• ফিচার ডেস্ক
  • ০৯ নভেম্বর ২০১৭ ১২:৩৯:৪২
  • ০৯ নভেম্বর ২০১৭ ১২:৩৯:৪২
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
advertisement

চাকরিতে যোগ দিতে এসে দেখেন...

প্রতীকী ছবি

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখায় খুব হট্টগোল। সবার মুখে একই কথা এটা কীভাবে সম্ভব! মন্ত্রণালয়ের ওই কক্ষে উঁকি মারতেই দেখা যায় দরজা-ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছেন নিরীহ এক তরুণ, হাতে কিছু কাগজপত্র, যাঁর চোখ দুটোতে হতাশা আর কান্না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেল, ওই তরুণ নিয়োগপত্র নিয়ে মন্ত্রণালয়ের অফিস পিয়ন পদে যোগ দিতে এসেছেন, কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন ওই নিয়োগপত্র ভুয়া। তরুণের নাম আরাফাত রহমান। বাড়ি জয়পুরহাট। তিনি স্থানীয় একটি কলেজে ডিগ্রিতে পড়ছেন।

নিয়োগপত্রে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হাবিব মো. হালিমুজ্জামানের স্বাক্ষর। ওই শাখার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, হালিমুজ্জামান গত জানুয়ারিতে অন্য শাখার দায়িত্ব নেন। সন্দেহ হলে দেখা যায় ওটা হালিমুজ্জামানের স্ক্যান করা স্বাক্ষর।

আরাফাত তাঁর ঢাকার এক আত্মীয়ের কাছে চাকরির জন্য গেলে তিনি আহাদ চৌধুরী ও মোক্তার নামে দুই ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। পরে তাঁকে সচিবালয়ের সামনে এসে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। দেখা করলে ওই ব্যক্তিরা বলেন তাঁরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিস পিয়ন পদে চাকরি দিতে পারবেন। এ জন্য ২ লাখ টাকা দিতে হবে।

আরাফাত বাবার শেষ সম্বল গ্রামের জমিজমা বন্ধক রেখে ২ লাখ টাকা এনে দেন। এই চাকরির জন্য গত এক মাসে জয়পুরহাট থেকে একাধিকবার ঢাকায় আসা-যাওয়া করেন। সব মিলিয়ে তাঁর ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে।

টাকা দেওয়ার পর গত মাসে আহাদ চৌধুরী নামে ওই ব্যক্তি ই-মেইলে আরাফাতকে এই নিয়োগপত্র পাঠান যেখানে তাঁকে ১ নভেম্বর প্রশাসন শাখার উপসচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। ওই দিন তাঁরা মন্ত্রণালয়ের সামনে আরাফাতের জন্য অপেক্ষা করবেন বলে জানান। কিন্তু আরাফাত এসে কাউকে না পেয়ে খুব হতাশ হয়ে পড়েন। তাঁদের টেলিফোনও বন্ধ পান। পরে বিকেলে নিরাপত্তাকর্মীদের অনুরোধ করে মন্ত্রণালয়ে ঢুকে জানতে পারেন নিয়োগপত্র ভুয়া।

 ৩ নভেম্বর আরাফাত বলেন, ‘আমি গ্রামে ফিরে আসার পর আহাদ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরেছি। তিনি (আহাদ চৌধুরী) বলেছেন আগামী শুক্রবারের মধ্য টাকা ফেরত পাবেন।’ টাকা ফেরত পাওয়ার আগে আরাফাত এই প্রতিবেদককে প্রতারকদের পরিচয় বা মুঠোফোন নম্বর দিতে অস্বীকৃতি জানান। আরাফাতের ধারণা, এসব জানতে পারলে প্রতারক চক্র তাঁর টাকা ফেরত দেবে না।

মো. হালিমুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঘটনা খুব গুরুতর। আগেও এ ধরনের কিছু ঘটনা ঘটেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়ে আমরা ঘটনাটি তদন্ত করার উদ্যোগ নিয়েছি।’ 

advertisement

আপনার মন্তব্য

advertisement
Page rendered in: 1.3720 seconds.