• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১৪ নভেম্বর ২০১৭ ১৮:৪৫:১২
  • ১৪ নভেম্বর ২০১৭ ১৮:৪৭:০৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
advertisement

জামাটা কী দোষ করেছে?

ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি গণপরিবহনে কিংবা পাবলিক প্লেসে একটি বিচিত্র বিষয় ঘুরে বেড়াচ্ছে, আর তা হলো কে বা কারা যেন ব্লেড দিয়ে মেয়েদের জামা কেটে দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও শত শত মন্তব্য পাওয়া যাচ্ছে ভুক্তভোগী অনেক নারীর। গত ৬ নভেম্বর রাতে রাজধানীর মিরপুর এক নম্বর থেকে এমন একজন ব্যক্তিকে হাতে নাতে ধরেন এক তরুণী। এরপর লোকটিকে মিরপুর থেকে কলাবাগানে নিইয়ে গিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।

কিন্তু ঘটনা যেন এখানেই থেমে নেই। বিকৃত রুচি ও অসুস্থ মানসিকতার এসব সামাজিক কীটদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ আরও একজন নীলিমা কাদের। ‍তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। ধামরাই থেকে গুলিস্থান চলাচলকারী একটি পরিবহনের বাস থেকে সাভারের ফুট ওভারব্রিজের নিচে নামেন। সঙ্গে ছিলেন তার মা নিলুফা কাদের। কিছুক্ষণ পরেই মা নিলুফা দেখেন তার মেয়ের জামা পেছন থেকে কাটা!

প্রথমে নীলিমা ভাবলেন কোনকিছুতে বেঁধে ছিঁড়ে গেছে তার জামা। পরে ভালোমতো লক্ষ্য করে দেখেন জামাটি ব্লেড বা ধারালো কিছু দিয়ে কাটা হয়েছে নিপুণভাবে। হঠাৎ নীলিমার মনে পড়ে গেলো কালো পাঞ্জাবি পরিহিত এক লোক তার কাছ ঘেঁষে হাঁটছিলেন। বেশ কয়েকবার পেছনে ফিরে লোকটিকে দেখবার চেষ্টা করেছিলেন নীলিমা। মধ্যবয়সী একজন এক লোককে দেখেছিলেন তিনি।

নিলীমা কাদেরের বাবা অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা। গত মাসের মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পেয়ে অনেক শখ করে সদ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া মেয়েকে জামাটি কিনে দিয়েছিলেন। বাবার দেওয়া শখের জামাটি কেটে ফেলায় খুব কষ্ট পায় নীলিমা। বাসায় ফিরে কিছুটা কান্নাও করেন তিনি।

মন-মেজাজ খারাপ করে ভেবেছেন শুধু একটাই ভাবনা- আমার জামা কেন কাটলো! জামাটা কী দোষ করেছে? এ ধরনের কাজের উদ্দেশ্যই বা কী হতে পারে? কোনো উত্তর খুঁজে পায়নি নীলিমা।

বিকৃত রুচি ও অসুস্থ মানসিকতার এসব ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে শিগগিরই আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। এদের প্রতিরোধে সবাই সচেতন না হলে হয়তো এ অসুখ সংক্রামক হয়ে উঠবে আরও। যা কোনোভাবেই সভ্য সমাজে কাম্য নয়।

advertisement

আপনার মন্তব্য

advertisement
Page rendered in: 0.1724 seconds.