রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বাংলা বিভাগের অপহৃত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার নিয়ে দুই রকমের বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের মাঝে ‘ধোঁয়াশা’র সৃষ্টি করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও বিষয়টি অস্বীকার করেছেন প্রক্টর ও শোভার পরিবার।

এদিকে দ্বিতীয় দিনের মত উপাচার্যের বাসভবন ঘিরে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা।

উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, ‘অপহৃত শোভা ও সোহেল রানাকে ঢাকার মোহাম্মদপুরে পাওয়া গেছে। তাদেরকে রাজশাহী নিয়ে আসা হচ্ছে।’

তবে কার মাধ্যমে এ তথ্য পাওয়া গেছে জিজ্ঞেস করলে তিনি কিছু বলেননি। 

উদ্ধারের বিষয়টি অস্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘তাদের দুপুর পর্যন্ত উদ্ধার করা যায়নি, তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদেরকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে।’ 

অপহৃত শোভাকে উদ্ধারের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান শোভার মা।

এদিকে দুপুরের মধ্যে অপহৃত শিক্ষার্থীর সন্ধান না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। 

এর আগে পূর্ব ঘোষিত শনিবার সকাল ১০টায় আন্দোলনের কথা থাকলেও তাপসী রাবেয়া হল থেকে বের হতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠে হল প্রশাসনের বিরুদ্ধে। পরে বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধনে প্রেস-ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ও পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ সাত দফা দাবি করেন শিক্ষার্থীরা। এ দাবি নিয়ে শিক্ষার্থীদের ১২ জনের একটি প্রতিনিধিদল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। 

শিক্ষার্থীদের ‘অধিকার সংরক্ষণ দাবিনামার’ মধ্যে অন্য দাবিগুলো হলো- ক্যাম্পাসে সকল শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, ছাত্রী হলের সামনে পুলিশ চেকপোস্ট, প্রত্যেক হলের গেটে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত গেটে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, সান্ধ্য আইন বাতিল করা, সকল হলে অভিভাবক প্রবেশের অনুমতি এবং প্রত্যেক বিভাগকে তাদের প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধা-অসুবিধাগুলো বিবেচনা করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তাপসী রাবেয়া হলের আবাসিক কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, সকালে আমরা আন্দোলনে যেতে চাইলে আমাদের হল থেকে বের হতে দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় গ্রন্থগারের সামনে আমাদের আন্দোলন করার কথা থাকলেও আমারা বের হতে পারি নাই। 

পরে জোর দাবির মুখে বাধ্য হয়েই বিশ্ববিদ্যালয় ও হল কতৃপক্ষ এবং প্রক্টরিয়াল বডি আমাদের বের হতে দেয় বলে জানান তিনি। 

উদ্ধারের বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘শোভাকে উদ্ধার নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পরিবার আমাদের দ্বিমুখী বক্তব্য দিচ্ছে। আমরা ধারণা করছি, আমাদের আন্দোলনকে দামাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।’

এর আগে শিক্ষার্থীদের বের হতে বাধা দেওয়ায় বিক্ষোভ শুরু করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ছাত্রীদের মিছিলের সঙ্গে তারা গ্রন্থাগারের সামনে মানববন্ধনে যোগ দেয়। 

মতিহার থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, ‘ওই ছাত্রীর সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি। সন্ধানে একটি টিম কাজ করছে। ওই টিম এখনও ফিরে আসেনি। উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’

এর আগে শুক্রবার সকালে পরীক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাপসী রাবেয়া হল থেকে বের হন শোভা। হল থেকে বের হওয়ার পর তার সাবেক স্বামী সোহেল রানাসহ কয়েকজন তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করে। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তারা জোর করে ওই ছাত্রীকে সাদা একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে দ্রুত চলে যায়। 

সহপাঠীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত বছরের ডিসেম্বরে সোহেল রানার সাথে তার পারিবকভাবে বিয়ে হয়। দুই মাস আগে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।

ওই দিন সন্ধ্যায় নগরীর মতিহার থানায় ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলায় ওই ছাত্রীর সাবেক স্বামী সোহেল রানাসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়। পরে রাতে সোহেলের বাবা জয়নার আবেদীনকে পত্নীতলা থেকে আটক করা হয়।

আপনার মন্তব্য

advertisement