে না..! চাইলে তুলতে পারো।” এই বলে একটা ৫০ পাউন্ডের নোটের দিকে ইশারা করলেন!

আমরা তাকে ১০০ পাউন্ডের একটা নোট দিলাম। ৪৮ টি দাঁত বের করে তিনি আমার হাতের আইফোনের ক্যামেরাতে আমাদের একখানা ছবি তুলে দিলেন। সম্রাট ‘খুফু’র মূল প্রকোষ্ঠে যেতে আমাদের পাড়ি দিতে হলো অনেকখানি পথ। সিড়ি বেয়ে উঠতে হলো প্রায় ১০০ ফুট উচ্চতায়। কখনো ১৮ ইঞ্চি করিডোরে ‘যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে একেবারে অতল গহ্বরে পড়ে যাব’ টাইপ রেলিং ধরে এগিয়েছি।

কখনো ৩০ ইঞ্চি চওড়া, ৩২ ইঞ্চি উচ্চতার দীর্ঘ ঢালু পথ হামাগুড়ি দিয়ে উঠতে গিয়ে ঘেমে, ভিনদেশী স্বাস্থ্যবান পর্যটকদের ‘oh my God, oh my God’ আর্তনাদ শুনে পৌঁছেছি সম্রাটের প্রকোষ্ঠে। আমি পায়ের ব্যাথায় কিঞ্চিত কষ্ট পেলেও সুস্থভাবে বেরিয়ে আসতে পেরেছি। আর আমার উদ্ধারকারী হিসাবে সঙ্গে যাওয়া বান্ধবীর কি দশা হয়েছে এটা বলে দিয়ে বছরের শেষ দিকে তার হাতে ‘মাইর’ খেতে চাই না।

হুমায়ূন পত্নী মেহের আফরোজ শাওনের ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0204 seconds.