ফিচার ডেস্ক

অন্যকে জানাতে পারেন:

colour toilet paper
টয়লেট টিস্যু। ছবি: সংগৃহীত

পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দিকে খেয়াল রাখতে গেলে টিস্যু আমাদের কাছে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি জিনিস। এই টিস্যু ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে পারি। যেহেতু টিস্যু আমাদের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার সাথে জড়িত, তাই অনেকে ভাবতে পারেন এটি স্বাস্থ্য উপকারি একটা জিনিস। আসলে সব ধরণের টিস্যু স্বাস্থ্য উপকারি নয়। বাজারে বিভিন্ন ধরনের বিভিন্ন কালারের টিস্যু পাওয়া যায়। 

স্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, এসব রঙিন-সুগন্ধি ও খসখসে টয়লেট টিস্যু ব্যবহারে চুলকানিসহ নানা রোগ হতে পারে। এর ফলে হতে পারে ক্যান্সারও। অতএব আপনার শরীরে যে রোগ তৈরি হচ্ছে তার কারণ রঙিন-সুগন্ধি ও খসখসে টয়লেট টিস্যুও হতে পারে। 

ইয়াহু হেলথ ডট কমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গবেষকরা টয়লেট টিস্যুকে নারীর শরীরে স্পর্শকাতর ত্বকের নানা সমস্যার একটি বড় কারণ মনে করছেন। শুধু তাই নয়, রঙিন-সুগন্ধি ও খসখসে টয়লেট টিস্যু ব্যবহারে ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। এর ফলে বিভিন্ন ধরনের অস্বস্তিকর সমস্যাও তৈরি হতে পারে।

শুধু নারী নয়, পুরুষদেরও টয়লেট টিস্যু ব্যবহারে সচেতন হওয়া দরকার। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সচেতনতায় সাদা টয়লেট টিস্যু ব্যবহার করা ভালো। গবেষকরা বলেন, সমস্যা এড়াতে টয়লেট টিস্যু কেনার সময় এটির মসৃণতা, রং, গন্ধ এসব বিষয় দেখে কিনুন। সাধারণত দুই অথবা তিন স্তর (প্লাই) টয়লেট পেপার সব সময় মসৃণ হয়। এক স্তরবিশিষ্ট টয়লেট পেপার অতটা মসৃণ হয় না। এজন্য নানা স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়।
রঙিন ‘টয়লেট টিস্যু’র ক্ষতিকারক দিক –

মূত্রাশয়ে সংক্রমণ
রঙিন, সুগন্ধিযুক্ত টয়লেট টিস্যু ব্যবহারের ফলে নারী-পুরুষ উভয়েরই মূত্রাশয়ে সংক্রমণের সম্ভাবনা তৈরি হয়। বাথরুম ব্যবহার করার পর টয়লেট পেপার ব্যবহারের সময় আমাদের গোপনাঙ্গ উন্মুক্ত থাকে, ফলে এতে থাকা কেমিক্যাল খুব সহজেই মূত্রাশয়ে পৌঁছে যায়। এর ফলে মূত্রাশয়ে সংক্রমণের সম্ভাবনা তৈরি হয়।

ছত্রাক জাতীয় সংক্রমণ
নারীদের ক্ষেত্রে টয়লেট টিস্যুর কেমিকেল নারী অঙ্গসহ আশেপাশের স্থানে ছত্রাকের সৃষ্টি করতে পারে। যা থেকে চুলকানি, দুর্গন্ধযুক্ত ডিসচার্জ এবং তলপেটে খিঁচুনির সমস্যার দেখা দিতে পারে।

মলাশয়ে সংক্রমণ
মলত্যাগের পর অনেকেই পানি ব্যবহারের পূর্বে টিস্যু ব্যবহার করেন। ফলে ভালোভাবে পরিষ্কারের জন্য উল্লিখিত স্থানে টয়লেট টিস্যুর ঘর্ষণ বেশি হয়। ঘর্ষণের কারণে মলদ্বার ছুলে যায়, যা পরবর্তীতে ইনফেকশনের জন্ম দিতে পারে।

সারভিক্যাল ক্যান্সার
একাধিক গবেষণায় প্রমাণ হয়েছে, জনপ্রিয়তার জন্য টয়লেট্রিজ কোম্পানিগুলো টয়লেট টিস্যুতে যেসব রঙ ও সুগন্ধির ব্যবহার করছে তা স্পর্শকাতর স্থানে নানা জটিলতা সৃষ্টি করে সারভিক্যাল ক্যান্সারের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়।

তাই বলে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় শুধু সাদা রঙের টিস্যু পেপার কিনলেই চলবে না, তা হতে হবে ক্লোরিনমুক্ত। অনেক কোম্পানি সাদা টয়লেট টিস্যুতে ক্লোরিন ব্যবহার করে, যা শরীরে ক্ষতিকর টক্সিনের জন্ম দেয়। তাই টয়লেট টিস্যু কেনার আগে অবশ্যই প্যাকেটের গায়ে লেখা ব্যবহৃত উপাদান খেয়াল করুন। একইসঙ্গে স্পর্শকাতর অঙ্গের যে কোন অস্বস্তিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

আপনার মন্তব্য

Daraz Bangla New Year
advertisement

advertisement
advertisement