নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্যকে জানাতে পারেন:

পারভীন। ছবি: সংগৃহীত

তিনটি হাসপাতাল ঘুরে কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে পারভীন নামের এক নারীর রাস্তায় সন্তান প্রসব ও নবজাতক মারা যাওয়ার ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

এসময় আদালত দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের নজরে এসেছে। এটি আমাদের মতো একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সভ্যতার ওপর কালিমা লেপন। আমাদের স্বাস্থ্যসেবায় গরিব জনগোষ্ঠী অত্যন্ত নিগৃহীত। তাঁদের চিকিৎসার অবহেলার এই দৃষ্টান্ত, সম্মুখ ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের আরও সচেতন হওয়া আবশ্যক বলে মনে করেন আদালত।

ওই ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত গণমাধ্যমের প্রতিবেদন নজরে এলে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব কথা বলেন। আদালত ঘটনা তদন্ত করে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে রুলও দিয়েছেন। হাসপাতালে যাওয়ার পরও ওই নারীকে তাঁর প্রাপ্য চিকিৎসা সেবা প্রদানে ব্যর্থ হওয়ায় এবং দায়ী ও দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা কেন গ্রহণ করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা কেন হবে না, তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে।

৫ নভেম্বর পরবর্তী আদেশের দিন রেখে স্বাস্থ্য সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, সমাজকল্যাণ সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের পরিচালক, আজিমপুর মাতৃসদনের সুপারিন্টেন্ডেন্টকে এ রুলের জবাব দিতে বলেছেন।

গত মঙ্গলবার সব বেদনা নিয়ে তিনটি সরকারি হাসপাতাল ঘোরেন পারভিন নামের এক নারী। তিনটি জায়গার কোনোটিতে স্বাস্থ্যসেবা পাননি তিনি। পরে রাস্তার ওপরই তাঁর সন্তান প্রসব হয়। তবে জন্মের পরপরই শিশুসন্তানটি মারা যায়।

আপনার মন্তব্য