খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

বিএনপির চেয়ারপারসন ও বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, জিয়া এতিমখানা ট্রাস্টের একটি টাকাও তছরুপ বা অপচয় হয়নি। তিনি আরো বলেন, ট্রাস্টের কোন টাকা অপচয় করা হয়নি, তা ব্যাংকে গচ্ছিত রয়েছে। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা বানোয়াট ও মিথ্যা।  হয়রানি ও হেনস্তার জন্যই এ মামলা দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে দুর্নীতির অভিযোগ এনে দায়ের করা মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়া আরো বলেন, ট্রাস্টের কোন টাকা অপচয় করা হয়নি, তা ব্যাংকে গচ্ছিত রয়েছে। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা বানোয়াট ও মিথ্যা। হয়রানি ও হেনস্তার জন্যই এ মামলা দেয়া হয়েছে।

খালেদা জিয়া আরো বলেন, আমি নিজেকে খুবই সামান্য একজন মানুষ মনে করি। এই দেশ ও জাতির স্বার্থে আমি জীবনের সীমিত শক্তি, মেধা ও জ্ঞানকে উৎসর্গ করে দিয়েছি। এই মামলায় হয়রানির কারণে আমার ব্যক্তিগত জীবন ব্যহত হচ্ছে। এই মামলায় দুদক যে অভিযোগ এনেছে তাও স্ববিরোধিতায় পরিপূর্ণ। এটি দুদকের আইনের কর্তৃত্ব ও আওতার বাইরে।

তিনি বলেন, শাসকগোষ্ঠী বিভিন্নভাবে মামলার বিচারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। আদালতে উদাহরণ তুলে ধরে বেগম জিয়া বলেন, আমি একটি উদাহরণ উল্লেখ করতে চাই। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুদক একটি মামলা করে। ওই মামলায় একজন বিচারক তাকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন। পরবর্তীতে ওই বিচারকের বিরুদ্ধে বেশ কিছু তৎপরতা চালানো হয়। যার ফলে সেই বিচারক সপরিবারে দেশ ছেড়ে চলে যান।

মাননীয় বিচারক, আপনি এখন যে এজলাসে বসেছেন, এটা কোনো আদালতের প্রাঙ্গণ নয়। ফখরুদ্দীন-মঈনউদ্দীনের তত্ত্বাবধায়ক আমলে সংসদ ভবন এলাকায় বিশেষ আদালত বসানো হয়। সেখানে বিভিন্ন রাজনীতিবিদ, সাংসদদের বিরুদ্ধে করা মামলার বিচারের ব্যবস্থা করা হয়।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা ছিল। ক্ষমতায় আসার পর সেই মামলাগুলো একে একে প্রত্যাহার ও নিষ্পত্তি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, শাসক দলের মন্ত্রীরা বিচারাধীন মামলার বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দিয়ে বিচারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন।

উল্লেখ্য, এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা দায়ের করে দুদক। তদন্ত শেষে পরের বছর ৫ অগাস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। তার পাঁচ বছর পর ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ ঢাকার তৎকালীন তৃতীয় বিশেষ জজ বাসুদেব রায় অভিযোগ গঠন করে খালেদাসহ ছয় আসামির বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- মাগুরার সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমান, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

খালেদা জিয়া, সালিমুল হক কামাল ও শরফুদ্দিন আহমেদ এ মামলায় জামিনে আছেন। খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমান গত নয় বছর ধরে দেশের বাইরে, তার বিরুদ্ধে এ মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। এছাড়া কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান মামলার শুরু থেকেই পলাতক।

আপনার মন্তব্য