• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২২ ডিসেম্বর ২০১৭ ২১:৩৩:৩৫
  • ২৩ ডিসেম্বর ২০১৭ ০৯:৪৪:৩৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

ফারাক্কার ফাঁদ, পদ্মা পরিণত হচ্ছে মরা খালে

ছবি: বাংলা

রাজশাহী প্রতিনিধি:

পানির ন্যায্য হিস্যা না পাওয়ায় রাজশাহীর পদ্মা এখন মরা খালে পরিণত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। অথচ গঙ্গা পানি চুক্তির ২১ বছর পেরিয়ে গেছে গত ১২ ডিসেম্বর। ফারাক্কা বাঁধের অশুভ প্রতিক্রিয়ায় বিরূপ আবহাওয়ার সম্মুখীন দেশের উত্তর দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলার অন্তত ২ কোটি মানুষ।

গঙ্গার পানি চুক্তির পর থেকে গত ২১ বছরে বাংলাদেশ তার ন্যায্য হিস্যা পায়নি। গত ২ বছরে শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ সামান্য বাড়লেও বাংলাদেশ ছিল ন্যায্য হিস্যা বঞ্চিত। ফলে পদ্মানদী বেষ্টিত ৬টি জেলা মরুকরণ শুরু হয়েছে। পানির স্তর ৩০/৪০ ফুট নিচে নেমে গেছে। ফলে পদ্মা নদী এখন মরা খালে পরিণত হচ্ছে। ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারতের হায়দারাবাদ হাউসে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেব গৌড় এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ নিজ দেশের পক্ষে ৩০ বছর মেয়াদী পানি চুক্তি সাক্ষর করেন।

চুক্তিতে বলা হয় উভয় সম্মতিক্রমে গৃহিত ফর্মুলা মোতাবেক ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সময়ে দু দেশের মধ্যে গঙ্গার পানি ভাগাভাগি হবে এবং ভারত নদীটির জল প্রবাহের মাত্রা ৪০ বছরের গড় মাত্রা বজায় রাখার সর্বাত্তক চেষ্টা করবে। যে কোন সংকটময় পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ৩৫ হাজার কিউসেক পানির নিশ্চয়তা পাবে। কিন্তু বর্তমানে চুক্তি অনুযায়ী পানি পাচ্ছে না বাংলাদেশ। এবং চুক্তিতে এ ও বলা হয় পারস্পারিক সহযোগীতার প্রয়োজনে এবং দুই দেশের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত অন্যান্য নদীর পানি বন্টনের ক্ষেত্রেও অনুরূপ চুক্তিতে পৌছানোর ব্যাপারে একমত হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানান, বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় জলবায়ু পরিবর্তন কিন্তু পদ্মা নদী বেষ্টিত ৬টি জেলার অন্তত ২ কোটি মানুষ ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাবে বিপদ গ্রস্ত। দেশের বৃহত্তম গঙ্গা- বরেন্দ্র প্রকল্প, কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প, পাবনা সেচ ও পানি উন্নয়ন প্রকল্প, পানাসি প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্পের হাজার হাজার একর জমিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও পাম্প ব্যাবহার করেও সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

অপরদিকে পদ্মার অবস্থা খুবই করুণ। পানি নেই, এমনকি ন্যূনতম পানি প্রবাহ নেই। রাজশাহীর চারঘাট-বাঘার পদ্মায় দেখা দিয়েছে ছোট-বড় বেশ কিছু চড়। এসব চড়ে কৃষকরা করছে চাষাবাদ। নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় মাছও নেই বলে দাবি জেলেদের। জেলেরা জাল টেনে বিক্রি তো দুরের কথা নিজেদের খাবারের মাছ ও জোগাড় করতে পারছে না। এদিকে ফারাক্কার প্রভাবে উত্তরাঞ্চলের ৫৪টি নদী শুকিয়ে গেছে। শুষ্ক মৌসুমে নদী গুলো পানি শূন্য হয়ে পড়েছে। 

রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোকলেসুর রহমান বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। এভাবে চললে ১০ বছর পর এ এলাকায় পানি পাওয়া কঠিন হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর নদী গুলোর ভু- গর্ভস্থ উচ্চতা বেড়েছে এবং পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। যার কারণে নদী গুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, চুক্তি অনুযায়ী পানি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0193 seconds.