ছবি: বাংলা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ভর্তি পরীক্ষার ভাইভা বোর্ডে হাতের লেখা না মেলায় এক ভর্তিচ্ছুকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ওই শিক্ষার্থী জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের (বি ইউনিট) স্বাক্ষাৎকার দিতে আসলে তাকে আটক করা হয় বলে জানান ওই অনুষদের ডিন আবু নাসের মো. ওয়াহিদ। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টা থেকে রাবির ডীনস কমপ্লেক্সে আইন অনুষদের স্বাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। 

আটককৃত ভর্তিচ্ছুর নাম খলিলুর রহমান। তিনি যশোর সদর থানার তোফায়েল আহমদের ছেলে। তার ভর্তি পরীক্ষার রোল : বি১- ২০০৩২। পরীক্ষার ফলাফলে তিনি ৬১ নম্বর পেয়ে ১৬তম হয়েছিলেন।

ডিন আবু নাসের মো. ওয়াহিদ বলেন, ‘ওই ভর্তিচ্ছুর হাতের লেখা না মেলায় আমাদের ভাইভা বোর্ডের শিক্ষকদের সন্দেহ হয়। তাছাড়া তার চেহারাটাও ভাইভা বোর্ডের শিক্ষকদের সন্দেহ হয়। পরে তাকে প্রক্টরের কাছে তুলে দেওয়া হয়।’

শুধু হাতের লেখার সন্দেহে আটক করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের এমসিকিউ থাকে ৮০ নম্বরের আর লিখিত থাকে ২০ নম্বরের। ওই ২০ নম্বরের হাতের লেখার আশপাশ দিয়েও তার লেখা যাচ্ছে না। তাই ধারণা করা হচ্ছে সে হয়তো জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।’

গত ২৩ অক্টোবর দুটি শিফটে (বি-১ ও বি-২) এ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর অনুষদের ১৬০টি আসনের বিপরীতে ৩১ হাজার ৮৬৯ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। এ পরীক্ষায় পাশ করে মাত্র ২৬৭ জন ভর্তিচ্ছু। তবে আসন পূরণ হয়ে অপেক্ষা তালিকায় অনেক ভর্তিচ্ছু থাকবে বলে জানান ডিন আবু নাসের মো. ওয়াহিদ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান জানান, ‘ওই ভর্তিচ্ছুকে জিজ্ঞাসা করলে সে কোনো জবাব দেয়নি। সে চুপ থেকেছে। তাকে পুলিশে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবে।’

এ বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ‘হাতের লেখা না মেলায় এক শিক্ষার্থীকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের কাছে দিয়েছে। জালিয়াতি চক্রের অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আপনার মন্তব্য