• ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭ ১৫:১৫:৩৮
  • ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭ ১৫:১৫:৩৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

রমনা মেইল: বিচ্ছিন্নতার পৌণে শতবর্ষ


নাহিদ হাসান নলেজ


১.

উপন্যাসের শুরুতেই মার্কিন প্রবাসি লেখক আবু রায়হান নাজিম হিকমতের সেই জেলখানার কবিতার একটি প্যারা তুলে দেয়া হয়েছে। 'যে সমুদ্র সব থেকে সুন্দর/ তা আজো আমরা দেখিনি।/ সব থেকে সুন্দর শিশু/ আজো বেড়ে ওঠেনি-এই রকম কয়েকটি লাইন। মানে একটি প্রত্যাশা আছে। এই উপন্যাসটি যে নামে সেই 'রমনা মেইল' অঞ্চলে 'ভাওয়াইয়া এক্সপ্রেস' নামে একটি আন্তঃনগর ট্রেনের জন্য গণআন্দোলন চলছে। লেখক ফেসবুকে জানিয়েছেন, এই গণআন্দোলনে উদ্বুদ্ধ হয়েই তিনি এই উপন্যাসটি লিখেছেন।
উপন্যাসের ঘটনায় প্রবেশের আগে 'শুরুর কথা' নামে একটি প্যারায় লিখেছেন: ট্রেনের ৩ ঘণ্টা লেট হওয়ায় রমনা স্টেশনের এক যাত্রী কুড়িগ্রাম জেলা সদরে জজ কোর্টে সময় মত শুনানীতে হাজির হতে না পারায় কোর্টের রায় তার বিপক্ষে যায়, ফলে তিনি কর্তৃপক্ষকে ট্রেনের অবস্থা উন্নয়নের জন্য অনেকগুলো সুপারিশ করেন।
এই হচ্ছে রমনা মেইল।

২.
মূল চরিত্র সম্ভবত লেখক নিজেই, উপন্যাসে তার নাম মুনির। আর বাকি চরিত্রগুলো বাস্তবের রমনা মেইলের নিত্যকার চরিত্র। পরোক্ষ বর্ণনার ঢং-এ মুনির ও মুনিরের কল্পনাকেই এখানে প্রধান করা হয়েছে। আর বাকি চরিত্র ও ঘটনা মুনিরের চোখের সামনে সাধারণ ঘটনা মাত্র। দেশের নানান প্রান্ত থেকে কাজ ফেরত মানুষ, হকার, তিন তাসের জুয়াড়ি কিংবা পকেটমারের যে আলাদা আলাদা গল্প আছে, তাঁদের জীবনে তাঁরা যে নায়ক তা এখানে নেই। ঘটনার শুরু রংপুরের বদরগঞ্জ স্টেশনে পার্বতীপুর থেকে আসা রমনা মেইলে মুনিরের ওঠা নিয়ে। আর ঘটনার সমাপ্তি এই মেইলের শেষ স্টেশন বিখ্যাত চিলমারী নদীবন্দরের রমনা স্টেশন পর্যন্ত। এরই মধ্যে যাবতীয় ঘটনার ঘনঘটা। যা মূলত একটি কিশোর প্রাণে প্রেমের অনুভূতি জাগিয়ে তোলা মূলধারা হিসেবে বহমাণ থেকেছে। অথচ এখানে মঙ্গা পীড়িত অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক চরিত্রগুলো ইশারা মাত্র দিয়েই শেষ হল। যা বিনোদনের খোড়াকমাত্র হবার সম্ভাবনা থেকে দলিল হয়ে উঠতে পারত। শ্রমজীবী মানুষ যে ইতিহাসের নির্মাতা, তারাও যে নিজ নিজ জীবনে নায়ক, তা নির্মিত হতে পারত।

৩.
কাহিনীর বিন্যাস অত্যন্ত সরল। ভাষাও উপমাহীন, সঙ্গে ঝরঝরে। আমাদের অধিকাংশ লেখক যেমন মধ্যবিত্তীয় ধারণা ও দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে একজন ব্যক্তির মধ্যে তাবৎ মনোযোগ ঢেলে দেন, একজনকেই নায়ক বানিয়ে তোলেন -লেখকও তার বাইরে আসতে পারেননি। অথচ যে হকার ছিলেন, জুয়াড়ি ছিলেন, ছিলেন মজুর, ভিক্ষুক, পকেটমার তারা আরও বড়ো পটভূমিতে অন্যতম হয়ে উঠে আসতে পারতেন। এমনকি প্রধান হয়ে উঠতে পারত দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি ও বিষন্নতাও। অথচ প্রধান হয়ে উঠল গরীবের ট্রেনের অভিজাত ও অনিয়মিত যাত্রী কলেজ ছাত্র মুনির।
তবে এই উপন্যাসের শক্তির জায়গা হচ্ছে তার ভাষা। মুনিরের দেখা ও অনুভবের মধ্যদিয়ে নিম্নবর্গের মানুষের ভাষা, জীবন, সংস্কৃতি বেশ ফুটে উঠেছে। একটি মহৎ উপন্যাসের যাবতীয় গুণই এখানে আছে, কিন্তু হয়ে উঠল না। হয়ত আগামি দিনের কোনও বড় লেখক এই উপন্যাস থেকে যাত্রা শুরু করতে পারবেন। তবে পূর্ব বাঙলার রেল জীবন নিয়ে একটি চিহ্ন হয়ে থাকল।

‘রমনা মেইল’ লেখক: আবু রায়হান। প্রথম প্রকাশ: ২২ মে ২০১৫, নিউ ইয়র্ক বইমেলা। প্রচ্ছদ: ধ্রুব এষ। দাম: ২শ টাকা।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

রমনা মেইল

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0186 seconds.