• বিদেশ ডেস্ক
  • ২৬ অক্টোবর ২০১৭ ১৬:৩৫:৩৩
  • ২৬ অক্টোবর ২০১৭ ১৬:৩৫:৩৩
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

মৃত্যুর এক বছর পর চিতায় থাই রাজা

রাজা ভূমিবল আদুলিয়াজের শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান। ছবি: সংগৃহীত

মৃত্যুর এক বছর পর থাইল্যান্ডের রাজা ভূমিবল আদুলিয়াজের রাজকীয় শেষকৃত্যের প্রধান অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। গত বছরের অক্টোবরে ৮৮ বছর বয়সে মারা যান ৭০ বছর ধরে দেশ শাসন এ রাজা। পাঁচ দিন ব্যাপী এ শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের মূল আয়োজন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাজধানী ব্যাংককে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেয়।

শেষকৃত্য উপলক্ষ্যে গ্র্যান্ড প্যালেসে ভূমিবলের দেহ নিয়ে যাওয়া হবে। মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন সেখানেই হবে। গত এক বছর ধরে তৈরি করা হয়েছে মরদেহ দাহ করার চিতা।

এতে নানা কারুকার্য, থাইল্যান্ডের পৌরাণিক কাহিনীর নানা চরিত্রের মূর্তি এবং নানা প্রাণীর প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়েছে।

বিশাল এ চিতাটি বানানোর কাজে নিয়োজিত ছিলেন বহু স্থপতি, প্রকৌশলী, কারুশিল্পী। বহু সাধারণ নাগরিকও তাতে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে শ্রম দিয়েছেন।

এখানে অংশ নেওয়া এক স্বেচ্ছাসেবী বলেন, ‘গত এক বছর ধরে আমি এখানে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছি। এই পুরো সময় জুড়ে হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবী যেভাবে এর অংশ হওয়ার জন্য এসেছেন, কাজ করেছেন, তা চিন্তা করলে এখনো আমার অদ্ভুত ভালো লাগার অনুভূতি হয়।’

পুরো থাইল্যান্ড জুড়ে গুরুত্বপূর্ণ সব স্থাপনা, পর্যটন কেন্দ্র বা রাস্তার ধারে এখনো শোভা পাচ্ছে রাজা ভূমিবলের বিশাল বিশাল সব পোর্টেট।

তাকে দাহ করার চিতাটি তৈরির কাজে যুক্ত ছিলেন ল্যান্ডস্কেপ আর্কিটেক্ট পর্নথুম থুমভিবল। 

তিনি বলেন, ‘এই প্রকল্পটি আমাদের রাজার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি প্রচেষ্টা। সেটি অবশ্যই তার মতোই রাজকীয় হতে হবে। সেটিই ছিল আমাদের প্রয়াস। রাজকীয় এই চিতাটির আশপাশের জায়গাটুকু প্রতীকী অর্থে স্বর্গ। তার আশপাশে নানা মূর্তি বা কারুকার্য দিয়ে আমরা রাজার জীবদ্দশায় সম্পন্ন করা গুরুত্বপূর্ণ কাজকে বর্ণনা করেছি।’

প্রধান ভাস্কর্য শিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন প্রাসপসুক রাতমাই। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ভাস্কর্যের ক্ষেত্রে সবকিছু একদম নিখুঁত রাখার চেষ্টা করেছি। আমাদের প্রত্যেক ধাপে ধাপে, সব খুঁটিনাটি বিষয়ে গভীর মনোযোগ দিতে হয়। এখানে সকল প্রাণীর মূর্তিগুলো পবিত্র হিসেবে বিবেচিত। চিতার প্রথম ধাপে সেগুলো রয়েছে। পশ্চিম দিকে রয়েছে ঘোড়া, উত্তরদিকে হাতি, দক্ষিণে গরু। প্রতিটি অংশের পেছনে ধর্মীয় গল্প বা বিশ্বাস জড়িত।’

এই সৎকার অনুষ্ঠানের যেসব আচার, ধর্মীও গান ও নাচ থাকবে সেগুলোও বেশ কিছুদিন ধরে অনুশীলন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বিশ্বের নানা দেশের পর্যটকদের মধ্যেও এই শেষকৃত্যের বিশাল আয়োজন নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে রাজা ভূমিবলের সৎকার অনুষ্ঠানে কয়েক লাখ থাই জনতা ছাড়াও বিভিন্ন দেশের পর্যটকরা উপস্থিত থাকবেন। ভূমিবল তার দেশের জনগণের কাছে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। তার মৃত্যুতে পুরো দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে।

সূত্র :  সিএনএন, বিবিসি

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0178 seconds.