অন্যকে জানাতে পারেন:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে সম্মান প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় চারুকলা অনুষদে ‘সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক’ প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার দায়ে দুই শিক্ষকের ওপর পরীক্ষা সংক্রান্ত সব কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট থাকার বিষয়ে ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওই শিক্ষকরা ক্লাসে পড়াতে পারলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ধরনের পরীক্ষা কার্যক্রমে জড়িত থাকতে পারবেন না।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭৪তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বাংলা ডট রিপোর্টকে জানান সিন্ডিকেট সদস্য মো. মামুন আ. কাইয়্যুম।

অব্যাহতিপ্রাপ্ত শিক্ষকরা হলেন, চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এবং চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. জিল্লুর রহমান।

সিন্ডিকেট সদস্য মামুন আ. কাইয়্যুম বলেন, আইনগত কোনো বাধা না থাকলে ডিনের পদ থেকে অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। সভায় শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান ও জিল্লুর রহমানের ওপর ১০ বছরের জন্য পরীক্ষা সংক্রান্ত সকল কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষক জিল্লুর রহমানের ‘সহযোগী অধ্যাপক’ পদে পদন্নোতি হওয়ার সময় থেকে আরো ৫ বছর পর তিনি সেই পদমর্যাদা পাবেন বলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

গত ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত চারুকলা অনুষদের ‘আই’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার দুই নম্বর সেটের ৭৬ নম্বর প্রশ্নটি ছিল- ‘বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ কোনটি? উত্তরের জন্য দেওয়া চারটি অপশন ছিল- (ক) পবিত্র কুরআন শরীফ (খ) পবিত্র বাইবেল (গ) পবিত্র ইঞ্জিল (ঘ) গীতা। গীতার আগে ‘পবিত্র’ ছিল না। একই সেটের ৪১ নম্বর প্রশ্নটি ছিল- ‘মুসলমান রোহিঙ্গাদের উপর মায়েনমারের সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা সশস্ত্র হামলা চালায় কত তারিখে?

পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর থেকে প্রশ্ন দুটিকে ‘সাম্প্রদায়িক উসকানি’ উল্লেখ করে গণমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। তবে এ ধরনের প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেছিলেন অনুষদের ডিন মোস্তাফিজুর রহমান।

এ ঘটনায় গত ২৮ অক্টোবর উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহাকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইন্সটিটিউটের (আইবিএ) শিক্ষক অধ্যাপক হাছানাত আলীকে মারধরের ঘটনায় শিক্ষার্থী নাহিদ হায়দারকে স্থায়ী বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর ব্যবসায় প্রশাসন ইন্সটিটিউটে (আইবিএ) ইন্টার্নশিপ পেপারে স্বাক্ষর করাকে কেন্দ্র করে অধ্যাপক ড. হাছানাত আলীকে মারধর করে তারই অধীনে ইন্টার্ন করা এমবিএ ৯ম ব্যাচের (স্যান্ধ্যকালীন) এ শিক্ষার্থী।

ঘটনার পর পরই তাকে আটক করে পুলিশ। ওই দিন রাতেই শিক্ষক হাছানাত মতিহার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনা তদন্তে ইন্সটিটিউট অধ্যাপক মহসিন-উল-ইসলামকে প্রধান করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

শিক্ষক হাছানাত আলীও যাতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আরেকটু মানবিক হন, সে বিষয়ে সতর্ক করে তাকে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে  বলেও জানান সিন্ডিকেট সদস্য মামুন আ. কাইয়্যুম। 

আপনার মন্তব্য

advertisement