ফাইল ছবি

বরিশালের ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি (প্রিজন) আজিজুল হকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে নারী কারারক্ষীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। সোমবার বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ওই নারী কারারক্ষী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এতে ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি প্রিজন ছাড়াও তার সহযোগী কারারক্ষী নিজাম ও শেখ ফরিদকে আসামি দেখানো হয়েছে।

ওই নারী কারারক্ষী ঢাকা থেকে বদলি হয়ে গত ১২ জানুয়ারি বরিশালে জেল সুপারের কাছে রিপোর্ট করেন। আজিজুল হক ১৫ জানুয়ারি তাকে ঝালকাঠি জেলা কারাগারে পদায়ন করেন। ১৯ ফেব্রুয়ারি নারী কারারক্ষীকে প্রেষণে বরিশাল কারাগারে এনে কারাভ্যন্তরে কোন দায়িত্ব না দিয়ে বন্দি সাক্ষাতের স্লিপ কাটার দায়িত্ব দেয়া হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি প্রিজন ও কারা সুপার আজিজুলের স্ত্রী ঢাকায় চাকরি করেন। এ কারনে আজিজুল বরিশালের বাসায় একা থাকেন। প্রায়ই আজিজুল তাকে অফিসে ডেকে নিয়ে বিভিন্ন অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন। এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে অন্যত্র বদলি ও চাকরি হারাবার ভয় দেখিয়ে সরাসরি কুপ্রস্তাব দেয় এবং যৌন নিপীড়ন করে। লোকলজ্জা ও ইজ্জতের ভয়ে বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করলেও আজিজুল আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। গত ১৮ অক্টোবর রাত ৯টায় অভিযুক্ত নিজাম ও শেখ ফরিদ বন্দী সাক্ষাতের স্লিপের হিসেব দেয়ার জন্য তাকে সুপারের বাসায় যেতে বলে। বাসায় যেতে রাজি না হলে নিজাম ও ফরিদ জোরাজুরি করেন। একপর্যায়ে ওই নারী কারারক্ষী অভিযুক্তদের সঙ্গে কারাগারের পাশে আজিজুল হকের বাসায় যান। নিজাম ও ফরিদ বাইরে পাহারায় থাকে। এ সময় আজিজুল হক তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। তার ডাক চিৎকারে অন্য কারারক্ষীরা ছুটে আসলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ হওয়ায় কেউ আজিজুল হকের বাসায় যেতে সাহস পায়নি। এসময় ওই নারী কারারক্ষী ধস্তাধস্তি করে খাট থেকে নিচে পড়ে বুকে আঘাত পান এবং দৌড়ে নিজের বাসায় চলে যান। ২০ অক্টোবর শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন।

অভিযোগকারীর আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ ইমন জানান, ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে কারা সুপার ওই নারী কারারক্ষীকে অন্যত্র বদলি ও চাকরি খেয়ে ফেলার হুমকি দেয়। একইসঙ্গে জেলার বদরুদ্দোজাকে ওই নারী কারারক্ষীর বাসভবন তালা দিয়ে রাখার নির্দেশ দেন। এ কারণে তিনি নিজ বাসায় যেতে পারছে না। অভিযোগ দাখিলের পর ট্রাইব্যুনাল শুনানির জন্য অপেক্ষমান রাখা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য