ফিচার ডেস্ক

অন্যকে জানাতে পারেন:

Hair Health
ছবি: সংগৃহীত

শুধু সুন্দর চুল চাইলেই হবে না, সে চুল স্বাস্থ্যকর হওয়া প্রয়োজন। তাই এ জন্য কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। এই সকল নিয়মগুলো কি সকলেই সঠিকভাবে জানেন? হয়তো না...

সঠিকভাবে নিয়ম মেনে পরিচর্যা করতে পারলে স্বাস্থ্যকর ও উজ্জ্বল চুল পাওয়া খুব কঠিন কোন ব্যাপার নয়। একইসাথে নিজেদের কিছু ভুল অভ্যাসের জন্যেও চুলের ক্ষতি হতে পারে অনেকখানি। তাই জেনে রাখা উচিৎ চুলের সঠিক যত্নের জন্য কি কি কাজ করণীয়...

কন্ডিশনার হিসেবে সাদা ভিনেগার : শ্যাম্পু করার পরে কন্ডিশনারের বদলে প্লেইন সাদা ভিনেগার পুরো চুলে দিন। কিছুক্ষণ রেখে দেওয়ার পর পানি দিয়ে ভালোভাবে চুল ধুয়ে ফেলুন। এতে করে চুলের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে।

ডিমের কুসুম : শুনতে একটু বিদঘুটে লাগলেও চুলের জন্যে এটি দারুণ উপকারি। বাজারের অন্য যেকোন দামী ব্র্যান্ডের শ্যাম্পুর চাইলে অনেকগুন ভালো কাজে দেবে ডিমের কুসুম। এতে চুল যেমন পুষ্টি পায় তেমন দেখতেও উজ্জ্বল হয়।

খুব বেশি শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিৎ নয় : অনেকেই প্রতিদিন শ্যাম্পু ব্যবহার করে চুল পরিষ্কার করার জন্য। অবশ্যই চুল ও মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখার জন্য শ্যাম্পু করা প্রয়োজন। তবে খুব বেশী শ্যাম্পু করলে চুলের গোঁড়ার প্রাকৃতিক তেল একেবারেই শুকিয়ে যায়। যা চুলকের গোঁড়াকে দূর্বল করে ফেলে।

ঘুমাতে যাবার পূর্বে ঢিলা করে বেণি করুন : রাতে ঘুমানোর আগে চুল ঢিলা করে বেণি করে এরপর ঘুমাতে হবে। এতে করে ঘুমানোর সময় চুল বালিশে ঘষা খেয়ে নষ্ট হয়ে যাবার সম্ভবনা থাকে। যে কারণে বেণি করে ঘুমালে চুল সুরক্ষিত থাকে এবং চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়। তবে বেণি খুব বেশি শক্ত করে করা উচিৎ নয়।

প্রাকৃতিকভাবে চুল শুকাতে দিন : কাজের ব্যস্ততার জন্য অনেকেই নিয়মিত ব্লো-ড্রাই করে থাকেন। তবে এই অভ্যাস চুলের জন্য ক্ষতিকর বলে ব্লো-ড্রাই করা কমিয়ে দেওয়া উচিৎ। প্রাকৃতিক বাতাস অতবা ফ্যানের বাতাসে চুল শুকিয়ে নিতে হবে।

স্ট্রেইটনার বা কার্লার জাতীয় পণ্য ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন : স্ট্রেইটনার কিংবা কার্লার ক্ষণকালের জন্য চুল সুন্দর করলেও এগুলো চুলের উপরে মারাত্মক বাজে প্রভাব ফেলে দেয়। অনেক বেশী তাপ দিয়ে এই সকল পণ্য চুল সোজা এবং কোঁকড়া করে বলে এই সকল পণ্য ব্যবহার ফলে চুলের আঁশ খুবই দুর্বল হয়ে যায়। তবে কোন অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহার করতে চাইলে হিট প্রোটেক্টেন্ট স্প্রে দিয়ে করে ব্যবহার করতে হবে।

ভেজা চুল কখনোই ব্রাশ করা যাবে না : গোসল করার পরে চুলের গোড়া খুব বেশী নমনীয় হয়ে যায়। যে কারণে ভেজা চুল ব্রাশ করতে গেলে চুল পড়ার হার বেশী থাকে। সেক্ষেত্রে গোছল করার পরে চুল খুব ভালোমতো মুছে শুকিয়ে নিয়ে মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে সাবধানতার সাথে চুল আঁচড়াতে হবে।

চুলের আগা ফাটা রোধে ট্রিমিং করতে হবে নিয়মিত : অনেকের চুলের আগা খুব দ্রুত ফেটে যাবার সমস্যা থাকে। চুলের আগা ফেটে গেলে পুরো চুলের জন্যের সেটা ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। সেক্ষেত্রে যাদের চুলের আগা ফাটার সমস্যা রয়েছে তাদের চুলের আগা প্রতি আট সপ্তাহ (দুই মাস) পরপর অবশ্যই কেটে ফেলতে হবে, অথবা ট্রিম করতে হবে।

বিভিন্ন ধরণের তেল নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে : চুলের গোড়া থেকে একদম আগা পর্যন্ত পুষ্টি জোগাতে এবং চুল স্বাস্থ্যকর রাখতে চুলে তেল দেওয়ার কোন বিকল্প নেই। তাই চুলের জন্য উপকারী সকল ধরণের তেল যেমন: নারিকেল তেল, আমন্ড ওয়েল, অলিভ ওয়েল, ক্যাস্টর ওয়েল ইত্যাদি নিয়মিত চুলে দিতে হবে। একই সাথে সপ্তাহে অন্তত একবার হট ওয়েল ম্যাসাজ করতে হবে। এতে মাথার ত্বকের রক্ত চলাচল নিয়মিত হয় এবং চুলের গোড়া শক্ত হয়।

স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে : শরীর যদি ভেতর থেকেই পুষ্টি না পায় তবে চুলের সকল যত্ন একেবারেই বৃথা যাবে। কারন, শরীর ভেতর থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি না পেলে চুলও তার দরকারি পুষ্টি পাবে না। যার ফলে চুল পড়ার মাত্রা বেড়ে যাবে এবং চুল হয়ে যাবে অনুজ্জ্বল। তাই চুলের যত্ন নেবার পাশাপাশি অবশ্যই স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

আপনার মন্তব্য

advertisement