• ০২ ডিসেম্বর ২০১৭ ১৭:১৬:২১
  • ০২ ডিসেম্বর ২০১৭ ১৭:১৬:২১
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

‘ভিক্ষা যদি করতেই হয়, ঘোড়ায় চড়েই করব’!

রাজশাহীর পিয়ার বক্স। ছবি: সংগৃহীত

ঘোড়ায় চড়ে ভিক্ষা! শুনতে অনেকটা অবাক মনে হলেও প্রচলিত প্রবাদটির স্বার্থকতা এনেছেন রাজশাহীর পিয়ার বক্স। দুই পা ছাড়াই ঘোড়ায় চড়ে ভিক্ষাবৃত্তি করেন তিনি। ঘুরে বেড়ান শহর থেকে গ্রাম। দিন শেষে তার রোজগারও ভালো। ঘোড়া আর সংসার মিলে ভালোই আছেন শখের এ মানুষটি।

পিয়ার বক্সের গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর নওগাঁর মান্দা উপজেলার দেলুয়াবাড়িতে। ১৯৭৪ সালে তিনি টগবগে যুবক। বিয়ে করেছেন। জীবনের স্বপ্ন সাজাতে নিজের নতুন বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। কিন্তু সে সময় ঘটে এক দুর্ঘটনা। এতে দুটি পা হারাতে হয় তাকে। তার সব স্বপ্ন নিমিশেই নিঃশেষ হয়ে যায়।

তারপর জীবিকার খোঁজে স্ত্রীকে নিয়ে পিয়ার বক্স চলে আসেন রাজশাহী শহরে। অনেক খুঁজেও সে সময় কোনো কাজ পাননি শুধু দুটি পা না থাকার কারণে। তাই শুরু করেন ভিক্ষাবৃত্তি। কিন্তু দুই পা না থাকায় ভিক্ষা করতে এলাকা ঘুরতেও তার সমস্যা হয়। তাই অনেক কষ্টে টাকা জমিয়ে এই ঘোড়া কেনেন পিয়ার বক্স। তারপর থেকে চলছেই। 

পিয়ার জানালেন, তার এক ছেলে ও এক মেয়ে। সন্তানেরা বিয়ে করে যে যার মতো সংসার করছে। এখন স্ত্রী আর ঘোড়াটা নিয়েই তার সংসার। সকালে তাকে তার স্ত্রী ঘোড়ার পিঠে তুলে দেন। ঘোড়ার পিঠে সাজিয়ে দেন ভিক্ষার ঝুলিও। এরপর সারাদিন ঘোড়ার পিঠেই ঘুরে বেড়ান পিয়ার। শহর ছেড়ে চলে যান গ্রামেও। সারাদিন ঘুরে যা জোটে তা নিয়ে সন্ধ্যায় ফেরেন বাড়িতে। ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি ঘোড়ায় চড়ে ভিক্ষা করেন। স্ত্রীকে নিয়ে ভালোই চলে তার সংসার।

পিয়ার বলছিলেন, দিন যতো যাচ্ছে তার আয় ততো কমেছে। সারাদিন ঘুরে এখন ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা আয় হয়। দুই-চার কেজি করে ধান-চালও মেলে। সন্ধ্যায় ঘরে ফিরে আগে ঘোড়ার খাবার, তারপর নিজেদের। ঘোড়ার পেছনেই তার আয়ের এক তৃতীয়াংশ ব্যয় করতে হয়। তারপরেও খুশি পিয়ার বক্স। 

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

ভিক্ষা ঘোড়া পিয়ার বক্স

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.1614 seconds.