• ফিচার ডেস্ক
  • ১৬ নভেম্বর ২০১৭ ১৫:২০:১৪
  • ১৬ নভেম্বর ২০১৭ ১৫:২০:১৪
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

‘আমার সারা হৃদয় ও শরীরে তুমি’

২০০৬ সালের ২৫শে নভেম্বর। একটা চিঠি পান আনাবেলে ফুলার। পাঠিয়েছেন নাইজেল ফারাজে। তাতে তিনি লিখেছেন, আমি তোমাকে যেভাবে ভালোবাসি ততটা কেউ কখনো তোমাকে ভালোবাসতে পারবে না। তোমাকে বুঝতে পারবে না। তোমার বিষয়ে যত্ন নিতে পারবে না।

তোমাকে আমি ভীষণ ভালোবাসি। আমাদের বন্ধুত্বের যে বন্ধন, যা আমরা দু’জনে ভাগাভাগি করি- তোমাকে আমি ভীষণ পছন্দ করি। আমি তোমার খুব ঘনিষ্ঠ হতে পারি নি, এ জন্য শঙ্কিত। আমার ভয় হয়, তুমি এভাবে অনেক বছর দূরে হারিয়ে না যাও। আনাবেলে ফুলারকে নিজের যত্ন নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি ওই চিঠির শেষে স্বাক্ষর করেছেন। লিখেছেন- লাভ, নাইজেল, এক্স।

এতে তিনি লিখেছেন, আমার একটাই প্রত্যাশা। তাহলো, তোমার জন্য আমি উন্মুক্ত। আমার সারা হৃদয় ও শরীর দিয়ে তোমাকে ভালোবাসি। এখানে ফারাজের লেখা চিঠিটির চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো:

‘গত দু’য়েক সপ্তাহ ধরে আমিও বুঝতে পারছি যে, যথার্থ অর্থে আমাদের দু’জনের একসঙ্গে একত্রিত হওয়াটা খুবই কঠিন বিষয়। এমন কি যখন আমরা তেমনটা ছিলাম, তখন আমরা খুবই খুশি ছিলাম। তোমাকে ছাড়া আমি কিভাবে চলবো, সক্ষম হবো কিনা তা ভেবে আমি বিস্মিত, হতবাক হই। তোমাকে ও তোমার ভালোবাসা, যা আমরা দু’জনে ভাগাভাগি করেছি তা আমি ভয়াবহভাবে, বেদনার সঙ্গে মিস করবো। এখনো তোমাকে ভাবি আমি। তোমাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন হই। কথা দাও, তুমি তোমার যত্ন নেবে। যদি এত বেশি অ্যালকোহল পান করো তাহলে তুমি শেষ হয়ে যাবে। তুমি এ থেকে বেরিয়ে এলে আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে তা পর্যবেক্ষণ করবো। সুখী হও। এটা তোমার প্রাপ্য। আমি আশা করি, তোমার জন্য আমি মুক্ত। আমার সারা হৃদয় ও শরীরে তুমি।
লাভ
নাইজেল
এক্স’। 

এই চিঠিতে এটা পরিষ্কার যে, আনাবেলে ফুলারের জন্য কতটা উন্মাদনা দেখিয়েছেন নাইজেল ফারাজে। বৃটিশ রাজনীতিক। সাবেক ইউকিপ নেতা। আনাবেলে ফুলারের জন্য নিজেকে মুক্ত করে দিয়েছেন। অর্থাৎ তিনি তাকে স্মরণ করলেই কাছে পেয়ে যাবেন এমন একটি ইঙ্গিত রয়েছে তাতে। সারা হৃদয় ও শরীর দিয়ে তাকে ভালোবাসার কথা বলেছেন। তার শরীরের যত্ন নেয়ার অনুরোধ করেছেন।

বলেছেন, অধিক অ্যালকোহল পান করলে তার জীবন ধ্বংস হয়ে যাবে। কিন্তু তার এমন প্রেম নিবেদনে ক্ষুব্ধ হন আনাবেলে ফুলার। তিনি বলেন, তার এ চিঠি পেয়ে আমার ক্ষোভ বাড়তে থাকে। তিনি বলেছেন, আমাকে ভালোবাসেন। আর আমি চাইছিলাম আমাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাক সব। আমি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইছিলাম। প্রথমবারের মতো তিনি তার মনের কথা আমাকে জানালেন। কিন্তু ততক্ষণে অনেকটাই দেরি হয়ে গেছে। তাই সম্পর্ক আমার দিক থেকেই শেষ করে দিতে চাই। জানি, তাতে তিনি ভীষণ কষ্ট পাবেন। আমি তবুও চাই না তিনি আমার জীবনের সঙ্গে লেগে থাকুন। 

এক পর্যায়ে নতুন একটি সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন আনাবেলে ফুলার। তা সত্ত্বেও তিনি ২০০৭ সালের ডিসেম্বর নাগাদ আবার ফিরে যান ফারাজের কাছে। আবার শুরু হয় তাদের যৌন সম্পর্ক। ২০০৮ সালের শরতে বৃটেনে চলে আসেন আনাবেলে ফুলার। এখানে সেনাবাহিনীর একটি দাতব্য সংস্থায় কাজ শুরু করেন। তার আগে তিনি ইউকিপ দল থেকে পদত্যাগ করেন। তার পূর্ব পর্যন্ত তাদের যৌন সম্পর্ক অব্যাহত থাকে। নতুন করে ফারাজের কাছে ফিরে আসা নিয়ে আনাবেলে ফুলার বলেন, আমি আশা করেছিলাম নতুন করে সব শুরু করবো। তার সঙ্গে আমি সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারবো না। তিনিই ছিলেন একজন মানুষ যার ওপর আমি নির্ভর করতে পারতাম। 

এ অবস্থায় তিনি রাজনীতিকে খুব মিস করতে থাকেন। ২০১০ সালে তিনি ফারাজের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। জানতে চান, তিনি কি আবার রাজনীতিতে ফিরতে পারেন কিনা। তার জন্য কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেন। এক্ষেত্রে তার অতীত অভিজ্ঞতা তাকে সাহায্য করবে বলে মনে করেন আনাবেলে ফুলার। ওই সময়েই চলে আসে বড়দিন।

এ উপলক্ষে ‘হ্যারডস’ থেকে তার জন্য রক্তিম লাভ একটি ভিভিয়েনে ওয়েস্টউড কোট কিনে আনেন নাইজেল ফারাজে। কিন্তু আরো জটিলতা দেখা দেয়। নিজের চেয়ে ১৬ বছর বয়সী ফরাসি এক যুবতী লরা ফেরারির সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় নাইজেল ফারাজের। (এ সম্পর্কের কথা অনেকদিন ধরেই অস্বীকার করে আসছেন ফারাজে। তবে সম্প্রতি তার সহকারীরা নিশ্চিত করেছেন)। আনাবেলে ফুলার বলেছেন, তিনি ও ফারাজে ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে তাদের প্রেমের সম্পর্ক কড়াকড়িভাবে পেশাদারিত্বের মাধ্যমে গোপন রাখেন। ২০১৩ সাল থেকে সেই সম্পর্ক আবার পুরোদমে শুরু হয়। 

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

নাইজেল ফারাজ

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0213 seconds.