বিদেশ ডেস্ক

অন্যকে জানাতে পারেন:

tatto
ছবি: বিবিসি

সিজিহারু সায়রাই। তার শরীরে রয়েছে নানা ধরনের মনকাড়া সব ট্যাটু। কিন্তু সেই ট্যাটুই তার জন্য কাল হলো। দীর্ঘ ১৫ বছর গোপন রেখেও আর ঢেকে রাখতে পারলেন না তিনি। কীভাবে যেনো ফেসবুকে তার সেই ট্যাটুর একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে। একসময় তা ভাইরালও হয়। ফলে মুহূর্তেই তার জীবনে নেমে আসে অন্ধকার জেলের ছায়া! 

ভাবছেন ট্যাটুর জন্য জেল? আসলে ঘটনা ট্যাটু না, তিনি একজন খুনের মামলার আসামী। শুধু তাই নয়, তিনি জাপানের সন্ত্রসী গোষ্ঠী ইয়াকুজার প্রধানও। যাকে ফেসবুকে দেখে চিহিৃত করেছে জাপানের পুলিশ। যিনি শাস্তি থেকে বাঁচতে আজ থেকে ১৩ বছর আগে জাপান থেকে থাইল্যান্ডে পালিয়ে এসেছিলেন। খবর বিবিসি।

বিসিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭৪ বছর বয়সী ইয়াকুজার নেতা সিজিহাকে চেনেন না এমন একজন থাইল্যান্ডের নাগরিক তার ট্যাটুর সৌন্দর্যে বিমোহিত হন। পরে তিনি সেই ট্যাটুর একটি ছবি তুলে ফেসবুকে ছেড়ে দেন। ছবিতে দেখা যায় তার শরীরে নানা শৈল্পিকভাবে ট্যাটু আঁকা। তিনি রাস্তার পাশে বোর্ড গেম খেলছেন।

ছবিতে আরও দেখা যায়, তার একটি হাতের ছোট একটা আঙুল নেই। যেটা তিনি ইয়াকুজার সদস্যদের সঙ্গেই এক সংঘর্ষে হারিয়ে ফেলেন। ফলে মুহূর্তের মধ্যেই ছবিটি ভাইরাল হওয়ার পর জাপানি পুলিশের নজরে আসে। তারা চিনতে পারেন এটাই সেই সন্ত্রাসী নেতা যাকে তারা ১৫ বছর ধরে খুঁজছেন। এরপর তারা থাইল্যান্ড কর্তৃপক্ষের সাথে তাকে গ্রেফতার করার জন্য যোগাযোগ করেন।

থাইল্যান্ডের পুলিশ তাকে ভিসা না থাকার অভিযোগে ব্যাংককের লোপবুরি শহর থেকে আটক করে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে দেশে হত্যার অভিযোগ থাকায় জাপানের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। থাইল্যান্ডের পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তি ইয়াকুজারের সদস্য হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি যে ২০০৩ সালে এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছেন সেটা অস্বীকার করেছেন। ২০০৫ সালে তিনি জাপান থেকে থাইল্যান্ডে পালিয়ে আসেন।

অপরাধ জগতের মাফিয়া দল ইয়াকুজা গ্যাং কয়েক শতাব্দী থেকে জাপানি সমাজে আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। দলটিতে আনুমানিক ৬০ হাজার সদস্য রয়েছে বলে ধারণা করা হয়! যদিও দলটি নিজেদেরকে অবৈধ মনে করে না।

জাপানি পুলিশ এবং গণমাধ্যম তাদেরকে বোরিওকুডাং বলে ডাকে। যার অর্থ ‘অরাজগতার দল’। অন্যদিকে ইয়াকুজারা নিজেদেরকে নিনকিইও দান্তাই নামে পরিচয় দেয়; যার অর্থ ‘সৌজন্যময় বা শালীন সংগঠন’। অবৈধভাবে জুয়া, পতিতাবৃত্তি ও মাদক কেনা বেচার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

বাংলা/আরএইচ

আপনার মন্তব্য

advertisement

advertisement