• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২৪ জুলাই ২০১৭ ১৮:৪২:৫৮
  • ২৪ জুলাই ২০১৭ ১৮:৪২:৫৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

রাস্তা নির্মাণে বিটুমিনের পরিবর্তে পোড়া মবিল

ছবি: সংগৃহীত

বিটুমিনের পরিবর্তে পোড়া মবিল দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করার পাঁচ দিনের মাথায় কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। কাজের মান নিয়ে এলাকাবাসী প্রশ্ন তুললে উল্টো তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদার আদিতমারী থানায় একটি চাঁদাবাজির অভিযোগ দায়ের করেন।

এদিকে নিম্নমানের কাজের অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিন খোঁজ নিতে আসেন লালমনিরহাট স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী। অভিযোগের সত্যতা পেলে স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ঠিকাদারকে এ কর্মকর্তার সামনে লাঞ্ছিত করেন। পরে এলাকাবাসীর ধাওয়ায় ঠিকাদার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে রক্ষা পান।

জানা গেছে, উপজেলার কমলাবাড়ি ইউনিয়নের বামনের বাসা-খালেক মোকতারের বাড়ি পর্যন্ত এক কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর লালমনিরহাট থেকে প্রায় ৫৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। আর এ কাজের তদারকির করবেন উপজেলা প্রকৌশলী অধিদপ্তর। কাজটি আলমগীর হোসেনের নামে কাগজে কলমে থাকলেও তার নামে কাজ করছেন স্থানীয় ঠিকাদার সহিদুল ইসলাম। ঠিকাদার উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আতাত করে বিটুমিনের পরিবর্তে পোড়া মবিল দিয়ে রাস্তার কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ করেন।

প্রথম থেকেই স্থানীয় লোকজন কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুললেও কোন কর্ণপাত করেননি ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের কেউও। কাজ সমাপ্তির মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় রাস্তার কার্পেটিং উঠে যাওয়ায় এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। এদিকে ঠিকাদার সহিদুল ইসলাম নিজেকে রক্ষা করতে স্থানীয় সাত জনের নাম উল্লেখ করে আদিতমারী থানায় তিন লাখ টাকা চাঁদিবাজির অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি এলাকাবাসী জানার পর এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেন।

এরই প্রেক্ষিতে গতকাল রোববার সরেজিমন রাস্তাটি পরিদর্শনে আসেন লালমনিরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম জাকিউর রহমান। এসময় এ কর্মকর্তার সামনেই এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সহিদুল ইসলামকে নি¤œমানের কাজের কারণে লাঞ্চিত করেন। পরে স্থানীয়দের তোপেড় মুখে নির্বাহী প্রকৌশলী।

একাধিক এলাকাবাসী নির্বাহী প্রকৌশলী ও স্থানীয় সংবাদকর্মীদের কাছে পেয়ে এসময় আক্ষেপে ফেটে পড়েন। বামনের বাসা মোড়ের বাবলু মিয়া বলেন, এমন নি¤œমানের কাজ আমার জীবনেও আমি দেখিনি। নিন্মমানের কাজের প্রতিবাদ করতে গিয়ে উল্টো চাঁদাবাজির মামলার স্বীকার হলাম। আপনারই তো (সাংবাদিকদের) নিজ চোখে দেখলেন, কাজের মান কতটা খারাপ।

সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদার সহিদুল ইসলাম এ বিষয়ে সংবাদকর্মীদের সাথে কোন কথা বলতে রাজি হননি।

এলজিইডি’র আদিতমারী উপজেলা প্রকৌশলী ফজলুল হক কাজের মান একটু নিন্ম হয়েছে স্বীকার করে বলেন, প্রতিদিন এত দৌড়ঝাপ করি তারপরও উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের মন পাইনা। কি আর করার ঠিক ঠাক করে দিবে ঠিকাদার।

লালমনিরহাট এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম জাকিউল রহমান বলেন, রাস্তায় বিটুমিনের পরিমাণ কম দেয়ায় এধরনের ঘটনা ঘটেছে। তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

উল্লেখ্য, ওই রাস্তাটিতে নি¤œ মানের খোয়া ব্যবহার করার অভিযোগে এলাকাবাসী গত বছর কাজের শুরুতেই রাস্তার কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। পরে ওই রাস্তা থেকে নিম্নমানের খোয়া ও রাবিস অপসারণ করতে বাধ্য হয়েছিলেন ঠিকাদার।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0199 seconds.