বাংলা ডেস্ক

অন্যকে জানাতে পারেন:

Guakola Secondary School
ছবি : সংগৃহীত

দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে গুয়াখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা। প্রতিদিন সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যায় প্রায় ১৫০ জন ছাত্রী। ছেলেদের মতোই সাইকেল চালিয়ে তারা স্কুলে যাতায়াত করে। এখন আর তাদের ভ্যানের জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। বাবা-মায়ের কাছ থেকে বাড়তি টাকাও নিতে হয় না। রাস্তার বখাটেরা আর আগের মতো তাদের উত্ত্যক্ত করার সুযোগ পায় না। প্রথমদিকে সাইকেল চালিয়ে যাওয়ার কারণে অনেকেই নানারকম মন্তব্য করেছে। কিন্তু এসবকে তোয়াক্কা করেনি তারা। 

নড়াইল সদর উপজেলার গুয়াখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে তারা। পড়াশোনা ভালো হওয়ায় বিদ্যালয়ের ফলাফলও ভালো। আগামীতে বাল্যবিয়ে, ইভটিজিং, নারী নির্যাতনসহ সমাজ থেকে সব ধরনের কুসংস্কার দূর করার প্রত্যায় নিয়ে ওরা এগিয়ে চলেছে।

জানা গেছে, নড়াইল শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে গুয়াখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় তিনশ'। বিদ্যালয়টি নড়াইল সদর ও যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত। দুটি উপজেলার মালিয়াট, বাকলি, হাতিয়াড়া, গুয়াখোলা, হাতিয়াড়া, বেনাহাটি, কমলাপুরসহ এগারোটি গ্রামের ছেলেমেয়েরা এই স্কুলে পড়াশোনা করে।

দুই জেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় এলাকাটি অনেকটা অবহেলিত। অধিকাংশ রাস্তাঘাট কাঁচা। ৫/৭ কিলোমিটার দূরের শিক্ষার্থীরা এ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। ৪/৫ বছর আগে ছেলেরা সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাতায়াত করলেও মেয়েরা ভ্যানে ও পায়ে হেঁটে স্কুলে আসা যাওয়া করত। দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে স্কুলের শিক্ষক ও অভিভাবকদের যৌথ প্রয়াসে মেয়েদের সাইকেল কিনে দেয়া হয়।

চার বছর আগে হাতেগোনা কয়েকজন ছাত্রী সাইকেল নিয়ে স্কুলে যাতায়াত শুরু করলেও।বর্তমানে প্রায় দেড়শ' ছাত্রী নিয়মিত সাইকেলে চালিয়ে যাতায়াত করে। বান্ধবীদেরও সাইকেলে করে স্কুলে নিয়ে যায় তারা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল বলেন, “গুয়াখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে। এ স্কুলের মেয়েরা ৫/৭ কিলোমিটার দূর থেকে স্কুলে আসা-যাওয়া করে। তাদের হেঁটে আসতে অনেক সময় লাগে। ক্লান্ত হয়ে পড়ে। যার কারণে ক্লাসে পাঠদানে মনোযোগী হতে পারে না। আমরা শিক্ষকরা ও অভিভাবকরা চিন্তু করে মেয়েদের সাইকেল চালনায় অনুপ্রেরণা দিয়েছি।”

তিনি বলেন, “তাদের বলেছি ছেলেরা যদি সাইকেল চালিয়ে আসতে পারে মেয়েরা কেন পারবে না। তখন অভিভাবকদের সম্মতিতে ছাত্রীদের সাইকের কিনে দেয় অভিভাবকরা। এখন ওরা নিয়মিত সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাতায়াত করে। আমরা ছেলে ও মেয়েদের আলাদাভাবে দেখি না। সাইকেল নিয়ে স্কুলে আসতে এখন সময় কম লাগছে, অর্থের সাশ্রয় হচ্ছে এবং নিয়মিত স্কুলে উপস্থিত হতে পারছে। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানও বেড়েছে।”

এ বছর বিদ্যালয়টি থেকে সব ছাত্রছাত্রীই বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষা দিয়ে শতভাগ পাস করেছে। তবে অবকাঠামো সমস্যার কারণে সাইকেল রাখার জায়গা অপ্রতুল বলে জানা গেছে। গুয়াখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মেয়েরা সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাতায়াত করার ঘটনা একটি অনন্য দৃষ্টান্ত বলে মনে করেন সবাই।

আপনার মন্তব্য